যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে

যুক্তরাষ্ট্রে দেবযানীকে হেনেস্তার পেছনে যিনি

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের সম্পর্কে টানটান উত্তেজনা সৃষ্টির পেছনে যিনি তার নাম সঙ্গীতা রিচার্ড। ৪২ বছর বয়সী এ নারী নিজেও ভারতের নাগরিক। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় তার বাড়ি। নিউইয়র্কে ভারতের কনস্যুলেট জেনারেলের ডেপুটি কনসাল জেনারেল দেবযানী খোবরাগাড়ের গৃহকর্মী হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। প্রতিশ্রুত বেতনের কম দেওয়া হচ্ছে মর্মে সঙ্গীতার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেফতার হন দেবযানী। এরপর ভারতীয় এই কূটনীতিককে গ্রেফতার, বিবস্ত্র করে তল্লাশি ও কারাগারে পাঠানোর জের ধরে দু’দেশের সম্পর্কে চরম উত্তেজনা দেখা দেওয়ার পর এখন তা শীতল।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেরালার সঙ্গীতা রিচার্ডকে গৃহকর্মী হিসেবে ২০১২ সালের নভেম্বরে নিয়োগ দেন দেবযানী। তার স্বামী ফিলিপ ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে মোজাম্বিক দূতাবাসে গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত। পত্রিকাটি আরও জানিয়েছে, সঙ্গীতার শ্বশুর ভারতে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে কর্মরত ছিলেন এবং শাশুড়িও কর্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

২০১৩ সালের ২১ জুন দেবযানীর নিউইয়র্কের বাসা থেকে উধাও হয়ে যান সঙ্গীতা। এরপর তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করা হয়। এ-৩ ক্যাটাগরির ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন সঙ্গীতা। অ-অভিবাসীদের অ্যাটেনডেন্ট,  কর্মী ও মূল ভিসাধারীদের পরিবারের সদস্যদের এ ধরনের ভিসা দেওয়া হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এ-৩ ভিসাধারীদের চলাচলের ব্যাপারে কোনো বিধিনিষেধ নেই। তবে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ‍বা ব্যক্তি যদি চাকরিচ্যুত করেন বা স্বেচ্ছায় তারা চাকরি ছেড়ে দেন তবে তারা আর যুক্তরাষ্ট্রের কোথাও কাজ করতে বা অবস্থান করতে পারেন না।

সঙ্গীতার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে দেবযানী অভিযোগ দায়ের করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নিউইয়র্কের পুলিশ বিভাগ থেকে তাকে বলা হয়, নিখোঁজের নিকটাত্মীয়রাই শুধু এ ব্যাপারে অভিযোগ ‍দায়ের করতে পারবেন, অন্য কেউ নয়। গত জুলাই মাসে মার্কিন প্রশাসন থেকে হঠাৎ করে দেবযানীকে ফোন করে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ ও অফিস অব ফরেন মিশনসে রিপোর্ট করতে বলা হয়।

নিউইয়র্কে দেখা হলে দেবযানীকে হুমকি দেন সঙ্গীতা। এ হুমকির পর নয়াদিল্লিতে সঙ্গীতা ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল ও হয়রানির মামলা দায়ের করেন দেবযানী। কিন্তু এদিকে বিদেশে দেবযানীর বিরুদ্ধে মামলা করা থেকে বিরত থাকতে সেপ্টেম্বরে সঙ্গীতাকে নির্দেশ দেন দিল্লি হাইকোর্ট।

দেবযানীর বোন শর্মিষ্ঠা খোবরাগাড়ের ফেসবুক পোস্ট থেকে সঙ্গীতা সম্পর্কে কিছু তথ্য জানা গেছে। শর্মিষ্ঠার দাবি, দেবযানীর কাছে খুব ভালই ছিলেন সঙ্গীতা। দেবযানীর সঙ্গে থেকে কাজ করাকে পছন্দ করতেন তিনি। দেবযানী তাকে ভালো বেতন দিতেন এবং বেতনের বাইরে অতিরিক্ত অর্থও দিতেন। দেবযানীর পরিবারের লোকজন যা খেতেন, সঙ্গীতাও তা খেতেন। বাড়িঘর সবকিছু দেখভাল করায় তাকে দেওয়া হয়েছিল পূর্ণ স্বাধীনতা। প্রতিদিন চলার জন্য প্রয়োজনীয় কেনাকাটাও সঙ্গীতা করতেন।

সঙ্গীতাকে আইফোনও দেওয়া হয়েছিল বলে নিজের ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করেছেন দেবযানীর বোন। শর্মিষ্ঠা বলেছেন, সঙ্গীতার পাসপোর্ট ও চুক্তির কাগজপত্র তার নিজের হেফাজতে ছিল, আমাদের কাছে ছিল না। সঙ্গীতাকে নিয়ে তার শাশুড়ির বক্তব্যও ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন শর্মিষ্ঠা। সঙ্গীতার শাশুড়ির বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফেরত আসতে চান না সঙ্গীতা। সঙ্গীতা বলতেন, আমি কেন ফেরত যাব? আমি জানি, ভারতে ফেরত গেলে আর যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারব না।

শর্মিষ্ঠা আরও বলেছেন, দেবযানীর সঙ্গে কাজকে করা পছন্দ করতেন বলে সঙ্গীতা নিজের ডায়েরিতেও লিখেছেন। শর্মিষ্ঠার দাবি, দেবযানীর প্রশংসা করে ওই ডায়েরিতে সঙ্গীতা লিখেছেন, ‘পুরো পরিবারটি খুবই ভালো। আমি তাদের গৃহকর্মী তা অনুভব করি না। বাচ্চারা আমাকে ‘তা-ঈ’ (মাসি) বলে ডাকে। ম্যাডামও খুবই সুন্দর এবং সবসময় হাসিমুখে থাকেন। স্যারও খুবই সম্মানবোধসম্পন্ন ব্যক্তি। তিনি বাসার অনেক ‍কাজ করেন যার কারণে আমি প্রচুর অবসর সময় পাই।’

সঙ্গীতাকে প্রতিশ্রুত বেতনের কম দেওয়ার অভিযোগে গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার দেবযানীকে গ্রেফতার করে নিউইয়র্ক পুলিশ। ভারতের ডেপুটি কনসাল জেনারেল দেবযানীকে হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বিবস্ত্র করে তার শরীরে কয়েক দফা তল্লাশি চালায় পুলিশ। এবং মাদকাসক্ত ও যৌনকর্মীদের সঙ্গে হাজতে রাখা হয়।

দেবযানীকে হেনেস্তা করার প্রতিবাদে ভারত মার্কিন কূটনীতিকদের দেওয়া বিশেষ সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়। এ ঘটনায় দোষ স্বীকার করে যুক্তরাষ্ট্রকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে ভারত। তবে যুক্তরাষ্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এ ব্যাপারে তারা ক্ষমা চাইবে না।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close