Featuredবেড়ানো

প্রাচীন নগরে

আনোয়ার পারভেজ: ইতিহাস জানা আর প্রাচীন স্থাপত্য দেখতে মহাস্থানগড়ে আসেন পর্যপকেরা। ছবি: সোহেল রানাপ্রাচীরবেষ্টিত আড়াই হাজার বছরের পুরোনো নগরের দেয়ালজুড়ে এখন সবুজ ঘাসের আচ্ছাদন। মাটির নিচে দেবে গেছে দুর্গের প্রবেশদ্বার। পাশের করতোয়ার নদীপথে এ নগরের সৈন্যসামন্তদের জন্য অস্ত্র, গোলাবারুদ ও খাদ্য নিয়ে নৌযান মূল ফটকে এসে ভিড়ত বলে ধারণা করা হয়। ফটকের পাশেই দুর্গে প্রবেশের সিঁড়ি। সেই সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে দুই চোখ সামনে মেললেই মন জুড়িয়ে যায়।

আড়াই হাজার বছরের ঐতিহ্য আর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এ নগরই ছিল একসময় বাংলার রাজধানী। যিশু খ্রিষ্টের জন্মের কয়েক শ বছর আগে গড়ে ওঠা এ প্রাচীন নগরের নাম পুণ্ড্রবর্ধন। মৌর্য, গুপ্ত ও পাল আমলের নগরটি কালের বিবর্তনে এখন মহাস্থানগড় নামে পরিচিত। বিভিন্ন কারণে মহাস্থানগড় প্রত্নতাত্ত্বিক এবং ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাচীন নগর পুণ্ড্রবর্ধন বা মহাস্থানগড় পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

পুণ্ড্রনগরের খোঁজে
ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে বগুড়া শহর। বগুড়া শহর থেকে আরও ১২ কিলোমিটার উত্তরের পথ পেরিয়ে পাওয়া যাবে মহাস্থানবাজার। বাজারের পাশেই মহাস্থানগড়ের শুরু। হজরত শাহসুলতান বলখীর মাজারও এখানে। মহাস্থানগড় জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে প্রাচীন আমলের অসংখ্য নিদর্শন। প্রায়ই খননকাজের সময় মাটির নিচ থেকে উঠে আসছে হাজার বছরের পুরোনো ইটের টুকরা বা পোড়ামাটির তৈজসপত্রের ভগ্নাংশ। পাওয়া যাচ্ছে দেবদেবীর মূর্তি বা মুদ্রা। সমতল ভূমি থেকে দুর্গের দেয়ালের উচ্চতা ১৫ থেকে ৪৫ ফুট। ৫ থেকে ১০ ফুট প্রশস্ত এই দুর্গের দেয়াল অনেকটা চীনের প্রাচীরের মতো।

প্রাচীন স্থাপত্য দেখতে মহাস্থানগড়ে আসেন পর্যপকেরা। ছবি: সোহেল রানাপ্রাচীন স্থাপত্য দেখতে মহাস্থানগড়ে আসেন পর্যপকেরা। ছবি: সোহেল রানা
কী দেখবেন

প্রাচীরঘেরা দুর্গের ভেতরে রয়েছে প্রত্নযুগের নানা নিদর্শন। মূল দুর্গের ১০০ গজ উত্তরে গোবিন্দ ভিটার সামনে রয়েছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের জাদুঘর। এ জাদুঘরে রয়েছে মহাস্থানগড়সহ এ অঞ্চলে পাওয়া প্রাচীন যুগের নানা নিদর্শন। দেখতে কাটতে হবে টিকিট। গড়ের পূর্বপ্রান্তে হজরত শাহ্ সুলতান বলখী (র.) মাহী সওয়ারের মাজার। মাজারের পাদদেশে প্রাচীন মসজিদটি নির্মিত হয়েছে ১৭১৯ খ্রিষ্টাব্দে।
মূল দুর্গ থেকে চার কিলোমিটার দূরে আছে বেহুলার বাসরঘর। এ বাসরঘর নিয়ে প্রচলিত রয়েছে বেহুলা-লখিন্দরের কিংবদন্তি। মহাস্থান থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে আরেক প্রত্নযুগের নিদর্শন ভাসুবিহার।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে সড়ক ও ট্রেন উভয় পথে বগুড়া যাওয়া যাবে। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনেও বগুড়া আসা যায়। ‘রংপুর এক্সপ্রেস’ ও ‘লালমনি এক্সপ্রেস’ নামের দুটি ট্রেনে আসতে পারেন। রংপুর-দিনাজপুরগামী বাসে সরাসরি মহাস্থানগড়ে নামা যায়। বগুড়ায় নামলে চারমাথা বাসটার্মিনাল ও শহরের হাড্ডিপট্টি বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস পাবেন। ভাড়া লাগবে পাঁচ টাকা। শহরের দত্তবাড়ি থেকে সিএনজি অটোরিকশায় ১৫ টাকা ভাড়ায় পৌঁছানো যাবে মহাস্থানগড়ে।

কোথায় থাকবেন

মহাস্থানগড়ে রাতযাপনের ভালো কোনো ব্যবস্থা নেই।তাই থাকার জন্য বেছে নিতে হবে বগুড়া শহরের কোনো মোটেল, হোটেল বা বাংলো। বাজেট বেশিথাকলে থাকতে পারেন চারতারকা হোটেল নাজ গার্ডেন-এ। এ ছাড়া বাজেট মধ্যম হলে পর্যটন মোটেল, রেডচিলিস, হোটেল সেফওয়ে, নর্থওয়ে, সিয়াস্তা, সেঞ্চুরি কিংবা আকবরিয়া হোটেলে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close