Featuredরাজনীতি

বিরোধীদলীয় নেত্রী গৃহবন্দী নাকি নজরবন্দী

শীর্ষবিন্দু নিউজ: বিরোধীদলীয় নেতাকে নিরাপত্তাহীন করতে তাঁর বাসভবন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। রোববার বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের ডাকা ৮৪ ঘণ্টার হরতালের প্রথম দিনের পরিস্থিতি তুলে ধরেন রিজভী আহমেদ।

তিনি দাবি করেন, প্রথম দিনে সারা দেশে সাত শতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এক হাজার ৮০০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন, আট হাজারের বেশি নেতা-কর্মীর নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। রিজভী অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার বাসায় খাবার সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পানির লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ কাউকেই বাসায় ঢুকতে দিচ্ছে না। তাঁর আত্মীয়স্বজনকেও গেটে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর ফিরে চলে যেতে হয়।

দলটির অভিযোগ, এটি খালেদা জিয়াকে নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার জঘন্য অপচেষ্টা। খালেদা জিয়া গৃহবন্দী নাকি নজরবন্দি, তা-ও জানতে চান রিজভী। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বিক্রি শুরু করা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, একদলীয় নির্বাচনের যে চক্রান্তের কথা বিএনপি বলে আসছে, সেটাই আওয়ামী লীগ করতে যাচ্ছে। রোববার বিকেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব অভিযোগ করেন।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারেননি রিজভী। কখন থেকে পানির লাইন কাটা হয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে রিজভী বলেন, যে সময় ঘটেছে সে সময়ের কথা তিনি বলছেন। গত শনিবার রাতেও পেশাজীবীদের কয়েকটি প্রতিনিধিদল খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রিজভী বলেন, কখনো কখনো কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে। সরকার ধোঁয়াশা সৃষ্টির জন্য এসব করছে।

রিজভী আরো বলেন, সংবাদমাধ্যম ও কর্মচারীদের মাধ্যমে তিনি যে খবর পাচ্ছেন, তাতে খালেদা জিয়ার বাসভবনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। খালেদা জিয়া গৃহবন্দী নাকি নজরবন্দী, তা-ও জানতে চান রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়াকে মানসিক নির্যাতনের জন্য এ প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়েছে।

এদিকে খালেদা জিয়ার বাড়িতে গতকাল পানি না থাকার বিষয়ে ঢাকা ওয়াসা কিছুই জানে না বলে জানানা ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এ ডি এম কামরুল আলম বলেন, এ বিষয়ে ওয়াসার স্থানীয় আঞ্চলিক কার্যালয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। তা ছাড়া লোডশেডিং বা অন্য কোনো কারিগরি কারণে ওয়াসার পানি সরবরাহ বন্ধ থাকলে তা পুরো এলাকায় থাকবে। নির্দিষ্ট কোনো বাড়ির পানির লাইন বন্ধ করতে হলে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে হবে। বাইরে থেকে বন্ধ করতে হলে রাস্তা কাটতে হবে। সেখানে রাস্তা কাটার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close