Featuredরাজনীতি

সর্বদলীয় সরকারে গঠনে রাজি নয় বিএনপি

শীর্ষবিন্দু নিউজ: আওয়ামী লীগ একতরফা নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে দাবি করে নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারে অংশ নেয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে প্রতিবেশী দেশ ভারত ষড়যন্ত্র করছে বলে ইঙ্গিত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে ৬০ ঘণ্টা হরতালের প্রথম দিন বিকালে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ওই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

হরতালের পুলিশি বেষ্টনির মধ্যে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ফখরুল। তার সঙ্গে ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করীম শাহিন, কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তকদীর হোসন জসিম, বেলাল আহমেদ প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রথম দিনের হরতালে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে পৌর ছাত্রদলের নেতা নাসির উদ্দিন এবং ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় যুবদল নেতা নাসিরউদ্দিন ভুঁইয়া পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

প্রথম দিনে সারাদেশে ৫ শতাধিক আহত, প্রায় দুই হাজার জন গ্রেপ্তার এবং ৮ হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। রাজধানীর বংশালে হরতাল চলাকালে পেশাগত দায়িত্বপালনকালে সাংবাদিকদের ওপর ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠন শ্রমিক লীগের হামলার নিন্দা জানান ফখরুল। তিনি বলেন, শ্রমিক লীগের সশস্ত্র আক্রমণে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এটিএন, এনটিভি, বাংলাভিশন, চ্যানেল আইয়ের সাংবাদিকরা মারাত্মক আহত হয়েছেন। আমরা ক্ষমতাসীনদের এই আক্রমণের নিন্দা জানাই।

দলের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সোমবার বলেছেন, স্পষ্টভাষায় বলে দিতে চাই, সর্বদলীয় কোনো সরকারে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে না। সরকারের একতরফা নির্বাচনেও আমরা যাব না। এর একদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারে বিএনপিকে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সে বিষয়ে সংলাপে আসতে তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। কোন মিনিস্ট্রি চান। আপনি আসেন, কোন কোন মন্ত্রণালয় চান- আলোচনা করে আমরা ঠিক করি বলেন তিনি।
দশম সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই ইঙ্গিত দিয়ে মহাজোটকে হটাতে আন্দোলনের ঘোষণা দেন তিনি। দেশকে অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দেয়ার জন্য সরকারকে দায়ী করে ফখরুল বলেন, আন্তর্জাতিক মাস্টারপ্ল্যানে তারা একতরফা নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। ‘মাস্টার প্ল্যান’ বলতে কী বোঝাচ্ছেন- জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, আজকে মানবজমিন পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, একটি দেশ নাকি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে এক হাজার কোটি রুপি ব্যয় করবে। এটি একটি রাজনৈতিক দলের জন্য করবে।

গত জাতীয় নির্বাচনেও ওই দেশটি ৮শ’ কোটি টাকা ব্যয় করেছিল বলে খবর বেরিয়েছিল। ইকোনমিস্টে এই খবর প্রকাশ পেয়েছিল। তাই আমরা এবারো ওই রকম আন্তর্জাতিক চক্রান্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে ভারতের নাম উল্লেখ না করলেও ভারতের মুদ্রা রুপির কথা বলেছেন বিএনপি নেতা ফখরুল। ইকনোমিস্টেও ভারতের কথা বলেছিল। প্রতিবেশী দেশটির সংবাদ মাধ্যমে ভারতবিরোধী দল হিসেবে পরিচিত বিএনপিকে গত কয়েক বছর নয়া দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

দেশকে অচলাবস্থারদিকে ঠেলে দেয়ার জন্য সরকারকে দায়ী করে তিনি বলেন, অহমিকা, গোয়ার্তুমি আর নিষ্ঠুরতায় সরকার হার্ডলাইন নিয়ে দেশকে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক মাস্টারপ্ল্যানে তারা একতরফা নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। আমরা মনে করি, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কার্যত একদলীয় বাকশালেরই নামান্তর। মাস্টার প্ল্যান’ বলতে কী বোঝাচ্ছেন- জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, “আজকে মানবজমিন পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, একটি দেশ নাকি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে এক হাজার কোটি রুপি ব্যয় করবে। এটি একটি রাজনৈতিক দলের জন্য করবে।

গত জাতীয় নির্বাচনেও ওই দেশটি ৮শ’ কোটি টাকা ব্যয় করেছিল বলে খবর বেরিয়েছিল। ইকোনমিস্টে এই খবর প্রকাশ পেয়েছিল। তাই আমরা এবারো ওই রকম আন্তর্জাতিক চক্রান্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। সংলাপে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, মুখে তারা সংলাপের কথা বলে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে। তারা দেশকে অশান্তি ও নৈরাজ্যের পথে নিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই, বলেন বিএনপি নেতা।

রোববার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএনের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের নিন্দাও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী সিএনএনের রিপোর্টের কথা বলেছেন। সেখানে নাকি বিডিআর হত্যার পেছনে বিএনপি নেতারা জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রী অসত্য বক্তব্য রেখেছেন। সিএনএন-আই রিপোর্টকে সিএনএনের দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা অসত্য। তার বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। বিরোধী দলকে হেয় করতেই তিনি এসব অসত্য কথা বলে যাচ্ছেন।

গত বছর ভারত সফরে গিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া সে দেশের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করে প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী কোনো গোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। ভারত বাংলাদেশের বিশেষ কোনো দলের সঙ্গে নয়, বরং জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সব দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায় বলে তখন বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়। এরপর ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ঢাকা সফরের সময় হরতালের মধ্যে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ কর্মসূচি বাতিল করেছিলে খালেদা জিয়া। এই ঘটনায় নয়া দিল্লিকে অসন্তুষ্ট করে বলে ভারতের সংবাদ মাধ্যমের খবর।

বিএনপি আগামী নির্বাচন নির্দলীয় সরকারের অধীনে চাইলেও সংবিধান সংশোধন করে অনির্বাচিতদের ক্ষমতায় আনতে নারাজ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব দিতে তাতে অংশ নিতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল বলেন, সর্বদলীয় কোনো সরকারে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে না। সরকারের একতরফা নির্বাচনেও আমরা যাব না।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close