রাজনীতি

সমঝোতা হলেও এবার নয়: পরের নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ দেখা যেতে পারে

শীর্ষবিন্দু নিউজ: দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সুযোগ নেই মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের দুই প্রভাবশালী নেতা বলেছেন, এখন আলোচনা হতে হবে একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে। নির্বাচন বাতিলের দাবিতে বিরোধী দল বিএনপির চতুর্থ দফা অবারোধ এবং সংকট উত্তরণে প্রধান দুই দলের আলোচনার মধ্যেই ক্ষমতাসীনদের তরফ থেকে এমন বক্তব্য এলো।

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, মহাজোট সরকার দ্বিতীয় ম্যান্ডেট পেয়ে গেছে। দশম সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাও হয়ে গেছে। একাদশ জাতীয় সংসদের জন্য আলোচনা করতে হবে। যদি মধ্যবর্তী নির্বাচনের যৌক্তিকতা থাকে, তবে আলোচনা করব। সকলে মিলে নতুন বাস্তবতা মেনেই আলোচনায় বসা প্রয়োজন।

একইদিন মঙ্গলবার সকালে সেতু ভবনে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, যেহেতু তফসিল হয়ে গেছে, নির্বাচন প্রক্রিয়াও অনেক দূর এগিয়ে গেছে, সেহেতু এখন সমঝোতা হলেও বিএনপির দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ নেই। সমঝোতা যদি হয়, তা হবে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য হতে পারে। দুই দলের আলোচনায় নতুন কোনো অগ্রগতি হয়েছে কি-না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, অগ্রগতি তো অবশ্যই হয়েছে। তবে এখনো সমাধান হয়নি। আলোচনা যতো এগিয়ে যাবে সমাধানও ততো নিকটে আসবে। এ সময় বিরোধীদলের আন্দোলনেরও সমালোচনা করেন যোগাযোগ মন্ত্রী।

আগামী ৫ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ নির্ধারিত থাকলেও প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনে এলে তফসিল বদলাতে পারে বলে এর আগে ইংগিত দিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ। তবে গত শুক্রবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার পর তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের ‘কিছু করার’ বিষয়টি জটিল হয়ে যাচ্ছে।

দশম সংসদ নির্বাচনে মনোয়ন জমা দেয়ার সময় শেষ হওয়ার পর জাতিসংঘ মহাসচিবের দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর উদ্যোগে আলোচনায় বসেন দুই প্রধান দলের নেতারা। এরইমধ্যে তিন দফা বৈঠক করে তারা বলেছেন, দুই দলেরই কিছু প্রস্তাব আছে, যা নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা হবে।

গত ২৫ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ২৬ নভেম্বর থেকে তিন দফায় মোট ১৪ দিন অবরোধে সহিয়সতায় ৭৫ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। অবরোধে সহিংসতার জন্য সরকারকে দায়ী করে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সরকার ‘জনগণের দাবি’ মেনে নেয়ার ঘোষণা দিলেই কর্মসূচি স্থগিত করা হবে। ১৮ দলের বিরোধিতার মধ্যেই নির্বাচনে এগিয়ে চলছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নির্বাচন স্থগিত না করলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুমকি রয়েছে বিএনপির।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close