দুনিয়া জুড়ে

ম্যান্ডেলা স্মরণ সভায় লাখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকার এফএনবি স্টেডিয়াম। লাখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা সমবেত হয়েছেন তার প্রিয় নেতা, সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলাকে শেষ বিদায় জানাতে। নেলসন ম্যান্ডেলা তার জীবদ্দশায় যেমন, ঠিক তেমনই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শত্রু-মিত্রকে এক করে দিলেন। তারই প্রমাণ গতকালের এ ঐতিহাসিক সমাবেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার সাধারণ মানুষ যেমন তাকে স্মরণ করতে, শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হয়েছিলেন তেমনি বিশ্বের বাঘা বাঘা রাজনীতিক সমবেত হয়েছিলেন।

তাদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ, ছিলেন কিউবার রাউল ক্যাস্ত্রো। এদিন নেলসন ম্যান্ডেলাকে ‘ইতিহাসের এক জায়ান্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন বারাক ওবামা। দৃপ্তকণ্ঠে তিনি ঘোষণা করেন বিংশ শতাব্দীর মহান স্বাধীনতার এক বীরকে আমরা হারিয়েছি। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী এ মহান পুরুষ গত বৃহস্পতিবার ৯৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আগামী ১৫ই ডিসেম্বর তাকে তার নিজ গ্রামে সমাহিত করার কথা।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় এফএনবি স্টেডিয়ামে যে পরিমাণ আন্তর্জাতিক নেতার সমাবেশ ঘটেছিল, সাধারণ মানুষের যে সমাবেশ ঘটেছে তাতে এটা হয়ে থাকবে ইতিহাসে বিরল হয়ে। এক সময়ে ধারণা করা হয়েছিল, প্রচণ্ড বৃষ্টির কারণে লোকজন স্টেডিয়াম ত্যাগ করবে। কিন্তু নেলসন ম্যান্ডেলার প্রতি তাদের ভালবাসা এতই প্রবল যে তাদের কাছে পরাজিত হয়েছে বৃষ্টি। অনুষ্ঠানের সূচনা করেন সাইরিল রামাফোসা। তিনি বলেন, নেলসন ম্যান্ডেলার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়া হয়ে গেছে। এখন তাকে শান্তিতে থাকতে দিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, উচ্চ প্রশংসার অধিকারী এমন কোন ব্যক্তিকে বিদায় দেয়া খুবই কঠিন। তার মতো ইতিহাসের একজন জায়ান্টকে বিদায় জানানো কঠিন। তিনি একটি জাতিকে ন্যায়পরায়ণা এনে দিয়েছেন। নেলসন ম্যান্ডেলার মতো কাউকে আমরা আর দেখতে পাবো না। আমি মাদিবার থেকে অনেক পেছনে পড়ে আছি। তিনি আমাকে একজন উন্নত মানুষ হতে শিখিয়েছেন। বক্তব্য দিতে উঠেই বারাক ওবামা হ্যান্ডশেক করেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তিক্ত রাজনৈতিক সম্পর্কের দেশ কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ত্রোর সঙ্গে। এটা এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা।

ওবামাসহ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ও তাদের স্ত্রীরা প্রিটোরিয়ার ওয়াটারক্লুফ বিমানঘাঁটি থেকে স্টেডিয়ামে পৌঁছান। এ সময় প্রচণ্ড সৃষ্টির মধ্যেও নেচে গেয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেন হাজার হাজার দক্ষিণ আফ্রিকাবাসী। ম্যান্ডেলার মৃত্যুর পর থেকে কিছুটা আকস্মিকভাবেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিসহ জোহানেসবার্গের আকাশ ছেয়ে থাকতে দেখা গেছে কালো মেঘে। আফ্রিকার প্রাচীন বিশ্বাস অনুযায়ী, এ মেঘ-বৃষ্টি হচ্ছে শ্রদ্ধেয় কোন ব্যক্তির বিদায়লগ্ন এবং পরোলোকে তাকে পূর্বসূরিদের সাদরে বরণ করে নেয়ার লক্ষণ।

তাই বৃষ্টিভেজা এ আবহাওয়ার মধ্যেও স্টেডিয়ামের পরিবেশ দেখা গেছে প্রাণবন্ত। সাদা কালো সব মানুষই পতাকা উড়িয়ে, ভুভুজেলা বাঁশি বাজিয়ে নেচে গেয়ে স্মরণ করেছে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ম্যান্ডেলার দীর্ঘ সংগ্রামের দিনগুলোকে। আরও একবার সবার মুখে মুখে ফিরছে তার প্রশংসাবাণী।

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close