Featuredযুক্তরাজ্য জুড়ে

প্লাস্টিকের ব্যাংক নোট চালু হচ্ছে ব্রিটেনে

ব্যাংক অব ইংল্যান্ড জানিয়েছে ২০১৬ সাল থেকে ব্রিটেনে প্লাস্টিকের তৈরী ব্যাংক নোট বা মুদ্রা বাজারে ছাড়া হবে। দুর্ঘটনাক্রমে কাপড়ের সাথে ওয়াশিং মেশিনে চলে গেলেও যাতে এগুলো নষ্ট না হয় সেরূপ শক্তিশালী করে এগুলো তৈরী করা হবে।

লক্ষণীয় ১৯৮৮ সালে অষ্ট্রেলিয়ায় প্রথম পলিমার নোট চালু করা হয় এবং বর্তমানে কানাডাসহ বিশ্বের কুড়িটিরও বেশী দেশে এই নোট চালু রয়েছে। ১৬৯৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড কাগজের ব্যাংক নোট বা মুদ্রা তৈরী করে আসছে এবং বর্তমানে এ ধরনের প্রায় ২৯০ কোটি মুদ্রা বাজারে চালু রয়েছে, যার মূল্যমান ৫ হাজার ৮শ’ কোটি পাউন্ড।

সাধারণ ব্যাংক নোটে অধিকতর স্থায়ী পলিমার সামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্রিটেন হবে  সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ। এ ব্যাপারে পর্যালোচনায় দেশের ৮৭  শতাংশ লোক বিষয়টি অনুমোদন করেছেন। এই পদক্ষেপ গৃহীত হলে এক দশকে ১০ কোটি পাউন্ড সাশ্রয় হবে। ২০১৬ সালের প্রথমভাগ থেকে ৫ পাউন্ড মূল্যমানের ব্যাংক নোট বাজারে ছাড়া হবে। এর পরের বছর চারু হবে ১০ পাউন্ডের প্লাস্টিক ব্যাংক নোট।

ব্রিটেনের ৫ পাউন্ডের প্লাস্টিক ব্যাংক নোটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নেতা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল  এবং ১০ পাউন্ডের নোটে উনিশ শতকের লেখক জেন অস্টেনের প্রতিকৃতি মুদ্রিত থাকবে।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ড-এর গভর্ণর মার্ক কার্নি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যাবলীর প্রাণ হচ্ছে অর্থের উপর বিশ্বাস ও আস্থা নিশ্চিতকরণ। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ব্যাংক নোট ডিজাইনের  বিবর্তনে পলিমার নোট হচ্ছে পরবর্তী পদক্ষেপ।

কর্তৃপক্ষ মনে করে, প্লাস্টিকের তৈরী অর্থাৎ পলিমার ব্যাংক নোট কাগজের তৈরী নোটের চেয়ে দ্বিগুণ সময় স্থায়ী হবে-যার ফলে এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২৫ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় হবে। এছাড়া এই মুদ্রা কাগজী নোটের চেয়ে বেশী ময়লা নিরোধী হবে। স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ফিল্মে তৈরী এই ব্যাংক নোটের উপরে একটি কালির প্রলেপ থাকায় তা পরিষ্কার করাও সহজ হবে। এছাড়া স্বচ্ছ জানালার মতো হওয়ায় এই নোটের জালিয়াতি অধিক কঠিন হবে।  এই নোটের ব্যাপারে বিন্নমত পোষণকারীরা এর পিচ্ছিলতার বিষয়টি উল্লেখ করেন। এ ব্যাপারে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বক্তব্য হচ্ছে, সময়ে এই পিচ্ছিলতা হ্রাস পাবে।

তবে এ জন্য তারা নোটের লেখাগুলো উঁচু করে মুদ্রণের চেষ্টা করবে বলে জানায়।  ব্যাংক আরো জানায়, এই ব্যাংক নোটগুলো আন্তর্জাতিক মুদ্রার আকৃতির চেয়ে ১৫ শতাংশ ছোট আকৃতির হবে এবং লোকজনের ওয়ালেট অর্থাৎ মানিব্যাগে যাতে খাপ খায়, সেভাবে তৈরী করা হবে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড পলিমার সামগ্রী সরবরাহের জন্য ইন্নোভিয়া ফিসিউরিটি নামক কোম্পানীর সাথে একটি চুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলশ্র“তিতে ২০১৬ সালে একটি নতুন উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপিত হবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close