Featuredদুনিয়া জুড়ে

অধিকারের জন্য লড়ে এখন শুধু বঞ্চনা

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: আরব বসন্তে নারীদের ভূমিকা ছিল অন্যতম। তাঁদের স্বপ্ন ছিল এরই মধ্য দিয়ে পিতৃতান্ত্রিক কাঠামো থেকে এবং ইসলামপন্থীদের গণ্ডি থেকে বের হয়ে তাঁরা আরও বেশি স্বাধীনতা ও অধিকার ভোগ করতে পারবেন। কিন্তু আশার সে গুড়ে এখন বালি। অধিকার রক্ষা দূরে থাক, বঞ্চনাই এখন তাঁদের নিত্যদিনের সঙ্গী। আরব বসন্ত শেষ হওয়ার প্রায় তিন বছর হতে চলেছে। এরই মধ্যে থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন ২২টি আরব রাষ্ট্রের ওপর জরিপ চালিয়েছে। এতে দেখা গেছে, নারী অধিকারের দিক দিয়ে নিচের দিকে থাকা পাঁচটি রাষ্ট্রের মধ্যে রয়েছে তিনটি আরব বসন্ত বিপ্লব ঘটা দেশ।

মঙ্গলবার রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আজকের বিশ্বে মিসরে নারীদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। কাছাকাছি অবস্থা ইরাকে ও সৌদি আরবে। লৈঙ্গিক সহিংসতা, প্রজনন অধিকার, পরিবারে নারীদের চিকিত্সা এবং রাজনীতি ও অর্থনীতিতে তাঁদের অন্তর্ভুক্তিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে মিসরে নারীদের অবস্থা খুব করুণ। সিরিয়া ও ইয়েমেন রয়েছে ১৮ ও ১৯তম স্থানে। এ দেশ দুটিতে নারীদের অবস্থা সুদান, লেবানন ও ফিলিস্তিনের নারীদের চেয়ে খারাপ। লিবিয়ার অবস্থান নবম ও তিউনিশিয়ায় ষষ্ঠ। ইজিপসিয়ান সেন্টার ফর উইমেনস রাইটসের প্রধান নিহাদ আবুল কোমসান বলেন, মিসরে ‘বুদ্ধিজীবী অভিজাত’ ব্যক্তিদের জন্য নারী অধিকারের বিষয়টি ঐতিহ্যের দিক দিয়ে উদ্বেগের বিষয়।

এখানে বেশির ভাগই নিরক্ষর ও দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে। ৩৩৬ জন জেন্ডার বিশেষজ্ঞ এই জরিপে অংশ নেন। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালিত হয়। মিসরের পরই রয়েছে সৌদি আরব। সেখানে নারীদের গাড়ি চালানোর ওপর রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। নারীরা কোনো অভিভাবক ছাড়া কাজে বা ঘুরতে যেতে পারেন না। তাঁদের অনেক বেশি হয়রানি করা হয়; যা জরিপে অংশ নেওয়া সবার মতামতেই উঠে আসে। গত এপ্রিলে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মিসরে ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ  নারী যৌন হয়রানির শিকার হন।

মিসরে সামিরা ইব্রাহিম নামের একজন গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারী জানান, হোসনি মোবারকের পর সেনাশাসনকালে তাঁকে সতীত্ব পরীক্ষা দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘হয়রানি হচ্ছে সবচেয়ে বড় সমস্যা, যা এখন আমাদের পোহাতে হচ্ছে।

মিসরে হোসনি মোবারকের পর মোহাম্মদ মুরসির নেতৃত্বে ইসলামপন্থী দল মুসলিম ব্রাদার হুড ক্ষমতায় আসে। কিন্তু ক্ষমতায় এসেই ইসলামপন্থী এ দলটি নারী অধিকার লঙ্ঘন করতে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাসমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকারের  রাজনীতিতে নারীদের অংশ গ্রহণ কিছুটা আশার আলো জাগিয়েছে।

ন্যায়পাল কার্যালয়ের প্রধান ফাতেমা খাফাজি, যিনি জেন্ডার বিষয়ে কাজ করেন, তিনি রয়টার্সকে বলেন, মুরসির শাসনকালে নারীসমাজের চিত্র ছিল এমন, যেখানে একজন নারীকে অবশ্যই মা হতে হবে। এটাই ছিল তাঁর প্রধাক কাজ। ওই সময় পুরো ব্যাপারটাই ছিল নারী অধিকার ও লৈঙ্গিক-সমতাবিরোধী। তবে মুরসিকে অপসারণের পর সে সব চিত্রে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। এখন আর সে ধরনের হুমিক নেই। তারপর সমাজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের তেমন কোনো অগ্রগতি চোখে পড়ে না।

জরিপের ফলাফলে নিচের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে থাকা সিরিয়ায় গত আড়াই বছরের গৃহযুদ্ধে এক লাখের বেশি লোক মারা গেছে। সেখানে নারীর অধিকার সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত হয়েছে। দামেস্কে একজন সরকারবিরোধী কর্মী সুসান আহমেদ বলেন, নারীকে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। যুদ্ধে অনেক পুরুষ মারা যায়। তখন শিশুদের লালনপালনের পাশাপাশি ভরণপোষণের দায়িত্বও নারীকে নিতে হয়।

দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বলেন, নারীরা এখন শুধু নিরাপত্তা চায়। ইসলামপন্থীরা নারীদের শরীর ঢেকে দিতে চায় না, তারা নারীদের জীবনটাকেই পর্দা দিয়ে ঢেকে দিতে চায়। রক্ষণশীল ইয়েমেনে নারীরা পার্লামেন্টে নিজেদের জন্য কোটাভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। দেশটির প্রত্যন্ত এলাকায় এখনো অহরহ বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটছে। ২০১১ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী ইয়েমেনের তাওয়াকুল কামরান রয়টার্সকে বলেন, অন্যান্য আরব দেশের মতো এখানে নারীদের দমনের চেষ্টা চলছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close