রাজনীতি

প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠালেন এরশাদ

শীর্ষবিন্দু নিউজ: ছোট ভাই জিএম কাদেরকে এমপি বানাতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন এইচ এম এরশাদ। নির্বাচনের এক দিন পরেই এ চিঠি দিয়েছেন বলে বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ-৩ আসন এবং রংপুর-৬ আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। একটি আসন রেখে অন্যটি ছেড়ে দিতে হবে। তাই রংপুর-৬ আসন ছেড়ে দিয়ে সেখানে উপনির্বাচনে জিএম কাদেরকে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। বিভিন্ন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়ার নাটকের মধ্যেই রংপুর-৩ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন এরশাদ। পার্টির মহাসচিব ছাড়াও বেশির ভাগ নেতাই এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু এরশাদের পক্ষে অনড় থেকে নির্বাচন বর্জন করেন জিএম কাদের। যে কারণে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন লালমনিরহাট-১ আসনে।

অন্যদিকে পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার এরশাদের সঙ্গে থাকলেও গোপনে রওশন এরশাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। প্রথমদিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকলেও শেষ দিকে এসে হেলিকপ্টার নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চলান তিনি। কথিত আছে মহাসচিব আওয়ামী লীগের সঙ্গেও গোপনে রফা করেন। একাধিক দিনে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে বৈঠক করেন। যে কারণে হাওলাদারের নির্বাচনী এলাকা পটুয়াখালী-১ থেকে আওয়ামী লীগ তাদের প্রার্থীকে সরিয়ে নেয়।

এতে করে সহজ বিজয় পেয়ে যান জাপা মহাসচিব। অন্যদিকে তার সহধর্মিনী রতনা আমিন হাওলাদার বরিশাল-৬ থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। সিনিয়র নেতা বলতে গেলে সবাই নির্বাচিত হয়েছেন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। কিন্তু বাদ পড়েছেন দলের সেকেন্ডম্যান খ্যাত জিএম কাদের। এরশাদ মনে করেছিলেন আ.লীগ নির্বাচন করতে পারবে না। কিন্তু শেষমেশ নির্বাচন হয়ে যাওয়ায় পড়েছেন বিপাকে। এখন আর অনড় থেকে জেলে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে রাজি নন এরশাদ। কিন্তু আপন ভাই জিএম কাদেরকে ছাড়া সংসদে যেতে চান না।

তাই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে রংপুর-৬ আসনের উপনির্বাচনে জিএম কাদেরকে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, এরশাদ বিরোধী দলে যেতে রাজি আছেন। কিন্তু সরকারের ক্ষমতার ভাগ নিতে রাজি নন। কারণ যতবারেই ক্ষমতার ভাগ নিয়েছেন ততবারেই তার দল ভাঙনের মুখে পড়েছে। তাই নতুন করে আর দল ভাঙ‍ার ঝূঁকি নিতে চান না।

প্রসঙ্গত, ৯৬ সালের নির্বাচনে জেলে থেকে আ.লীগকে সমর্থন দেন এরশাদ। তখন ঐক্যমতের সরকারে ঠাঁই পেয়েছিলেন তার দলের মহাসচিব আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। ৯৮ সালে এসে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে সরকার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় এরশাদের। তখন আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পদত্যাগ করতে বলেন এরশাদ। কিন্তু আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পদত্যাগ না করে আলাদা জাতীয় পার্টি গঠন করেন। এমনকি লাঙ্গল প্রতীক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। শেষ অবধি বিষয়টি কোর্টে গড়ায়।

এবার ৪ ডিসেম্বর নির্বাচনকালীন সরকার থেকে তার দলের মন্ত্রীদের পদত্যাগ করা নির্দেশ দিলেও মন্ত্রীরা পদত্যাগে টালবাহানা শুরু করেন। রওশন এরশাদ, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ছাড়াও অনেকেই বাগড়া দেন। শেষে পদত্যাগপত্র পাওয়ার কথা জানালেও তা ছিল রহস্যজনক। পদত্যাগের বিষয়টি শুধুই নাটক ছিল তা পরিস্কার হয়ে যায় ২ জানুয়ারি জাতীয় পার্টির নির্বাচনী ইস্তেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে। ওই দিন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ তার বক্তব্যে বলেন, জাতীয় পার্টির নেতারা সবাই মন্ত্রীসভায় আছেন। কেউ পদত্যাগ করেননি।

অন্যদিকে এরশাদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেও মাঠে থেকে যান মন্ত্রীরা। এতে বিব্রত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন এরশাদ। এসব কারণে নতুন করে সরকারের অংশিদার না হয়ে অন্যরকম সুবিধা আদায় করতে চান এরশাদ। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি এরশাদ এ বিষয়ে দর-কষাকষি অব্যাহত রেখেছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য পার্টির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কেউই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের কেউ কেউ জানিয়েছেন, তার পক্ষে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close