Featuredস্বদেশ জুড়ে

বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনা অভ্যুত্থানের সুযোগ নেই

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক অভ্যুত্থানের কোনো আশঙ্কা দেখছেন না প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। কলকাতার ইংরেজি দৈনিক টেলিগ্রাফকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ রকম মন্তব্য করেন। দিব্যদীপ পুরোহিতকে দেয়া জয়ের ওই সাক্ষাৎকারটি রোববার প্রকাশ করেছে টেলিগ্রাফ।

দৈনিক টেলিগ্রাফকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সুশীল সমাজের একটি অংশ ক্ষমতা চায়। তারা আশা করে, এ বিষয়ে সেনাবাহিনী তাদের সমর্থন করবে। তবে বাঙালি জাতি তেমন কোনো পরিস্থিতি মেনে নেবে না বলেই মনে করেন জয়। সাক্ষাৎকারটির ঈষৎ সংক্ষেপিত বাংলা তর্জমা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের সৌজন্য শীর্ষবিন্দু পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো।

প্রশ্ন: আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে সেনা হস্তক্ষেপের শঙ্কা থেকে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে ১৯৭৫ থেকে ৯০ সাল পর্যন্ত সেনাশাসন চলেছে। ২০০৭ ও ২০০৮ সালেও একটি সেনাসমর্থিত অনির্বাচিত সরকার বাংলাদেশে শাসন করেছে।

জয়: আমাদের এখানে ‍সুশীল সমাজের একটি অংশ ক্ষমতা চায়। কিন্তু তাদের কেউ কখনো নির্বাচনে জিততে পারেনি। যেহেতু একমাত্র সেনা সমর্থনেই তাদের ক্ষমতায় আসার পথ তৈরি হতে পারে, সেহেতু তারা সামরিক হস্তক্ষেপের কথা বলে। তবে আমি আপনাকে বলে দিতে পারি, বাংলাদেশের মানুষ এটা মানবে না। আমাদের সরকার এতোটাই সাফল্য দেখিয়েছে যে মানুষ একটি নির্বাচিত ও বৈধ সরকারের ওপরে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ সহ্য করবে না, যে সরকার একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

পাশাপাশি আপনাকে একটি অভ্যুত্থানের জন্য প্রয়োজনীয় উপদানাগুলোও খুঁজে দেখতে হবে। এই মুহূর্তে এমন কোনো জেনারেল বা সেনা কর্মকর্তা নেই, যার অভ্যুত্থানের খায়েশ থাকতে পারে।

একটি অভ্যুত্থান সফল করতে হলে ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার জন্য আগে শেখ হাসিনার নাগাল পেতে হবে। কিন্তু যারা তার বাড়ির (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন- গণভবন) নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন তারা সবাই শেখ হাসিনার অত্যন্ত বিশ্বস্ত। তারা কাউকে সুযোগ দেবে না।

তাছাড়া একটি সামরিক অভ্যুত্থানে বিপুল রক্তপাতের আশঙ্কা থাকে। সেনাবাহিনী কোনো গ্রুপ সেই ঝুঁকি নেবে বলে আমি মনে করি না। আর শেখ হাসিনা তেমন কোনো ঘটনায় ক্ষমতা ছাড়বেন না। আমাদের লাশ ডিঙিয়ে তবেই ক্ষমতা দখল করতে হবে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে ইতোমধ্যে কয়েক দফা টানা হরতাল গেছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি মানতে সরকারের ওপর চাপ দিতে চেয়েছে। আর সরকার তাদের ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসায় গত কয়েক সপ্তাহে রাজপথে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। প্রধান দুই দলের মধ্যে এখনো কোনো সমঝোতা না হওয়ায় আগামীতে আরো হরতালের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জয়: হরতাল ভালো কিছু নয়। আর মূল বিষয় হচ্ছে- এই হরতাল কী কারণে? আসলে যৌক্তিক কোনো কারণই নেই। আমরা (গত পাঁচ বছরে) ছয় হাজার নির্বাচন করেছি, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছে। বিএনপির আমলে এমনটা কখনও সম্ভব হয়নি। এখন আমাদের হাতে একটি ডিজিটাল ভোটারলিস্ট আছে। এতে রয়েছে ছবি ও আঙুলের ছাপ, এবং এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু বিএনপির সময়ে অসংখ্যা ভুয়া ভোটারের নাম তালিকায় হয়েছিল।

মানুষ এখন আর হরতাল সমর্থন করে না। মানুষ এখন আর হরতাল করতে রাস্তায় নামে না। এমনকি বিএনপি নেতারাও আসেন না। তাই তারা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে দেশ অচল করতে চায়।

গাড়ি ভাঙা এক রকম বিষয়; কিন্তু তারা গাড়ির সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে। তারা যা করছে তা ঠাণ্ডা মাথায় খুন ছাড়া আর কিছু নয়। পেট্রোল আর গানপাউডার ছিটিয়ে আগুন দিয়ে তারা ঠাণ্ডা মাথায় মানুষ মারছে।

প্রশ্ন: গত ১১ নভেম্বর হরতাল শুরুর আগে বিএনপির পাঁচ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে যে, সরকার ভিন্নমত দমাতে বিরোধী দল ও সুশীল সমাজের একটা অংশের ওপর দমন পীড়ন চালাচ্ছে।

জয়: বিরোধী দল প্রথমে নির্বাচন বানচাল করার জন্য আওয়ামী লীগকে ভয় দেখাতে চেয়েছে। এরপর তারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছে। মানুষের নিরাপত্তা দেয়া সরকারের দায়িত্ব; আর সরকার সেই কাজটিই করেছে। গত হরতালে আমরা সহিংসতা অনেকটা কমিয়ে আনতে পেরেছি। বিভিন্ন অভিযানে বিএনপির লোকজনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।

যারা রাজপথে সহিংসতা করছে তাদের পেছনে ছোটার চেয়ে যারা এই সহিংসতায় ইন্ধন দিচ্ছে, তাদের ধরতে আমরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। বিস্ফোরক খুবই ব্যয়বহুল। এজন্য টাকা লাগে। আমরা তথ্য পেয়েছি বিএনপির সিনিয়র নেতারা এই সহিংসতার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ অর্থ জোগাচ্ছেন। এ কারণেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রশ্ন: হরতালের সময় বাংলাদেশে হাজার হাজার হাতবোমা ফাটানো হচ্ছে। এ ধরনের বিস্ফোরণে শরীর পুড়ে যায়, স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়।

জয়: সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারে কাজ হয়েছে। আগের হরতারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে সর্বশেষ হরতালে এ ধরনের হামলা-সহিংসতা অনেক কম হয়েছে।

প্রশ্ন: আপনি শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রচারের বিষয়টি দেখছেন। প্রথমত, সরকারের সাফল্যের বিষয়গুলো ভোটারদের সামনে নিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি একদল গবেষকের সহায়তায় জরিপ চালিয়ে তাদের মন বুঝতে চাইছেন।

জয়: বিগত সাড়ে চার বছরে আমরা তেমন কোনো প্রচার চালাইনি। কিন্তু আমাদের বিরুদ্ধে অনেক নেতিবাচক প্রচারণা হয়েছে, যা আমাদের ক্ষতিও করেছে। কয়েক মাস আগেও জনমত জরিপে আওয়ামী লীগ-বিএনপির জনপ্রিয়তা প্রায় সমান সমান হয়ে গিয়েছিল।

তারপর আমি গত জুলাই থেকে পেশাদার গণসংযোগকারীদের নিয়ে প্রচার শুরু করলাম, যা পরিস্থিতি পাল্টে দিল। ইতিবাচক প্রচারণা আমাদের কাজে এসেছে। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান, জরিপ সংস্থা ও আমাদের নিজস্ব জরিপে দেখা গেছে, আমরা বিএনপির চেয়ে নিরাপদ দূরত্বেই এগিয়ে আছি।

জনসংযোগের জন্য আমাদের দক্ষ লোকের অভাব ছিল। তাই আমরা একটি নতুন দল গড়ে তুলেছি। আমরা সাধরণ মানুষের মনোভাবও যাচাই করে দেখেছি, কোন ধরনের বার্তা আসলে তারা পছন্দ করে।

আমরা আমাদের বার্তা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। সামনে আরো কিছু আসছে। শিগগিরই আমাদের বিলবোর্ড প্রচারণা শুরু হবে।

প্রশ্ন: অর্থনীতি বলেন, অথবা আইনশৃঙ্খলা- প্রায় সবকিছুরই উন্নতি হয়েছে। জরিপেও তার প্রতিফলন ঘটেছে।

জয়: অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালোর দিকেই যাচ্ছে (বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি গড়ে ৫ দশমিক ৫ থেক ৬ শতাংশ শহারে বাড়ছে)। অবকাঠামোগত বেশ কিছু সমস্যার সমাধান আমরা করেছি। ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতায় পৌঁছানোর দিনটিও আমরা উদযাপন করলাম, অথচ পাঁচ বছর আগেও আমাদের উৎপাদন ছিল মাত্র ৩ হাজার ৫০০ মোগাওয়াট।

যখন আমরা ক্ষমতায় আসি, তখন বিদ্যুতের অভাবই ছিল মানুষের মূল অভিযোগ। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি এলেন, আমাকে বললেন বিদ্যুৎ সংকটে শিল্প ধ্বংস হতে বসেছে। আমরা সেই সমস্যার সমাধান করেছি। আমাদের দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রশ্ন: আর কোনো দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা আছে?

জয়: এই মুহূর্তে আমি নির্বাচন নিয়ে কাজ করছি। আমার পরিবার আমেরিকায় থাকে বলে আমাকে ক্রমাগত ভ্রমণের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। এই নির্বাচনের পর, আমি জানি না… কিন্তু আমার মনে হচ্ছে,     এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আগামী দিনে বাংলাদেশের নেতৃত্বে কারা থাকবে- এই নির্বাচনেই তার মীমাংসা হবে।

বিএনপি যদি কোনোভাবে জিতে যায়, অলৌকিকভাবে ক্ষমতায় চলে আসে, তাহলে হয়তো তিনি (খালেদা জিয়া) ছেলের হাতে (তারেক রহমান) ক্ষমতা হস্তান্তরও করতে পারেন।

সূত্র: বিডিনিউজ২৪

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close