Featuredদুনিয়া জুড়ে

বিক্ষোভের উত্তালে ভাসছে ইউক্রেন

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইউ) সঙ্গে দৃঢ় কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের দাবিতে সরকারকে চাপ দেওয়ার জন্য ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বিক্ষোভ করছে হাজার হাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থী বিক্ষোভকারী।

বিক্ষোভকারীরা দাবি জানিয়েছে, ইউক্রেন যেন কোনোভাবেই রাশিয়ান কাস্টমস ইউনিয়নে যোগ না দেয়। গত রোববার বিক্ষোভকারীরা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়োনকোভিচের পদত্যাগ দাবি করে। প্রেসিডেন্ট ইয়োনকোভিচের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিলে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিঘ্নিত হতে পারে।

গত মাসে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়োনকোভিচের বৈঠকের পর থেকে এই আন্দোলন শুরু হয়। এই বৈঠকে পুতিন ইউক্রেনকে তাঁদের কাস্টমস ইউনিয়নে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। তবে পুতিন ও ইয়োনকোভিচ বৈঠকের পর ইউক্রেন রাশিয়ান কাস্টমস ইউনিয়নে যোগ দিচ্ছে কি না, সে বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয়নি। বর্তমানে রাশিয়ান কাস্টমস ইউনিয়নে রাশিয়া, কাজাখস্তান ও বেলারুশ রয়েছে। অনেক গণমাধ্যম থেকে বলা হচ্ছে, হ্রাসকৃত মূল্যে জ্বালানি সরবরাহ করতে রাজি হলে রাশিয়ান কাস্টমস ইউনিয়নে যোগ দিতে পারে ইউক্রেন। তা ছাড়া প্রতিবেশী দেশ দুটি নিজেদের মধ্যে চলে আসা জ্বালানি সরবরাহ-বিষয়ক বিরোধগুলোর সমাপ্তি চাইছে।

এ অবস্থায় বিক্ষোভকারীরা পদত্যাগের জন্য সরকারকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছে। শেভচেঙ্কো বুলেভার্দের অবস্থিত সোভিয়েত নেতা লেনিনের ভাস্কর্য বিক্ষোভকারীরা দড়ি দিয়ে টেনে নামিয়ে ফেলে। এরপর তারা লেনিনের ভাস্কর্যটিকে হাতুড়ি দিয়ে গুঁড়িয়ে ফেলে। বিবিসির প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ভাস্কর্যটি ইউক্রেন-রাশিয়ার ঐতিহাসিক সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত ছিল।

কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউলিয়া তিমোশেঙ্কো বিক্ষোভকারীদের সরকার পতনের আগ পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানান। তাঁর মেয়ে বিক্ষোভকারীদের জন্য দেওয়া তিমোশেঙ্কোর বক্তব্য পড়ে শোনান। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘হাল ছেড়ে দেবে না, পিছপা হবে না, ইউক্রেনের ভাগ্য এখন তোমাদের হাতে।’ বিরোধী দলের নেতা ওলেহ টিহনিবক বলেন, ‘এটি কোনো সাধারণ বিপ্লব নয়। এটি আমাদের মর্যাদা রক্ষার বিপ্লব।’ ২০০৪ সালে গণতন্ত্রের জন্য অরেঞ্জ বিপ্লবের পর ইউক্রেনের এটি সবচেয়ে বড় গণজমায়েত। এ অবস্থায় ইইউর পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান ক্যাথরিন অ্যাশটন রাজনৈতিক অবস্থা উন্নয়নের জন্য আগামী মঙ্গলবার ইউক্রেন যাচ্ছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close