Featuredব্রিকলেন টু জিন্দাবাজার

এখনো অসমাপ্ত সিলেট শহীদ মিনারের সংস্কার কাজ

শীর্ষবিন্দু নিউজ: ১৬ ডিসেম্বরের আগে শেষ হচ্ছে না সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজ। অর্থমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল মাল আবদুল মুহিতের নির্দেশ সত্ত্বেও শহীদ মিনারের কাজে কোনো অগ্রগতি নেই। দেখা গেছে সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা নির্মাণ সামগ্রী। এর ফলে আগামী ১৬ ডিসেম্বর শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ অর্পণে মারাত্মক সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের অধীনে ৩ কোটি টাকা ব্যয়েশহীদ মিনারের নির্মাণকাজ আগামী ১৬ই ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এ নিয়ে হতাশা দেখা দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, তরুণ প্রজন্মসহ সাধারণ মানুষের মাঝে।অথচ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিগত ৭ সেপ্টেম্বর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন, আসন্ন ১৬ই ডিসেম্বরের মধ্যে এর নির্মান কাজ শেষ হবে। তাঁর এমন ঘোষণা থাকার পরও নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হওয়ার পেছনে সংশ্লিষ্টদের কাজের ধীরগতিকেই দায়ী করছেন অনেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শহীদ মিনারের পরিধি ছোট থাকায় সেখানে বিভিন্ন দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে আসা দর্শনার্থীদের স্থান সংকুলান হয়না।এছাড়া বিগত ২২ ফেব্র“য়ারি তৌহিদী জনতার নামে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হামলা ও ভাংচুর চালায়। তান্ডবলীলা থেকে সেদিন বাদ যায়নি মহান ২১ ফেব্র“য়ারি উপলক্ষেভাষা সৈনিকদের বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ মিনারের বেদীতে দেওয়া ফুলগুলোও।পরবর্তীতে ১৪ মার্চ অর্থমন্ত্রী স্বাধীনতাবিরোধীচক্রের দ্বারা আক্রান্ত বিধ্বস্ত শহীদ মিনার পরিদর্শনে আসেন।জাতির বিনম্র শ্রদ্ধা জানানোর স্থানে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের এমন ভয়াবহ তান্ডবলীলা দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। সেদিনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন শহীদ মিনারকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর।যে কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছ থেকে শহীদ সামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতালের ১৪ শতক ভূমি নিয়ে আসা হয়।বিগত ৭ সেপ্টেম্বর ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে শহীদ মিনারের পুনর্নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেনঅর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আসন্ন ১৬ই ডিসেম্বরের মধ্যে পুনঃনির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানান। এরপর পেরিয়ে গেছে ২ মাসেরও অধিক সময়। এরমধ্যে শহীদ মিনারের পিছনের সীমানা প্রাচীর আরসদর হাসপাতালের একটি স্থাপনার কিছু অংশ ভেঙ্গে ফেলার কাজ ছাড়া আর কিছুই হয়নি। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর গত এক সপ্তাহ থেকে আবার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা। বর্তমানে ভেঙ্গে ফেলা অংশবিশেষ সরানোর কাজ চলছে। সরজমিনে দেখা যায়, পুরনো শহীদ মিনারের পার্শ্বে ভেঙ্গে ফেলা রড, ইট ও বেশ কিছু আসবাবপত্র ফেলা রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, তিনি এগুলো ক্রয় করার জন্য প্রথমে ৮০ হাজার এবং পরবর্তীতে একলাখ টাকা পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের বলেছেন। তবে তা এখনো বিক্রি করা হয়নি।এভাবেই ঢিলেঢালা ভাবে এগিয়ে চলছে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নির্মান কাজ। যা দেখে হতাশ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সংস্কৃতিকর্মীসহ সাধারণ মানুষ।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, শহীদ মিনারের নকশা প্রস্তুত করতে একটু বিলম্ব হয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর নকশাটি চূড়ান্ত হয়। বর্তমানে নির্মাণকাজ পুরোদমে চলছে। আগামী রবি-সোমবার নাগাদ এর পাইলিংয়ের কাজ শুরু হবে। তবে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ শেষ হবে না। আরো কিছুদিন সময় লাগবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close