অন্য পত্রিকা থেকে

সম্মিলিতভাবে আত্মহত্যার আয়োজন

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, অবিশ্বাসের সংস্কৃতি দুই দলের মধ্যে আলোচনার পবিরেশ বিঘ্নিত করছে। দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার পেছনে দুই দলকেই দায়ী করেছেন তিনি।

মানবজমিন অনলাইনকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের রাজনীতিতে অবিশ্বাসের সংস্কৃতি বিরাজ করছে। এটিই পর্বত সমান বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে একটি সমাধানের জন্য। এ কারণে উভয় পক্ষ পরস্পরকে ছাড় দিতে পারছে না। ১৯৭৮ সালে গায়ানাতে জেমস জন নামে এক ধর্মীয় নেতার উস্কানিতে সম্মিলিতভাবে ৯০০ জনের বেশি লোক আত্মহত্যা করেছিল।

এ তথ্য উল্লেখ করে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমরাও দুই নেত্রীর নেতৃত্বে একটা সম্মিলিত আত্মহত্যার দিকে ধাবিত হচ্ছি। এটি শুধু রাজনীতিকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে না। অর্থনীতিসহ সব ধরণের বিষয়কে খাদের কিনারে এনে দাড় করিয়েছে। তিনি বলেন, এই সংকটের জন্য জনগণ কোনভাবেই দায়ী নয় বরং সাধারণ মানুষ দুই দলের সহিংসতার শিকার।

চলমান রাজনৈতিক সংকটের মূল কারণ হিসেবে পঞ্চদশ সংশোধনীকে দায়ী করে তিনি বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী ইলিজিটিমেট (অনুচিত) এবং ইলিগ্যাল (বেআইনি) একটি ঘটনা। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটি একটি মিমাংসিত ইস্যু ছিল। এর জনপ্রিয়তাও ছিল ব্যাপক। বিরোধী দলের আন্দোলনের পেক্ষিতে সরকারী দল এটি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। বিএনপি এই ব্যাবস্থাকে নষ্ট করেছে আর আওয়ামী লীগ এসে এটাকে ধ্বংস করেছে।

তিনি বর্তমান সরকারের সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বিভিন্ন সভার সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে বলেন, আদালতের সংক্ষিপ্ত রায়ের পর পঞ্চদশ সংশোধনী আনা হয়েছে। কিন্তু সংসদীয় কমিটি আদালতের রায়ের পরও তত্ত্বাবধায়ক রাখার পক্ষে সুপারিশ করেছিল।

সংসদীয় কমিটির বিভিন্ন বৈঠকে আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমদ, আমির হোসেন আমু, শিরিন শারমিন চৌধুরী, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সবাই এই বিধান রাখার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তার একক ইচ্ছায় পুরো ব্যবস্থাটি বাতিল করা হয়েছে। এজন্য এটা অনুচিত ও বেআইনি মনে করি আমি।

সূত্র: মানবজমিন

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close