Featuredগ্যালারী থেকে

আশা ও শঙ্কার দোলাচলে বিসিবি সভাপতি

গ্যালারী থেকে ডেস্ক: গতকাল (রোববার) জেনেছি গতকাল খেলেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। আজ (গতকাল)  খেলবে, কিন্তু শুনলাম খেলছে না। ট্যুরটাই বাতিল করে চলে যাচ্ছে। এটা নাকি ওদের বোর্ডের সিদ্ধান্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ড থেকে একটা চিঠি এসেছে। দেখে জবাব দেবো। সন্ধ্যার পর ফোন যাবে। ঠিক কিসের জন্য ওরা খেলবে না। কালকেও কোনো সমস্যা ছিল না। খেলাধুলা বন্ধ করে দেয়ার মতো পরিস্থিতি হয়েছে বলে মনে করি না। সব দল সাধারণত খেলাধুলাকে রাজনৈতিক সহিংসতার বাইরেই রাখে।’ গতকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান ক্যারিবীয় অনূর্ধ্ব ১৯ দলের চলে যাওয়া সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান এভাবেই তুলে ধরেন।

নাজমুল হাসান পাপর গতকাল আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জানুয়ারি মাসের মধ্যেই রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হবে বলে আমার বিশ্বাস। যত তাড়াতাড়ি আমাদের রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর হবে, ততই মঙ্গল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমি চিন্তিত না। এশিয়া কাপ এবং শ্রীলঙ্কা সিরিজ জানুয়ারি মাসে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ডিসেম্বরের মধ্যে এটা শেষ হয়ে যাবে। এরপর এটা চলার কথা না বা এভাবে চলতে পারে না। এরকম অস্থিরতা থাকলে বড় যে কোনো টুর্নামেন্টই হুমকির মধ্যে পড়বে।

শনিবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের হোটেলের সামনে বিস্ফোরণ ঘটে। তারই জের ধরে ৭ ম্যাচে ওয়ানডে সিরিজ  শেষ না করেই দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে অবিলম্বে তাদের ক্রিকেটারদের দেশে ফিরে যেতেও নির্দেশ দিয়েছে।

এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের চলে যাওয়ার কারণ সঠিক নয় বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, প্রথম প্রশ্ন হবে, কেন চলে যাচ্ছে তারা। খেলোয়াড়দের লক্ষ্য করে কিছু ঘটেছে কিনা। তাদের লক্ষ্য করে কিছু করা হয়নি যেটা নিয়ে তারা শঙ্কিত হতে পারে। দেশে অবরোধ-হরতাল চলছে, এরকম ককটেল ফুটতেই পারে যে কোনো জায়গায়। এখানে তো তাদের উদ্দেশ্য করে কিছু হয়নি। যে নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে তাতে তারা পুরোপুরি সন্তুষ্ট।

তবে পাপন তাদের চলে যাওয়ার যৌক্তিক কোন কারণ থাকলে বাধা হবেন না বলে জানিয়েছেন। কারণ, এ ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের উপর কোন কিছু এ মুহূর্তে হয়ে গেলে তা পরের সিরিজগুলোর উপর প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, যদি ওরা বলে আমাদের কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য, গাফিলতির জন্য ওরা চলে যাচ্ছে অবশ্যই এটাকে প্রতিরোধ করব। কিন্তু যদি বাইরের সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে। ওরা নাকি বাইরের এজেন্সিদের কথায় চলে যাচ্ছে দেশে। কারণ, বাংলাদেশের ব্যাপারে এখন ট্রাভেল এলার্ট দেয়া আছে। দেখতে হবে অযৌক্তিক কোনো কারণে চলে যাচ্ছে কিনা। আর যদি যৌক্তিকতা থাকে তাহলে না-ই হতে পারে খেলা। এ একটা খেলা খেলানোর জন্য সামনের গুরুত্বপূর্ণ খেলাগুলোকে হুমকির মুখে ফেলতে চাই না। সামনে অনেক খেলা আছে এটাই সবচেয়ে বড় কথা।

এর আগে গতকাল সকালে ক্রিকেট বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিইও) নিজামুদ্দিন সুজন বলেন, গত পরশু এ ঘটনা ঘটে। আমরা জানতে পারি তারা এ সিরিজ না খেলার ব্যাপারে আগ্রহী। তখন ঢাকা থেকে টিম গিয়েছে তাদের পুরো বিষয়টা বোঝানোর ব্যাপারে। আজ সকালে তাদের পক্ষ থেকে একটি প্রেস রিজিলের মাধ্যমে জানানো হয় যে তারা খেলবে না। আমরা চেষ্টা করবো যেন তারা এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসে। আমাদের পক্ষ থেকে রাতে সারাসরি ওদের সঙ্গে কথা বলা হবে। তখন সঠিক তথ্যটা জানা যাবে।

এছাড়াও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল যাওয়ার জন্য কোন ধরনের ফ্লাইট নির্ধারিত হয়নি বলেও জানান তিনি। সুজন বলেন, না, ওদের ফ্লাইট অ্যারেঞ্জ হয়নি। ওদিকে জানা গেছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বাকি খেলাগুলো ঢাকায় আয়োজনের। এতে তারা রাজি হলে সিরিজের বাকি খেলাগুলো ঢাকায় হতে পারে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close