অন্য পত্রিকা থেকে

মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন যারা

মহিউদ্দিন মাহমুদ: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ট আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় জোটকে নিয়ে সরকার গঠন করবে। মহাজোটের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্যদের শপথের পর আগামী সপ্তাহের যে কোনোদিন মন্ত্রীদের শপথ হবে। তবে রোববার কিংবা সোমবার এ শপথ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। সূত্র বলছে, বিরোধী দলের আন্দোলন-সহিংসতা মোকাবেলা করে সারাদেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত সরকার গঠনের কথা ভাবা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষ নেতা বলেন, কারা মন্ত্রী হবেন সব কিছু নির্ভর করে প্রধানমন্ত্রীর ওপর।

সূত্র জানায়, আগামী সরকারের মন্ত্রিসভায় নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় বাদ পড়া বিগত সরকারের কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ফিরে আসতে পারেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে যারা নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রী রয়েছেন  তারা প্রায় সবাই নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকছেন। নির্বাচনকালীন সরকারের যে কয়জন মন্ত্রী নির্বাচনে পাস করতে পারেননি কিংবা মনোনয়ন পাননি শুধু তারাই বাদ যাবেন।

নির্বাচনকালীন সরকারে জাতীয় পার্টির যেসব মন্ত্রী রয়েছেন তাদের জায়গায় নতুন করে ১৪ দলীয় নেতাদের অনেকে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ফিরে আসতে পারেন আগের সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। নির্বাচনকালীন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সপদে বহাল থাকতে পারেন। তবে এ পদে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনিকেও আনার ক্ষুদ্র সম্ভাবনা রয়েছে।

সাবেক আইনমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর আইন বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শফিক আহমেদকে নতুন সরকারের আইনমন্ত্রী করা হতে পারে। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতকে প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা কিংবা মন্ত্রিসভার সদস্য করা হতে পারে বলে জানা গেছে। জাতীয় পার্টির (জেপি) সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অথবা তাকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে আসা হতে পারে বলেও অন্য একটি সূত্র বলছে।

তরুণ সংসদ সদস্য জুনায়েদ আহমেদ পলককে আইসিটি মন্ত্রী হিসেবে রাখা হতে পারে। মন্ত্রিসভায় স্থান করে নিতে পারেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. হাবিব-এ মিল্লাত মুন্না স্বাস্থ্যমন্ত্রী কিংবা স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিতে যাচ্ছেন বিগত সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা দিলীপ বড়ুয়াও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রীদের মধ্যে ভূমি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আমির হোসেন আমু, শিল্প-গৃহায়ণ ও গণপূর্ত তোফায়েল আহমেদ, অর্থ মন্ত্রণালয় আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, স্থানীয় সরকার-পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ডাক ও টেলিযোগাযোগ রাশেদ খান মেনন,যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিক, শিক্ষা-প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, রেলপথ ও ধর্ম মন্ত্রী মুজিবুল হক, পরিবেশ ও বন হাছান মাহমুদ, প্রবাসী-শ্রম-কর্মসংস্থান বিষয়ক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং নৌ-পরিবহন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী শাজাহান খান নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হতে পারেন।

নির্বাচনকালীন সরকারের প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন, স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হতে পারেন। তবে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা কত হবে তা সঠিকভাবে জানা যায়নি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close