রাজনীতি

নিউ ইয়র্ক টাইমসকে খালেদা: জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ বিবেচনা করবে বিএনপি

শীর্ষবিন্দু নিউজ: আওয়ামীলীগের অনেক কড়া সমালোচনার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মিত্রতার বিষয়টি বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপি চেয়াপার্সন ও ১৮ দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন খালেদা জিয়া।

নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেয়া একই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে আমরা স্থায়ী বন্ধনে আবদ্ধ নই। জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের  বিষয়ে তিনি বলেছেন, ঠিক এই মুহূর্তে আমি (তাদের সঙ্গ ত্যাগ করতে) পারবো না। যখন সময় হবে তখন এ বিষয়টি আমি দেখব।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক অ্যালেন ব্যারি লিখেছেন, ২৯শে ডিসেম্বর থেকে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের পক্ষে তার সাক্ষাতকার নিতে গেলে কর্তৃপক্ষ প্রথমে তাতে বাধা সৃষ্টি করে। অবশেষে সোমবার তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় ওই সাংবাদিকের। এ সময় খালেদা জিয়া ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে প্রহসনের নির্বাচন বলে আখ্যায়িত করেন।

খালেদা জিয়া বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে এ নির্বাচনে শতকরা ১০ ভাগের মতো ভোট পড়ে থাকবে। নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে দমনপীড়নের সময় তার দলের অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকার তাদেরকে মুক্তি দেয়ার পর অবিলম্বে সমঝোতার জন্য প্রস্তুত বিএনপির নেতারা। তিনি বলেন, হ্যাঁ আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু তার জন্য প্রথম তাদেরকে অধিক অনুকূল একটি পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। আমার সিনিয়র সব নেতা এখন জেলে। আমার অসংখ্য নেতাকর্মী জেলে। অন্য সিনিয়র নেতারা আত্মগোপন করে আছেন। প্রথমেই সরকারকে মুক্ত পরিবেশ দিতে হবে। বাংলাদেশজ গভর্নিং পার্টি উইনস ভোট অ্যামিড আনরেস্ট শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব কথা লিখেছেন অ্যালেন ব্যারি।

একই প্রতিবেদনে অ্যালেন ব্যারি আরো লিখেছেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের বিজয় এর পরদিন সোমবার উদযাপন করে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল। অভিযোগ আছে সহিংসতা, কম ভোট ও প্রধান বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে এ নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকদের এমন কথা উড়িয়ে দিয়েছে দলটি। জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩২টি আসনে জিতেছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে অর্ধেক আসনে প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত যে আংশিক ফল প্রকাশ করে তাতে রোববারের ভোটে গড়ে ৩৯.৮ ভাগ ভোট পড়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার অল্প আগে ভোটকেন্দ্রে যায়। তখন ভোটের আধিক্য ঘটে।

গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে তিনি প্রধান বিরোধী দলকে দায়ী করেন। অনেক পর্যবেক্ষক আশা করেছিলেন যে, নির্বাচনের দুর্বল ফলাফলের কারণে লড়াইয়ে লিপ্ত দলগুলো নতুন করে সমঝোতার পথ খুঁজবে। অধিক অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। শেখ হাসিনা বলেন, যতক্ষণ বিরোধী দল সহিংসতার নিন্দা না জানাবে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কোন আলোচনা হবে না। বাংলাদেশের এমন পরিস্থিতিতে কড়া সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র ও বৃটেন বিবৃতি দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেরি হার্ফ নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের দু’পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যত শিগগিরই হোক অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, বিশ্বাসযোগ্য, জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে এমন একটি নির্বাচনের পথ খুঁজে বের করতে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close