Featuredজাতীয়

নির্বাচনকালীন সরকারে হাসিনার না থাকাই সমাধান

শীর্ষবিন্দু নিউজ: শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সংকটের অবসান হতে পারে বলে মনে করছেন তার সরকারের শরিক নেতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। গত ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও পরদিন নাটকীয়ভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। পরদিন তিনি নির্বাচনকালীন সরকারে থাকা দলীয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টাদের পদত্যাগ করতে বলেন।

রোববার বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ বলেন,  শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদে না থাকলে বিএনপি নির্বাচনে আসতে পারে। কারণ বিএনপির আশঙ্কা নির্বাহী ক্ষমতা শেখ হাসিনার হাতে থাকলে নির্বাচনে কারচুপি হতে পারে। বিএনপি নির্বাচনে না এলে জাতীয় পার্টিও যে যাবে না- সাক্ষাৎকারে এটাও স্পষ্ট করেছেন সাবেক এই সেনাশাসক। অবশ্য ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এখনও মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত এরশাদ তাদের সঙ্গেই থাকবেন, নির্বাচনেও অংশ নেবেন।

এ বিষয়ে বিবিসি বাংলার প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, বিএনপির ভেতরে ভেতরে অনেকেই নির্বাচনে আসতে চাইছিলেন এবং অনেকে গ্রামে গঞ্জে প্রচারও চালাচ্ছিলেন। এ থেকে এরশাদের ধারণা হয়েছিল বিএনপি হয়তো শেষ মুহূর্তে নির্বাচনে আসতে পারে। আর সেই আশাতেই তিনি নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেন, যাতে সরকার পরিবর্তনের একটি সুযোগ তৈরি হয়।

এরশাদকে উদ্ধৃত করে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, এটা সরকারের উইশফুল থিংকিং। গত চার বছর ধরেই আমি বলে আসছি আমি এককভাবে নির্বাচন করব। আমি কারো ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হব না। তবে নির্বাচনে যাওয়া এবং নির্বাচনকালীন সরকারে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে কোনো শর্ত থাকার কথা বিবিসির সাক্ষাৎকারে অস্বীকার করেছেন এরশাদ।

তিনি বলেন, বিএনপি প্রধান বিরোধী দল। তাদের ছাড়া নির্বাচন হলে সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না। অশান্তি বন্ধ হবে না। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে জানিয়েছে, শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রেখেই ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৫ জানুয়ারি ভোট করবে তারা। অন্যদিকে বিরোধী দল বিএনপি এই নির্বাচন প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে টানা আন্দোলন চালিয়ে আসছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় গত তিন সপ্তাহে নিহত হয়েছে অর্ধশতাধিক মানুষ।

এরশাদ বলেন, আন্দোলন চলতে থাকবে। মানুষ মরতেই থাকবে। মানুষ জ্বলে মরতে থাকবে। এই অবস্থায় নির্বাচন করা কোনোভাবেই সমীচীন হবে না। এরশাদের ভাষায়, এখন নির্বাচনের পরিবেশ নেই। এই পরিস্থিতিতে তার দল নির্বাচন করবে না – তার এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত এবং এ নিয়ে কোন বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়। নির্বাচনকালীন সরকার থেকে জাতীয় পার্টির নেতারা ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন এবং পদত্যাগপত্রগুলো ডাকযোগে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে বলেও বিবিসিকে জানিয়েছেন তিনি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close