Featuredজাতীয়

দ্রুততম সময়ে কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর

শীর্ষবিন্দু নিউজ: জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এখন শুধু রায় কার্যকর হওয়ার অপেক্ষা। যা নির্ভর করছে সরকারের ওপর।

রায়ে বলা হয়েছে, আবদুল কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডই একমাত্র যথার্থ শাস্তি। তার অপরাধসমূহ এতই পৈশাচিক যে, মৃত্যুদণ্ড ছাড়া কোন সাজাই তার জন্য পর্যাপ্ত নয়। একমাত্র মৃত্যুদণ্ডই তার প্রাপ্য। তার অপরাধের ফলাফল সমস্ত জাতিকে অনন্তকাল বয়ে বেড়াতে হবে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বাংলাদেশের বাইরেও তার অপরাধসমূহ নির্লজ্জ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। রায়ে চার বিচারপতি কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে মত দেন। তারা হলেন- প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, বিচারপতি এস কে সিনহা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এবং বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করে রায় লিখেছেন বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞা। কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগের ৫টিতেই কোন প্রমাণ পাননি তিনি। ছয় নম্বর (হযরত আলী হত্যা) অভিযোগে কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং তাদের সহযোগীদের বর্বরতার কারণে আবেগতাড়িত হওয়ার যথার্থ কারণ থাকা সত্ত্বেও রাগ, বিরাগ এবং অনুরাগের ঊর্ধ্বে উঠে বিচারের কথা বলেছেন এই বিচারপতি।

তিনি বলেছেন, শপথ অনুযায়ী তিনি কেবল আইনের অনুসরণ করতে বাধ্য। গতকাল রায় প্রকাশের পরপরই কাদের মোল্লাকে কাশিমপুর কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসা হয়েছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেই যে কোন দিন তার ফাঁসি কার্যকর করা হতে পারে। আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর করা হবে। তিনি বলেন, আপিল বিভাগ থেকে রায়টি ট্রাইব্যুনালে যাবে। এরপর ট্রাইব্যুনাল ঢাকার জেলা প্রশাসক ও জেল কর্তৃপক্ষের কাছে রায় পাঠাবেন। আসামি পক্ষ থেকে কাদের মোল্লার রিভিউ দায়েরের কথা বলা হলেও ভারপ্রাপ্ত এটর্নি জেনারেল এম কে রহমান বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস আইনে রিভিউ দায়েরের কোন সুযোগ নেই। তাই কাদের মোল্লা রিভিউ দায়েরের সুযোগ পাবেন না।

তিনি বলেন, আইনে রায় কার্যকরের এখতিয়ার দেয়া হয়েছে সরকারকে। সরকারের আদেশে এ রায় কার্যকর করা হবে। এ রায় কখন কার্যকর হবে তা নির্ধারণ করবে সরকার। যদিও কাদের মোল্লার আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক দাবি করেছেন রিভিউ দায়ের কাদের মোল্লার সাংবিধানিক অধিকার। তিনি বলেন, সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ দায়েরের অধিকার সবার আছে। কাদের মোল্লার ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হবে। রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আমরা রিভিউ আবেদন দায়ের করবো। গত ১৭ই সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যুদ্ধাপরাধ মামলায় আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। এর আগে গত ৫ই ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালের রায়ে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। ওই রায়ের পর তার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। সে সময় আইনে সাজার রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল দায়েরের কোন সুযোগ ছিল না। পরে আইন সংশোধন করে সরকারকে আপিল দায়েরের সুযোগ দেয়া হয়।

প্রকাশিত হওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, কাদের মোল্লার এ বর্বর অপরাধ মানবজাতির বিবেককে দারুণভাবে আহত ও স্তম্ভিত করে। এই কারণেই ৬ নম্বর অভিযোগে কাদের মোল্লাকে দেয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজার ট্রাইব্যুনালের রায় বিবেচনাপ্রসূত হয়নি এবং সাজা প্রদানের নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের ৩ নম্বর সাক্ষী এই ঘটনার স্বাভাবিক সাক্ষী এবং এ ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষ সাক্ষী, যাকে পক্ষপাতদুষ্ট সাক্ষী বলা যায় না। এই অপরাধের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডই কাদের মোল্লার একমাত্র যথার্থ দণ্ড।

বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী তার রায়ের অভিমতে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার অপরাধসমূহ এতই পৈশাচিক যে, মৃত্যুদণ্ড ছাড়া পৃথিবীর  ফৌজদারি আইনের পুস্তকে নির্ধারিত কোন সাজাই তার জন্য পর্যাপ্ত নয়। একমাত্র মৃত্যুদণ্ডই তার প্রাপ্য। তার কৃত কর্মের কারণে যে দুর্বিষহ ব্যথা-বেদনা ভুক্তভোগী এবং তার আত্মীয় পরিজনরা এমনকি গোটা সমাজ যা আজও বহন করছে, তার কোনই প্রতিকার নেই। তার অপরাধসমূহ একমাত্র একটি অসুস্থ মস্তিষ্কই চিন্তায় আনতে পারে। তার অপরাধের ফলাফল সমস্ত জাতিকে অনন্তকাল বয়ে বেড়াতে হবে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বাংলাদেশের বাইরেও তার অপরাধসমূহ নির্লজ্জ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। জীবন নিশ্চিতভাবে মহামূল্যবান। একই কারণে মৃত্যুদণ্ডকে কোন অবস্থায়ই খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। সচরাচর মৃত্যুদণ্ড প্রদান করাও কোন অবস্থায় যৌক্তিক নয়।

কিন্তু যে ক্ষেত্রে একজন অপরাধী এমন অপরাধ সংঘটন করে থাকে যার ফলাফল অত্যন্ত সুদূরপরাহত হয় এবং যার কারণে গোটা সমাজে ঘৃণার উদ্রেক হয়- সে অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড ছাড়া আর কোন সাজা দেয়া যেতে পারে? বর্তমান আপিলকারী আবদুল কাদের মোল্লাও তেমনি বেশ কিছু অপরাধ করেছেন। যার ফলাফল বিস্তৃতভাবে অনন্তকাল ধরে গোটা সমাজকে তার অপরাধের ব্যথা বহন করতে হবে। তার অপরাধসমূহ ১৯৭১ সালকে সারা বিশ্ববাসীর জন্য একটি গণধিকৃত সাল হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।

আদালত রায়ে বলেন, সাফাই সাক্ষ্য দিতে গিয়ে আপিলকারী আবদুল কাদের মোল্লা এই মর্মে বক্তব্য দিয়েছেন যে, তিনি ১৯৭১ সালে তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক দল হিসেবে যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল এবং তারা যে পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য নিবেদিত ছিল, তা সর্বজনস্বীকৃত। এটাও স্বীকৃত যে, কাদের মোল্লা শুধু ১৯৭১ সাল এবং এর পূর্বকালেই নয় বরং পরবর্তীকালে জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পরেও ১৯৭৯ সালে সেই দলের নেতৃত্বে ছিলেন। এ অবস্থায় তার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের দাবি শুধু অবান্তরই নয়, কাল্পনিকও বটে। এই দাবি তুলে তিনি তার সাফাই সাক্ষ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য করে দিয়েছেন।

৬ নং অভিযোগ নামায়, যে অপরাধসমূহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং যা সাক্ষ্যপ্রমাণে নিরঙ্কুশভাবে প্রমাণ হয়েছে তা সত্যি হৃদয়বিদারক। পৃথিবীর যে কোন বিবেকবান মানুষের বিবেককে তা নাড়া দিতে বাধ্য। আপিলকারী কাদের মোল্লার নেতৃত্বে যে দস্যুবাহিনী হযরত আলী লস্করের পরিবারের ওপর ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড এবং তার নাবালিকা কন্যাদের ওপর ধর্ষণের কাহিনী প্রতিটি মনকে কাঁদাতে বাধ্য। কোন নরপিশাচ দানব ছাড়া এ ধরনের কর্মকাণ্ড কারও দ্বারা সম্ভব নয়। বিচারপতি শামসুদ্দিন রায়ে বলেন, কবি মেহেরুন্নেসার পরিবারের সদস্যদের হত্যার জন্য আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত হওয়া উচিত। কিন্তু যেহেতু এক ব্যক্তিকে দু’বার ফাঁসি দেয়া যায় না সেহেতু শুধু ৬ নম্বর অভিযোগ নামার জন্য তার ফাঁসির আদেশ দেয়া হলো। রায়ে আরও বলা হয়, জীবন মহামূল্যবান বিধায় মৃত্যুদণ্ড দেয়ার পূর্বে পুরো বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হয়েছে।

এ বিষয়ে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট, আমেরিকান সুপ্রিম কোর্ট, আইকম্যানের সাজাদানকারী আদালতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মৃত্যুদণ্ড প্রদানকারী রায় বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। ভারতের আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড প্রদান করার বিধান থাকলেও সেখানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে প্রাধান্য দিতে হয়, সেখানে মৃত্যুদণ্ড তখনই দেয়া হয় যখন সেটিই একমাত্র উপযুক্ত সাজা বিবেচিত হয়। এই নীতি অনুসরণ করে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট আজমল কাসাভের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখার সময় বলেছিলেন, কোন কোন পরিস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড ছাড়া আর কোন সাজা যথোপযুক্ত হতে পারে না। আইকম্যানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার সময় প্রথমে বিচারিক আদালত, পরে সর্বোচ্চ আদালত একই মন্তব্য করেছিলেন। ১১জন মানবতাবিরোধী অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার সময় নুরেমবার্গের মার্কিন সামরিক আদালতও একই মন্তব্য করেছিলেন। এদের মধ্যে কয়েকজন আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে রিট মামলা করলেও সেই আদালত মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করেনি। এখনও পৃথিবীর অনেক দেশে মৃত্যুদণ্ড বিরাজমান রয়েছে।

তবে অত্যন্ত ন্যক্কারজনক অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়ে থাকে। কাদের মোল্লার অপরাধসমূহ একই ধরনের ন্যক্কারজনক। বিচারপতি চৌধুরী রায়ে আরও বলেন, ১৯৭১ সালে হত্যাযজ্ঞ এবং গণধর্ষণ নিয়ে বিশ্ব মিডিয়াতে সে সময় বহু সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। যার মধ্যে দৈনিক টেলিগ্রাফের সাইমন ড্রিং, টাইমস পত্রিকার পিটার হেজেলহার্স্ট, পাকিস্তানি সাংবাদিক এন্থনি মাসকারনহাসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাদের বিবরণী সেদিন বহুজনকে কাঁদিয়েছিল। ধর্ষিতা নারীর যে সংখ্যা সচরাচর উল্লেখ করা হয়ে থাকে, তা নিতান্তই একটি রক্ষণশীল সংখ্যা। বিচারপতি এস কে সিনহা তার রায়ে বলেন, সরকারের দায়ের করা আপিল রক্ষণযোগ্য। ৪ নম্বর অভিযোগ থেকে কাদের মোল্লাকে অব্যাহতির ট্রাইব্যুনালের আদেশ বাতিল করে এই অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হলো। ৬ নম্বর অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ বাতিল করে তার বদলে কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হলো। ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেয়া হয়।

অপরদিকে, ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে কাদের মোল্লার দায়ের করা আপিল খারিজ করা হলো। আদালত রায়ে বলেন, কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় প্রদানের সময় ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, সাজার দণ্ডে অপরাধের মাত্রা এবং অপরাধীর দায়ের মাত্রার প্রতিফলন ঘটতে হবে। অপরাধের মাত্রা যদি কাদের মোল্লার সাজার ভিত্তি ধরা হয়, তাহলে অভিযোগ নম্বর ৬-এর ক্ষেত্রে কাদের মোল্লাকে সর্বোচ্চ দণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে উপযুক্ততম মামলা যেখানে হত্যা এবং ধর্ষণ ছিল বর্বরোচিত, ঠাণ্ডা মাথার ও নিষ্ঠুরতম। এই অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় এই মামলায় যদি ট্রাইব্যুনাল সর্বোচ্চ সাজা না দেয় তাহলে সর্বোচ্চ সাজা দেয়ার মতো অন্য কোন মামলা পাওয়া কঠিন হবে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ার ক্ষেত্রে এর মেয়াদ বলেনি ট্রাইব্যুনাল।  যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের  মেয়াদ বিষয়ে ১৯৭৩ সালের আইনে কোন বিধান নেই। দণ্ডবিধির ৫৭ ধারা উল্লেখ করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ ত্রিশ বছর বলে যুক্তি দেখানো হলেও ওই ধারায় কোথাও বলা হয়নি যে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ ত্রিশ বছর।

তাই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদেরকে তাদের স্বাভাবিক জীবন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখতে কারা কর্তৃপক্ষ বাধ্য, যদি না ওই দণ্ডিতরা ভাল আচরণের জন্য কোন রেয়াত না পায়। রায়ে বিচারপতি এস কে সিনহা বলেন, ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছে, আদালতের কাজে বিশ্বাসযোগ্য একমাত্র সাক্ষীও সাজা দেয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট। এক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল রাষ্ট্রপক্ষের ৩ নম্বর সাক্ষীকে ৬ নম্বর অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে একমাত্র সাক্ষী বিবেচনায় এনেছে। ট্রাইব্যুনাল এক্ষেত্রে ভুল করেছে। কারণ, রাষ্ট্রপক্ষের ৩ নম্বর সাক্ষী ছাড়াও রাষ্ট্রপক্ষের ১, ২, ৪, ৭ এবং ৯ নম্বর পারিপার্শ্বিক সাক্ষী রাষ্ট্রপক্ষের ৩ নম্বর সাক্ষীকে সমর্থন করেছে। তাদের সাক্ষ্য ১৯৭০ সালের নির্বাচন থেকে কাদের মোল্লার এই অপরাধ সংঘটনের অসৎ উদ্দেশ্য সমর্থন করে। তার এই অসৎ উদ্দেশ্য থেকে এটি পরিষ্কার যে, কাদের মোল্লা এ অপরাধ করেছিল।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close