অন্য পত্রিকা থেকে

পিতার পথে হাঁটেননি হাসিনা

চরম এক বিপর্যয়ের দিকেই এগুচ্ছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। সারা দুনিয়ার নজর এখন বাংলাদেশের দিকে। আশ্চর্য্যজনক হলেও সত্য একই সময়ে দুনিয়ার তিনটি অংশের সবচেয়ে প্রভাবশালী তিনটি সংবাদপত্র বাংলাদেশ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক টাইমস, বৃটেনের দ্য ইকোনমিস্ট এবং ভারতের দ্য হিন্দু বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে। চরমতম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। বাংলাদেশের চলমান সঙ্কটের জন্য পত্রিকাটি দায়ী করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তাকে সমঝোতায় পৌঁছার পরামর্শ দিয়ে পত্রিকাটি এও বলেছে, না হয় বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মহলের নিষেধাজ্ঞাসহ নানা ধরনের চাপ মোকাবেলা করতে হবে।

সারা দুনিয়া যখন উদ্বিগ্ন তখন বাংলাদেশ সরকার বেঁচে নিয়েছে হু কেয়ারস নীতি। বুধবার সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাপনী ভাষণে এটা স্পষ্ট বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচনের দিকেই এগুচ্ছে সরকার। প্রেসিডেন্ট তাকে নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব চালিয়ে যেতে বলেছেন বলেও সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সংবিধানের কোন বিধান বা রেওয়াজ বলে প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে তা বলেছেন- তা স্পষ্ট নয়। বঙ্গভবনও এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে নীরবতা পালন করছে।

সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রেওয়াজ হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলেই কেবল প্রেসিডেন্ট তাকে দায়িত্ব চালিয়ে যেতে অনুরোধ করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেননি। তাহলে প্রেসিডেন্ট কিভাবে তাকে সে অনুরোধ করলেন। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদত্যাগের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও কেউ কেউ স্মরণ করেছেন। বঙ্গবন্ধু সেসময় গণপরিষদ ভেঙ্গে দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকেও পদত্যাগ করেছিলেন তিনি। পরে প্রেসিডেন্টের অনুরোধে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যান। কিন্তু শেখ হাসিনা এক্ষেত্রে পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেননি। যুদ্ধাবস্থা বা জরুরি অবস্থার উদ্ভব না হলে আর সংসদ অধিবেশন ডাকা হবে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে। এক্ষেত্রে সমঝোতার সম্ভাবনা ফুরিয়ে গেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সমঝোতার দরজা যখন বন্ধ তখন রাজনীতিতে পঞ্চম বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ডিগবাজির কারিগর এরশাদ মহাজোটেই শরিক হয়েছেন। ১৮ দলীয় জোটের কয়েকটি দলকে কথিত নির্বাচনকালীন সরকারে যোগ দিতে নানা চাপ দেয়া হচ্ছে। ভয় এবং প্রলোভন দু’টিই দেখানো হচ্ছে তাদের। বিএনপির কিছু নেতাকে ভাগিয়ে এনে নির্বাচনে আনার চেষ্টাও চলবে জোরেশোরে। যে কারণেই বিএনএফকে নিবন্ধন দিয়ে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সমঝোতার সম্ভাবনা যখন শেষ হয়ে যাচ্ছে বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তখন অনড় অবস্থানই নিয়েছেন। শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচনে যাবেন না এ কথা তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলের ভেতরে-বাইরে। তবে শেখ হাসিনা ছাড়া অন্য কেউ প্রধান হলে নির্বাচনে যাওয়ার কথা বিবেচনা করবেন তিনি। সংঘাতমুখর রাজনীতিতে আগামী সপ্তাহ আরও সংঘাতময় হবে বলেই মনে হচ্ছে। সপ্তাহব্যাপী হরতাল আহবানের বিষয়টিও বিবেচনা করছে ১৮ দলীয় জোট। শত অনিশ্চয়তার মধ্যে একটি বিষয়ই নিশ্চিত- ১৬ কোটি মানুষই এখন জিন্মি। একে একে নিভেছে সব আশার দেউটি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close