অন্যকিছু

শৈল্পিক নিদর্শনের অপরুপ কাবাঘর আর্বতিত কাপড় কিসওয়া

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: পবিত্র কাবাঘরকে আবৃতকারী কালো কাপড় কিসওয়া এক অনন্য শৈল্পিক নিদর্শন। দীর্ঘ আট মাস পরিশ্রমের পর প্রস্তুতি এই চমৎকার কিসওয়া আজ ৯ জিলহজ্ব কাবাঘরে লাগানো হবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কিসওয়াটি হস্তান্তর করা হয়েছে। কিসওয়া পশমী কাপড়ে স্বর্ণের সূতোর এমব্রোয়ডারি করে প্রস্তুত করা হয়। এটা মক্কার একটি বিশেষ কারখানায় প্রস্তুত করা হয়। সুদীর্ঘকাল যাবৎ এই কারখানা এটা প্রস্তুত করে আসছে। কিসওয়া তৈরীর কারখানার ২১০ জন শ্রমিক শিল্পী মক্কা নগরীর লোক এবং তাদের অধিকাংশ আজীবন এখানে কাজ করেন।

কারখানাটির এমব্রোয়ডারি বিভাগের প্রধান এবং ৩৭ বছর যাবৎ এখানে কর্মরত হোসানিয়ান আল-শরীফ বলেন, পশমী কাপড়ের উপর স্বর্ণের সূতোয় ইসলামী ক্যালিগ্রাফীর কাজ একটি বিশেষ দক্ষতা, যা এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্ম পর্যন্ত চলে আসছে। তিনি বলেন, আমাদের মতো এমব্রোয়ডারি বা নকশার কাজ এই ফ্যাক্টরীর বাইরের কেউ জানে না। তাই আমাদের প্রবীণ শ্রমিকরা নতুন শ্রমিকদের কাজ শুরুর এগ তিন মাস প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। পুরোনো কিসওয়া টুকরো টুকরো কেটে ফেলা হয় এবং বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ প্রতিনিধি এবং প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তারা এটাকে মূল্যবান উত্তরাধিকার হিসেবে সংরক্ষণ করেন।

কিসওয়া কারখানার উপাদান সামগ্রী বিভাগের প্রধান সালমান আল-লোকমানি বলেন, হাতের বুনন কাজে সহায়তার জন্য ২৫ বছর  আগে মেশিন চালু করা হয়। মেশিন ব্যবহারের আগে এই কাজে অনেক লোকের প্রয়োজন হতো এবং এটা তৈরীতে দীর্ঘ সময় লাগতো। বর্তমানে বেশ কয়েকটি সুইস মেশিন রয়েছে, যা আমাদের সাহায্য করে থাকে।

১৯২৭ সালে এই কারখানা স্থাপনের আগে কিসওয়ার ৪৭ টুকরো কাপড় মিশরে তৈরী প্রস্তুত হতো। এর বিভিন্ন সামগ্রী অর্থাৎ উপাদান ক্রয় করা হতো সুদান, ভারত মিশর ও ইরাক থেকে। ফ্যাক্টরীর জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বাজুদা বলেন, বর্তমান কিসওয়াটি তৈরীতে ৬৭০ কেজি সিল্ক বা পশম ব্যবহৃত হয়েছে। উন্নতমানের এই সিল্ক আমদানী করা হয় ইতালী ও সুইজারল্যান্ড থেকে। জানা যায়, সিল্ক এখানে কালো রং করা হয় এবং কারিগরেরা নিজেরা বুননের কাজটি করেন। এরপর ১২০ কেজি খাঁটি স্বর্ণ ও রৌপ্যের সূতোয় হাত দিয়ে এর এমব্রোয়ডারি বা নকশার কাজ করা হয়। অনেক দরিদ্র হজ্বপালনকারী হজ্বের সময় কিসওয়ার অংশ বিশেষ ছিঁড়ে বা ধারালো কিছু দিয়ে কেটে বাড়িতে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে কারখানায় ব্যবস্থা রাখা হযেছে। প্রতি ঘন্টায় একটি রক্ষণাবেক্ষণ টিম এর ছেঁড়া অংশ মেরামত করে থাকে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close