Featuredসিলেট থেকে

সুনামগঞ্জ ৩ আসনে কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি ?

আলী আহমদ: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভিআইপি আসন বলে খ্যাত জগন্নাথপুর-দক্ষিন সুনামগঞ্জ নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে জোর লবিং গ্রুপি আর প্রচারনায় উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে নির্বাচনী মাঠে। নৌকার মাঝি হতে লড়ছেন আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য ৮জন প্রার্থী।
আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নিবার্হী সদস্য সাবেক যুগ্ন সচিব বর্তমান সংসদ সদস্য এম, এ মান্নান ও স্বাধীন বাংলার প্রথম পররাষ্টমন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদের তনয় আজিজুজ সামাদ আজাদ ডনের মধ্যেই মূলত দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে জোর লবিং চলছে। এছাড়া প্রার্থী তালিকায় আছেন সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম এডভোকেট আব্দুর রইছের পুত্র সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিষ্টার এনামুল কবীর ইমন, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হরমুজ আলী, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল কাসেম, জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা সম্পাদিকা এডভোকেট শাহানা রব্বানী, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি হাজী আবুল কালাম ও জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি সিরাজুর রহমান সিরাজ। ইতিমধ্যে তারা দলীয় মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন।
জানা যায়, আওয়ামীলীগের দূর্গ হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জ -৩ আসন থেকে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় প্রয়াত নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ নৌকা প্রতিক নিয়ে একাধিকবার বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়াও এ আসনে থেকে জাতীয় সংসদের স্পীকার মরহুম হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী ও তারঁ ভাই ফারুক রশিদ চৌধুরী সংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৫ সালে আব্দুস সামাদ আজাদের মৃতে্যু পর তাঁর এ শুন্য আসনে উপ-নিবার্চনে ৪ দলীয় জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামার কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট মাওলানা শাহিনুর পাশা চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক যুগ্ন সচিব এম, এ মান্নানকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় নিয়ে বর্তমান এমপি এম, এ মান্নান ৪ দলীয় জোটের প্রার্থী এডভোকেট শাহিনুর পাশা চৌধুরীকে পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হন। এমপি এম, এ মান্নান নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন কাজে অবদান রাখলেও আগামী সংসদ নির্বাচনে তিনি ভোটের মাঠে অগ্নি পরীক্ষায় পড়তে পারেন বলে ভোটাররা জানিয়েছেন।
সৎ ও স্বচ্চ হিসেবে গত ৫ বছর নিজের ইমেজ ধরে রাখলেও আমলা প্রীতির কারনে এলাকার সাধারন মানুষের নিকট গ্রহনযোগ্যতা কমেছে বলে সচেতন মহল মনে করেন। দলীয় ত্যাগী নেতাকর্মী ও ভুক্তভোগী লোকজনের অভিযোগ, গত ৫ বছর স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে কাজে আসা লোকজন তাদের ন্যায্য কাজ আদায়ে নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে জগন্নাথপুর থানায় অসংখ্যা নিরপরাধ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে। এমননি এলাকার ভাল মানুষের কপালে চাদাবাজির তিলক গেলে। এ বিষয়ে স্থানীয় এমপি এম, এ মান্নানকে জানানো হলেও তিনি ছিলেন নিরব। এছাড়াও তারঁ নিবার্চনী প্রতিশ্রতি পাগলা- জগন্নাথপুর- রানীগঞ্জ-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ শেষ না হওযায় ও দীর্ঘদিন ধরে উপজেলাবাসীর একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম জগন্নাথপুর-সিলেট সড়কের কোন সংস্কার কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় উপজেলাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আগামী নিবার্চনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।
এদিকে আব্দুস সামাদ আজাদের মৃত্যুর পর পিতার শুন্য আসনে উপ-নির্বাচেন অংশ গ্রহনের আগ্রহ থাকলেও দলীয়ভাবে আওয়ামীলীগ নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় আজিজুস সামাদ ডন উপ-নিবার্চনে প্রার্থী হননি। গত নির্বাচনে কেন্দ্র থেকে বর্তমান সাংসদকে মনোনয়ন দেয়া হলেও হাল ছাড়েননি আজিজুস সামাদ ডন। পিতার মৃত্যুর পর থেকে আসনটি পূনর্রুউদ্ধার করতে নির্বাচনী এলাকার ঘরে ঘরে, মাঠে, প্রান্তে, চষে বেরাচ্ছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে থাকায় শক্ত অবস্থান তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেন।
তার সঙ্গে পৌর আওয়ামীলীগ, সহযোগি সংগঠনের তরুন নেতাকর্মীরা প্রকাশ্য প্রচার প্রচারনা অংশ নিচ্ছেন। তবে উপজেলা আওয়ামীলীগের দায়িত্বশীল নেতারা তাঁর সঙ্গে প্রচারনায় অংশ না নেওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। তারা সাংসদ এম, এ মান্নানের উন্নয়নমূলক সভা সমাবেশে যোনদান করে আসছেন। সম্প্রতিকালে দেখা গেছে মান্নান ও ডনের সমর্থনা পৃথক পৃথকভাবে বিভিন্ন কর্কসূচী চালিয়ে যাচ্ছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম জানান, জগন্নাথপুরের মাঠি আওয়ামীলীগের ঘাটি। কেন্দ্র থেকে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে আমরা তাকেই নির্বাচিত করতে পারবো ইন্নাআল্লাহ। মনোনয়ন নিশ্চিত হয়ে গেলে দলে আর বিবাদ থাকবে না।
দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আজিজুস সামাদ আজাদ ডন জানান, বাবার মৃতে্যুর পর থেকেই নির্বাচনী মাঠে কাজ করছি। জগন্নাথপুর- দক্ষিন সুনামগঞ্জ বাসীর মানুষের আদর আর ভালবাসায় আমি অভিভূত হয়েই মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করে জমা দিয়েছি। ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এবারের নির্বাচন তোমার, মাঠে কাজ কর’ তাই আমি মাঠে আছি।
আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদরে সদস্য বর্তমান সাংসদ এম, এ মান্নান জানান, মনোনয়নের বিষয়ে নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দিবেন তা আমি মেনে নেব। নির্বাচনী এলাকার সাংগঠনিক নেতাকর্মীরা আমার সাথে রয়েছেন। মনোনয়ন পেলে এআসনটি আবারও নেত্রীকে উপহার দিতে পারব বলে বিশ্বাস করি।
Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close