আরববিশ্ব জুড়ে

আরব বসন্তে প্রগতির স্বপ্ন আর আজকের অন্ধকারাচ্ছন্ন মধ্যপ্রাচ্য

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ২০১৩ সাল মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ছিল সিদ্ধান্ত গ্রহণের বছর। বাস্তবে এবছর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আরও বেশি সংঘাতের দিকেই এগিয়ে গেছে। তিন বছর আগে আরব বসন্তের সম্ভাবনাময় আবহ আর বর্তমান সময়ের অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য অনেক। বিশ্লেষকরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

ইন্টারনেটের প্রসার আর স্যাটেলাইট টেলিভিশনের বদৌলতে কিভাবে দমন-পীড়নের পুরোনো পন্থা অকেজো হওয়ার পথে সে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন তারা। নিষ্পেষণের উপর প্রগতিশীল গণতন্ত্রের অবশ্যম্ভাবী জয়ের বিষয়ে স্পষ্ট অভিমত প্রকাশ করেছিলেন। বাস্তবে তা হয়নি। ইরাক থেকে শুরু করে লিবিয়া পর্যন্ত সংঘাত বেড়েছে। সামনের বছরগুলোতে পরিস্থিতি উন্নয়নের তেমন লক্ষণ আছে তাও বলা যায় না। বরং সংঘাতের জন্ম দেয়া কয়েকটি তারিখ এখনও বিভীষিকাময় হয়ে আছে।

গত ৩রা জুলাই মিশরে সামরিক অভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে মুসলিম ব্রাদারহুড সমর্থকদের উপর ধারাবাহিক দমন- পীড়নে বিপর্যস্ত মিশরবাসী। হোসনি মোবারক প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন নিষ্পেষণের মাত্রাকেও হার মানিয়ে চলেছে বর্তমান পরিস্থিতি। প্রশ্ন আসে, এমন সংঘাতময় পরিস্থিতির অবতারণা করে সবকিছুর বিনিময়ে সরকারবিরোধী অভ্যুত্থান কতটুকু সফল হয়েছে?

গুরুভাগ নির্ভর করছে মিশরের সেনাবাহিনী দেশটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক সঙ্কটের হাল ধরতে কতটুকু সক্ষম হয় তার উপর। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হতে শুরু করে ২১শে আগস্টের পর থেকে যেদিন বাশার আল আসাদের সরকার দামেস্কে বিরোধী বিদ্রোহীদের উপর রাসায়নিক অস্ত্র হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক হস্তক্ষেপ করার এটাই ছিল মোক্ষম সময়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য উভয় দেশের নাগরিক জনমত ছিল সামরিক হামলার বিপক্ষে। তারা আর একটি ইরাক দেখতে চায়নি। এর অর্থ হলো প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সিরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বহাল থাকবে।

পশ্চিমা সহায়তা ছাড়া আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষমতা বিরোধী বিদ্রোহীদের নেই। ২০১৩ তে তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে জয়ী পক্ষ কারা? ইরাকে শক্তিশালী গোষ্ঠী হিসেবে গড়ে উঠেছে ৩ কোটি কুর্দি। তারা একটি স্বাধীন ইরাক প্রতিষ্ঠার খুব কাছাকাছি। একই সঙ্গে সিরিয়ার পটভূমিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী হয়ে উঠছে তারা। এ অঞ্চলের দেশগুলো এবং ইউরোপ- আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য দুঃসংবাদ হলো ২০১৩ সালে ইরাক ও সিরিয়ায় আল কায়েদার অঙ্গ সংগঠনগুলোই জয়ী। দজলা থেকে ভূমধ্যসাগর এলাকা পর্যন্ত এখন তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন। পশ্চিমা নেতৃবৃন্দ এখনও এ পরিস্থিতির গুরুত্ব আমলে নেননি।

সূত্র: টেলিগ্রাফ

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close