অন্য পত্রিকা থেকে

সালমার স্বপ্নে এরশাদের ক্ষমতা

রিয়াজুল বাশার: অল্প দিনের মন্ত্রিত্বে কিছুটা হলেও কাজ করতে চান সালমা ইসলাম। নির্বাচনকালীন সরকারে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া বাংলা দৈনিক যুগান্তরের প্রকাশক মনে করেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করাটাই তাদের প্রধান কাজ।

শিল্পপতি স্বামী নুরুল ইসলাম বাবুলের কাজের স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা তার মনজুড়ে। আইন পেশা, সাংবাদিকতা চর্চার পর রাজনীতিতেও নিজের ভাল ভবিষ্যত দেখছেন ষাট পূর্তিতে আরো দু’বছর দূরে থাকা সালমা। আইন-সাংবাদিকতা-ব্যবসার মধ্যে সাবেক সেনানায়ক এইচ এম এরশাদের মনোনয়ন নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেন তিনি।

তিনি ভাবছেন, তার নেতা এরশাদের দিকেই এখন তাকিয়ে আছেন দেশের মানুষ। মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী যমুনা গ্রুপের পরিচালক সালমার সঙ্গে সম্প্রতি কথা হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

আমাদের প্রথম কাজটাই হচ্ছে বাংলাদেশে যে নির্বাচনটা হবে সেটা যেনো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। এখানে যাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি না হয় এবং প্রতিটি জায়গায় শান্ত ও সুন্দরভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করিয়ে দিতে পারাটাই আমার প্রথম অঙ্গীকার।

প্রশ্ন: বিএনপি নির্বাচনমুখী না হলে হরতাল সহিংসতা কীভাবে মোকাবিলা করবেন?

সালমা ইসলাম: আমিতো দেখছি, হয়তো সেনা নামানো হবে। যাতে সুন্দরভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। কোনো জায়গায় যাতে কারচুপি, গণ্ডগোল না হয়। প্রত্যেকে যাতে সুষ্ঠুভাবে ভোটটা দিতে পারে।

প্রশ্ন: বিএনপিকে নির্বাচনে আনার কোনো উদ্যোগ আছে আপনাদের?

সালমা ইসলাম: সবসময়ই…আজকের পেপারেও দেখলাম আমার নেতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সাহেব তাদেরকে নির্বাচনে আসার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। আমিও সেইসাথে বলবো, দেশকে বাঁচানোর জন্য প্রতিটি দলকেই এখন নির্বাচনে আসা উচিৎ। আমাদের গণতন্ত্রের জন্য এবং বাংলাদেশকে যাতে সুন্দর একটি দেশ হিসেবে এগিয়ে নিতে পারি সেজন্য তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা একান্ত দরকার এবং কর্তব্য।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া সালমা ইসলামের জীবনীতে দেখা যায়, তিনি জগন্নাথ কলেজে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৯৮-১৯৯৯ সালে ঢাকা বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে সাংস্কৃতিক সম্পাদক নিযুক্ত হন।

পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে ২০০৯ সালে জাতীয় পার্টির কোটায় সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য হন। তিনি বর্তমানে জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলিরও সদস্য। দলের চেয়ারম্যান এরশাদের মতোই তিনিও বিশ্বাস করেন, আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসবে।

প্রশ্ন: জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেছেন, আগামী নির্বাচনে তার দল ক্ষমতায় আসবে। আপনি এ নিয়ে কতটুকু আশাবাদী?

সালমা ইসলাম: যারা ভালো স্টুডেন্ট, তারা সবসময়ই কিন্তু আশা করে রেজাল্ট ভালো হবে। কখনো ভাবে না যে সে ফেইল করবে। আমি সে হিসাবে বলবো, নির্বাচন করলে উনি (এরশাদ) একটা ক্ষমতা পেয়ে যাবেন। জাতীয় পার্টিই ইনশাল্লাহ ক্ষমতায় আসবে।

কারণ দেশবাসী তার (এরশাদ) মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। উনি নয় বছর দেশ শাসন করেছেন। তার আমলে উন্নয়নমূলক কাজ অনেক হয়েছে। কালভার্ট হয়েছে, বড় বড় ব্রিজগুলো হয়েছে, জেলাগুলো তার আমলেই হয়েছে, বেড়িবাঁধ তার আমলেই হয়েছে, পান্থপথ তার আমলেই হয়েছে। এই যে সোডিয়াম বাতি, তিনিই করেছেন। বড় বড় রাস্তাঘাটগুলোও তিনিই করেছেন। রেমিটেন্স আসছে তার আমল থেকেই। তিনিই (এরশাদ) তো এতো সুন্দর দেশ রচনা করে গিয়েছেন।

এখন আনাচে, কানাচে, দোকানে, বড় বড় অফিসে, আদালতে, প্রতিটি জায়গায় সবাই বলেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সাহেব কোথায়, তাকেই দরকার। তুমিই আসো, তুমিই হাল ধরো। তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে, তাকে আমরা ক্ষমতায় দেখতে চাই।

প্রশ্ন: প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে কী কী কাজ করার ইচ্ছে আছে   

সালমা ইসলাম: আপনি হয়তো যুগান্তরে দেখবেন, আমি এলাকায় গিয়েছি, সেখানে কাজ করেছি। তবে স্বাধীনতার ৪২ বছর পরেও আমি দেখতে পেয়েছি গ্রাম-গঞ্জে সেভাবে উন্নয়ন কিছু হয়নি। রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা। বিদ্যুৎ নেই। এতো কষ্ট, এতো করুন, অথচ আমরা স্বাধীন। আমরা স্বাধীনতা পেয়েও সব জায়গায় সঠিকভাবে কাজ করতে পারিনি। আমি অল্প দিনের জন্য এসেছি। একদিকে মন্ত্রণালয় অন্যদিকে নির্বাচন। এর ভিতরেও আমি চেষ্টা করবো আমার এলাকায় কিছু গরীব, যারা স্বাবলম্বী নয়, প্রশিক্ষণ দিলে ওরা কিছু করে খেতে পারবে।

যে ক’দিন আছি, মন্ত্রণালয়ে যারা আছেন তাদের বলে দিয়েছি, বাংলাদেশে কিছুটা কাজ যেনো আমার হাত দিয়ে হয়, আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন। অলরেডি অনেক কাজ আমাকে দিয়ে হচ্ছে। এরমধ্যে কয়েকটা কাজের ডিসিশন নিয়ে নিয়েছি।

প্রশ্ন: ভবিষ্যতে কি মন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছে আছে?

সালমা ইসলাম: আমি আইনজীবী হিসেবে ১৮ বছর আদালত প্রাঙ্গণে কাজ করেছি। সেখানে আমি অনেককে জামিন করিয়েছি। তারপর চলে এলাম যুগান্তরে। তখন থেকেই প্রকাশক ছিলাম, এরপর আমি সম্পাদক হয়েছি। পাশাপাশি যমুনা গোষ্ঠীর আমিও একজন পরিচালক। সেখানে ৩০ থেকে ৩২টি প্রতিষ্ঠান, সেখানেও আমি পরিচালনা করে থাকি। পাশাপাশি আমাদের নেতা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ তিনিই আমাকে এমপি করেছেন। এখন সরকার আমাকে এই মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী করে।

তারপর কোথায় গিয়ে শেষ হবে আমি জানি না। আমি একটার পর একটা করেই যাচ্ছি। আমার ইচ্ছা জনগণের সেবা করবো। জনগণের পাশে থাকবো। দেশে শিল্প স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য নুরুল ইসলাম বাবুলকে পুরস্কার দেয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

সৌজন্য: বিডিনিউজ২৪

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close