আলোচিতরাজনীতি

বিজয় অর্জন না হওয়া পর্যন্ত বিএনপির সংগ্রাম চলবে

শীর্ষবিন্দু নিউজ: মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সরকারের মন্ত্রীদের কেউ কেউ পর্দার আড়ালে সংলাপের কথা বলছেন বলে অভিযোগ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। সমঝোতার বিষয়ে সরকারের কোনো আন্তরিকতা নেই বলেও তিনি দাবি করেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এই দাবি করেন।

ফখরুল বলেন, রাজনৈতিক সংকট নিরসন করতে হলে তফসিল স্থগিত করে সরকারকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যেতে তাঁরা অঙ্গীকারবদ্ধ। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৮-দলীয়  জোটের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার,  ভোটের অধিকার রক্ষার এই সংগ্রামে বিএনপির প্রতিটি  নেতাকর্মী বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত সংগ্রামে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

মির্জা আলমগীর বলেন, আজ অন্যান্য রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনসহ সমগ্র জাতি সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই বিষয়ে একমত। আর সে জন্যই নির্বাচনকালীন সময়ে নিরপেক্ষ-নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য গ্রাম-গ্রামান্তরে, নগরে-বন্দরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। তথাকথিত প্রহসনের নির্বাচনে বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নেয়নি। এতে প্রমাণিত হলো, বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ এই প্রহসনের নির্বাচন  মেনে নেবে না। অথচ সরকার এবং আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে চায়।

অজ্ঞাত স্থানে থাকা মির্জা ফখরুল বিবৃতিতে বলেন, সরকারের মন্ত্রীদের কেউ কেউ বলছেন, পর্দার অন্তরালে সংলাপ চলছে। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই অনৈতিক ও বেআইনি সরকার কোনো সমঝোতা চায় না। সমঝোতার বিষয়ে তাদের কোনো আন্তরিকতা নেই। জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্যই তারা এই তথাকথিত সংলাপের কথা বলছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। একই কারণে সরকারের এজেন্টরা ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও ভিত্তিহীন গুজব ছড়াচ্ছে বলে দাবি করেন বিএনপির এই নেতা।

মির্জা আলমগীর বলেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য গ্রাম-গ্রামান্তরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। তথাকথিত প্রহসনের নির্বাচনে বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল অংশ নেয়নি। এতে প্রমাণিত হলো, দেশের বেশির ভাগ মানুষ এই নির্বাচন মেনে নেবে না। তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসন করতে হলে এই নির্বাচনী তফসিল স্থগিত করে সরকারকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। গণবিরোধী আওয়ামী লীগ সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে নিয়ে আসার হীন উদ্দেশে প্রহসনের একতরফা নির্বাচনকে প্রতিহত করার জন্য বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী বীর জনগণ যখন রাস্তায় নেমে এসে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলেছে, তখনই সরকার এবং সরকারের এজেন্টরা সে আন্দোলনকে বিপথগামী ও বিভ্রান্ত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। মির্জা আলমগীর বলেন, একই কারণে তাদের এজেন্টরা মিডিয়া ও  সোস্যাল মিডিয়ায় ভিত্তিহীন গুজব ছড়াচ্ছে। সরকার প্রতি মুহূর্তে দুর্বল হচ্ছে বলেই তাদের এজেন্টরা এসব বানোয়াট গুজবের আশ্রয় নিচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকামী মানুষের এই আন্দোলন কখনই বৃথা  যেতে পারে না। আন্দোলনে ইতোমধ্যে এই বর্বর সরকারের নিষ্ঠুর নির্যাতনের কবলে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান মির্জা আলমগীর। যারা আহত হয়েছেন, তাদেন দ্রুত আরোগ্য কামনা করে গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি ও সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ্ জনগণের বিজয় অর্জিত হবেই।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close