স্বদেশ জুড়ে

৪৮ ঘন্টার অবরোধের প্রথম দিন: বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, গাড়ি ভাংচুর, নিহত ৫ জন

শীর্ষবিন্দু নিউজ: সিইসির তফসিল ঘোষনার পর তা প্রত্যাখ্যান করে বিরোধী দল ১৮ দলীয় জোটের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের প্রথম দিন মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এছাড়া গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। সংগৃহিত বিভিন্ন জেলার খবর থেকে জানা যায়, এরই মধ্যে পাচ জন নিহত হয়েছেন। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা তুলে ধরা হলো।

সিলেটে: সকাল সাড়ে ৯ টায় ১৮ দলের কর্মীরা সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের অদুরে রেললাইনে গাছের গুঁড়িতে আগুন দিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। তবে এর আগে ট্রেন সিলেট ছেড়ে যাওয়ায় রেল চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়নি। সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের সহকারি স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ সেলিম জানান, সকাল ৬ টা ৪০ মিনিটে সিলেট রেলওয়ে স্টেশন থেকে কালনী এক্সপ্রেস ও ৮ টা ২০ মিনিটে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস  ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। সকাল থেকে সিলেটের কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো বাস । এছাড়া চলছে না স্বল্প পাল্লার মিনিবাসও। বিভিন্ন রুটে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু  অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে।

সকাল পৌণে ৯টার দিকে দক্ষিণ সুরমা তেলিবাজারে  সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকর্মীরা। তারা সেখানে টায়ার জ্বালিয়ে  সড়ক অবরোধ ও হাতবোমা ফাটায়। প্রায় আধঘন্টা পর পুলিশ গিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এর আগে সকাল ৮টার দিকে ১৮ দলীয় জোট নেতাকর্মীরা দক্ষিণ সুরমার হুমায়ূন রশীদ চত্বরে অবস্থান নিয়ে মিছিল সমাবেশ করেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী,  জেলার সিনিয়র সহ সভাপতি দিলদার হোসেন সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আহমদ, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম জালালী পংকী, মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর ডা. সায়েফ আহমদ, নায়েবে আমীর হাফিজ আবদুল হাই হারুন প্রমুখ।

মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আইয়ুব জানান,  অবরোধ শান্তিপুর্ণভাবেই চলছে। অবরোধে জন নিরাপত্তায় বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ণ পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ,রয়েছে র‌্যাব-বিজিবির টহল।

খুলনা: সকালে খুলনা নগরীতে বিএনপিকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় অবরোধকারীদের ছোড়া হাতবোমায় এক সহকারী পুলিশ কমিশনারসহ ছয় পুলিশ আহত হয়েছে। সকাল ৮টায় নগরীর পাওয়ার হাউজ মোড়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে এর কাছেই রাখা ২০/২২টি ট্রাক ভাংচুর করে। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। পরে পুলিশ অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে রাবার বুলেট ছোড়ে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ সময় বিএনপি- জামায়াতের ৮ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।

এদিকে পাওয়ার হাউজ মোড়ে সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে  বিএনপি নেতাকর্মীরা লাঠি ও ইট নিয়ে কেডিএ এভিনিউ, শেরে বাংলা রোড, তেঁতুলতলা, শেখপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে পুলিশ তাদের অবস্থান থেকে সরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নগরীতিতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

গাজীপুর: সকালে গাজীপুরে পুলিশের সঙ্গে অবরোধকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. ওমর ফারুক জানান, সকাল ৯টার দিকে  কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা এলাকা  ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে একটি লেগুনা এবং কবিরপুর এলাকায়  একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে। পরে পুলিশ ও কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নেভায়।

এছাড়া সোমবার রাত ১১টার দিকে  অবরোধ সমর্থকরা সফিপুর বাজারের মৌচাক ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করে। পরে স্থানীয়রা বাসের আগুন নেভায়। জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের মাস্টার জিয়াউদ্দিন সরদার জানান, সকাল ১০টার দিকে শ্রীপুরের রাজেন্দ্রপুর স্টেশনের আউটার সিগনালে মোহনগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী  মহুয়া এক্সপ্রেস ট্রেন ও চালককে অবরুদ্ধ করে রাখে অবরোধকারীরা। অরোধকারীরা তাকে মারধোরও করেছে।

পরে সোয়া ১০টার দিকে পুলিশ অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চালককে উদ্ধার করে এবং সোয়া ১০টার দিকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রাজেন্দ্রপুর ছেড়ে যায়।  গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার সোমাবাজার এলাকায় সকাল আটটার দিকে  পিকেটারদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পিকেটাররা একটি পুলিশভ্যানও ভাংচুর করেছে। সকাল থেকে গাজীপুরে মহাসড়ক ও সড়কে বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও রিকশা, লেগুনা ও টেম্পো চলাচল করতে দেখা গেছে।

চাঁদপুর: অবরোধের প্রথম দিনে চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করেছে পিকেটাররা। সকাল থেকেই তারা সড়কের বাকিলা, বলাখাল, ঘোষেরহাট, দেবপুরসহ বিভিন্ন স্থানে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে। অবরোধে দূরপাল্লার সকল যানবাহন, লঞ্চ ও ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে আগুন দিয়েছে পিকেটাররা। চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. আমির জাফর জানান,  বিভিন্ন স্থানে পিকেটিংয়ের সময় পুলিশ ১৪ জনকে আটক করে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close