অর্থনীতি

রাজনৈতিক অস্থিরতায় সংকটে ব্যাংক: শুক্রবার খোলা থাকবে ব্যাংক

শীর্ষবিন্দু নিউজ: সারা দেশ জুড়ে চলমান সহিংসতা, হরতাল ও অবরোধসহ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসায়ীরা ঋণের কিস্তি ঠিকমতো পরিশোধ করতে না পারায় সংকটে পড়েছে দেশের ব্যাংক খাত। এর ফলে ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যাংকারা। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে শুক্রবার ব্যাংক খোলা থাকবে ছটির দিন শুক্রবার।। গ্রাহকদের লেনদেনের জন্য এই দিন খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হযেছে।

চলমান অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার এক বৈঠকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত না করার পাশাপাশি তাদের ঋণের সুদ স্থগিত রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বছরের শেষ মাস ডিসেম্বর ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণ আদায়ের মাস হলেও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে এই মাসে ঋণের কিস্তি আদায় খুব বেশি ভাল হবে না বলে আশঙ্কা করছেন ব্যাংকাররা।

তারা বলছেন, নভেম্বর মাসেই বিভিন্ন ব্যাংকের পাঁচ থেকে ১০ শতাংশ গ্রাহক তাদের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারেননি। অনেকে কিস্তির পুরো টাকা না দিয়ে আংশিক পরিশোধ করছেন। ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির ভাইস চেয়ারম্যান ও পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহমেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, অনেক গ্রাহকই ঋণের কিস্তি দিতে পারছেন না। কেউ কেউ কিস্তির পুরো টাকা না দিয়ে কিছু কম দিচ্ছেন। এর ফলে ব্যাংকগুলোর খেলাপী ঋণে বাড়তে পারে। অনিশ্চিত পরিবেশ ও পরিবহন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এমন হচ্ছে বলে মনে করেন এই ব্যাংকার।

ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, গত কয়েক মাসের বিক্ষোভ, হরতাল ও অবরোধে দেশের অর্থনীতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পচনশীল পণ্যের উৎপাদক ও ব্যবসায়ী, রপ্তানিকারক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পরিবহন ব্যবসায়ীরা। এসব ব্যবসায়ীর এখন ব্যাংকের সুদ ও কিস্তি পরিশোধ করার সামর্থ্য নেই। এফবিসিসিআই সভাপতি আরো বলেন, সেজন্য আমরা আজ (মঙ্গলবার) সাধারণ সভা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত না করার পাশাপাশি তাদের ঋণের সুদ স্থগিত রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করবো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ গণমাধ্যমকে বলেন, সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সব খাতই সমস্যায় পড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ও আদায়ে। বেসরকারি খাতের ঋণ বিতরণ ও আদায় দুটোই কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৪২ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বিলে ব্যাংকগুলোর দেওয়া ঋণের পরিমাণ ১৯ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা।  এছাড়াও একলাখ ৩৯ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে ব্যাংকগুলোর, যার মধ্যে ব্যাংকের নিজস্ব সম্পদও রয়েছে।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close