আলোচিতস্বদেশ জুড়ে

সর্বদলীয় মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে সোমবার

শীর্ষবিন্দু নিউজ: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সোমবার বিকালে শপথ নেবেন নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এই সর্বদলীয় সরকারে জাতীয় পার্টি যোগ দেবে বলে ওই দলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।নির্বাচনকালীন সরকারের ধরন নিয়ে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের বিরোধে রাজনৈতিক সঙ্কটের শঙ্কা এবং বিদেশি কূটনীতিকদের তৎপরতার মধ্যেই এই শপথের উদ্যোগ নেয়া হলো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রোববার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের মধ্যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সর্বদলীয় গঠন নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। বৈঠক চলাকালে সরকারের শীর্ষস্থানীয় সূত্রগুলো নিশ্চিত করে যে, কাল সর্বদলীয় সরকারের নতুন মন্ত্রীরা শপথ নেবেন। জাতীয় পার্টি ছাড়াও ওয়ার্কার্স পার্টি যোগ দেবে বলে জানা গেছে।

রোববার রাতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা সাংবাদিকদের জানান, সোমবার বিকাল ৩টায় এই শপথ হবে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসা বিএনপি সর্বদলীয় এই মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়ার কোনো ঘোষণা এখন পর্যন্ত দেয়নি। কারা এ মন্ত্রিসভায় থাকছেন, সে বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবও কিছু বলেননি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেছেন। নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারেরও বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এই মন্ত্রিসভা হবে বর্তমানের চেয়ে আকারে ছোট। এর কাঠামো ও কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেছেন। রাষ্ট্রপতি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এর সাফল্য কামনা করেছেন বলেও সচিব জানান।

মোশাররাফ হোসাইন জানান, ‘নতুন কয়েকজন’ মন্ত্রী সোমবার শপথ নেবেন বলে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কারা শপথ নিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কয়জন, কে, কে শপথ নেবেন এটা বলা সম্ভব নয়। প্রয়োজনও নেই। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাকে অভ্যর্থনা জানান। প্রায় এক ঘণ্টা আলোচনা করেন তারা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছাড়াও রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল কাজী ফকরুদ্দীন আহমেদ, রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের সচিব মনজুর হোসেন, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, গতকালই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ অত্যন্ত তির্যক ভাষায় সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এ সরকারের হাতে রক্তের দাগ আছে। এই সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এ ছাড়া সর্বদলীয় সরকারে যোগ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে এমন একজন নেতা জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, দেশের মানুষ আওয়ামী দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায়। প্রেসিডিয়াম সদস্য সালমা ইসলাম পার্টির চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ করে বলেন, স্যার আপনি মহাজোট ছাড়ুন। কাঁদো হাসিনা, কাঁদো। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কাল বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে দলটি।

বাংলাদেশের এই উদ্ভুত পরিস্থিতিতে এরই মধ্যে শনিবার বাংলাদেশে পৌঁছে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা ছাড়াও বিভিন্ন স্তরের রাজনীতিক ও নাগরিক সমাজের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। প্রতিটি বৈঠকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কট আলোচনায় আসে এবং নিশা দেশাই এই বার্তায়ই দেন যে, ওয়াশিংটন বাংলাদেশে অবধা, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন দেখতে চায়। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদপূর্তির আগের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা থাকায় আগামী ২৪ জানুয়ারির মধ্যেই ভোটের আয়োজন করতে হবে কমিশনকে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close