আলোচিতস্বদেশ জুড়ে

সর্বদলীয় সরকার গঠনে শপথ নিলেন নতুন ৬ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রী (ভিডিও)

শীর্ষবিন্দু নিউজ: অনেক জল্পনা কল্পনা শেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভার নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ছয়জন ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দুজন। আজ সোমবার বেলা সোয়া তিনটায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাঁদের শপথ পড়ান। এই নতুন মন্ত্রীরা হলেন—আওয়ামী লীগের তোফায়েল আহমেদ ও  আমির হোসেন আমু, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন এবং জাতীয় পার্টির রওশন এরশাদ, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও রুহুল আমিন হাওলাদার। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জাতীয় পার্টির মজিবুল হক ও সালমা ইসলাম। আর টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীর কোটা না থাকায় জাতীয় পার্টির জিয়াউদ্দিন বাবলুকে উপদেষ্টা করা হবে। শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদসহ বিভিন্ন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব সাংবাদিকদের বলেছিলেন, নতুনদের শপথ অনুষ্ঠানের পর মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হবে। এই শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভার অবসান হলো। তবে শেখ হাসিনাই নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী থাকছেন। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকার শপথ নেয়। দশম সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সর্বদলীয় মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে শপথ নিলেন জাতীয় পার্টির তিন নেতা, আওয়ামী লীগের উপদষ্টো পরিষদের দুই সদস্য এবং ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করায় এবার দলীয় সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচন হবে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহাজোট সরকারের মন্ত্রিসভার অবসান ঘটল এবং শুরু হলো নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের। অবশ্য শেখ হাসিনাই নির্বাচনকালীন এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী থাকছেন। আগামী জানুয়ারিতে দেশে যখন দশম সংসদ নির্বাচন হবে, নির্বাচনকালীন এই সরকারই তখন ক্ষমতায় থাকবে। সরকার এই মন্ত্রিসভাকে সর্বদলীয় বললেও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এ সরকারে যোগ দেয়ার আহ্বানে সাড়া দেয়নি।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপির ভাষায়, সর্বদলীয় মন্ত্রিসভার এই শপথগ্রহণ জাতির সঙ্গে তামাশা। আগের মন্ত্রিসভার ৩১ জন মন্ত্রী ও ১৯ প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে কে কে সর্বদলীয় মন্ত্রীসভায় থাকছেন না, সে বিষয়ে কোনো ঘোষণা এখনো সরকারের দিক থেকে আসেনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন ভূইঞা জানিয়েছেন, সর্বদলীয় মন্ত্রিসভার আকার হবে আগের মন্ত্রিসভার চেয়ে ছোট। এই নির্বাচনকালীন সরকার গঠনে গত ১২ নভেম্বরই প্রধানমন্ত্রীর হাতে পদত্যাগপত্র দিয়ে রেখেছেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।

আগের মন্ত্রিসভার যারা থাকবেন না, তাদের পদত্যাগপত্র সোমবারই রাষ্ট্রপতির হাতে তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তারপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গেজেট প্রকাশ করবে এবং প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিদের মধ্যে দপ্তর পুনর্বণ্টন করবেন। আর এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা হবে যতো দ্রুত সম্ভব। বর্তমান মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে যারা নতুন মন্ত্রিসভায়ও থাকছেন, তাদের আর  নতুন করে শপথ নিতে হবে না। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো দেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়। ১৯৯৬ সালে বিএনপি আন্দোলনের মুখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস করে এবং পরের ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে তিনটি নির্বাচন ওই ব্যবস্থায় হয়।

নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে আমু ও তোফায়েল সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে দলে সংস্কারের দাবি তুলে সমালোচনার মুখে পড়েন। শেখ হাসিনার বিগত সরকারের মন্ত্রী থাকলেও এবারের মন্ত্রিসভায় স্থান হয়নি তাদের। সরকারের চার বছরের মাথায় তোফায়েলকে মন্ত্রী করতে চাইলেও তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। গত বছরতোফায়েলের সঙ্গে মহাজোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি মেননকেও মন্ত্রিসভায় শপথের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সরকারে যোগ দেননি তিনি। চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তার দলের চেয়ারম্যান এরশাদের সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। রুহুল আমিন হাওলাদার বরিশালের সংসদ সদস্য।

[youtube id=”c7zDdUbRfU” width=”600″ height=”350″]

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close