স্বদেশ জুড়ে

বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

শীর্ষবিন্দু নিউজ: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বিরোধী দলবিহীন নির্বাচনের প্রচারে নামার পর ভোটের আট দিন আগে শনিবার বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ৪৮ পৃষ্ঠার ইশতেহার ঘোষণা পাঠ শুরু হয়। ইশতেহারের আনুষ্ঠানিক পড়া শুরু করেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ ইশতেহার পড়তে…

মহাজোট সরকারের ৫ বছরের সাফল্যও তুলে ধরা হয়েছে ইশতেহারে। বিরোধী দলের অসহযোগিতা ও সংঘাতের রাজনীতি নিয়ে একটি পরিচ্ছদ রাখা হয়েছে ৪৮ পৃষ্ঠার ইশতেহারে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

২০২১ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, পরিকল্পিত ৩০ লাখ সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সহজলভ্য ও ব্যাপক করা হবে। এছাড়া রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি বলেন, এক হাজার তিনশ’ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নেয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে এবং এজন্য প্রয়োজনীয় কয়লা আমদানি করা হবে। ২০৩০ সালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের হিস্যা হবে প্রায় ৫০ শতাংশ।

দ্বিতীয় মেয়াদে সজনগণের খাদ্য নিরাপত্তা, অতি দরিদ্র ও দুস্থদের জন্য বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ, কাজের বিনিময়ে খাদ্য ও টেস্ট রিলিফ ছাড়াও একটি বাড়ি একটি খামার, আশ্রয়ন, গৃহায়ন, আদর্শ গ্রাম, গুচ্ছ গ্রাম, ঘরে ফেরা প্রভৃতি কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা।

এছাড়া বয়স্ক ভাতা, দুস্থ মহিলা ভাতা, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তাদের ভাতা অব্যাহত থাকবে বলে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে বলা হয়। শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় এবং জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনগণের ক্ষমতায়ন ও অধিকতর অংশগ্রহণের লক্ষ্যে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের সব জমির রেকর্ড ডিজিটালাইজড করার কাজ শেষ করা হবে। খাস জমি, জলাশয় এবং নদী ও সমুদ্র থেকে জেগে ওঠা জমি অগ্রাধিকারভিত্তিতে ভূমিহীন ও বাস্তুভিটাহীন হতদরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

বর্তমান কেন্দ্রীভূত প্রশাসনিক কাঠামোর গণতান্ত্রিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদের কাছে অধিকতর ক্ষমতা ও দায়িত্ব অর্পণ করা হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইন-শৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি স্তর বিন্যাসের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত করা হবে। ২০১৮ সালের মধ্যে সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পেনশন ব্যবস্থা প্রচলনের উদ্যোগ শুরু হবে এবং ২০২১ সালে সবার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি জাতীয় পেনশন ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হবে।

 

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের পৃথক বেতন স্কেল ও স্থায়ী বেতন কমিশন গঠন করা হবে। উচ্চশিক্ষার প্রসার এবং ভর্তি সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে তা অব্যাহত থাকবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যবস্থাকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি শিক্ষকদের দলাদলির কারণে শিক্ষা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশগুলো পুনর্মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।

নবম সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০০৮ সালে ১২ ডিসেম্বর ‘দিনবদলের সনদ’ শিরোনামে দলের নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেন শেখ হাসিনা, যা সেই সময় ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং ভোটে বিপুল বিজয় পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। ওই ইশতেহারে ‘রূপকল্প ২০২১ শিরোনামে বাংলাদেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছিল, যার মধ্যে অন্যতম ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

আওয়ামী লীগের দলীয় এ নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন কমিটিতে ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ উল আলম লেনিন, আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ও  সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অর্থনীতিবিদ আবুল বারাকাত প্রমুখ।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close