জাতীয়

চলে গেলেন বিচারপতি হাবিবুর রহমান

শীর্ষবিন্দু নিউজ: জীবনের অন্তরালে চলে গেলেন ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান। ৮৫ বছর বয়সে জীবনের ইতি ঘটলো এ গুণী ব্যক্তিত্বের। শনিবার রাতে ৮৫ বছর বয়সে বর্ণাঢ্য জীবনের সমাপ্তি ঘটে এ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের।

একাধারে ভাষাবিদ, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক, গবেষক হাবিবুর রহমান তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার। ১৯৯৫ সালে প্রধান বিচারপতি হিসেবে অবসর নিয়ে পরের বছর সাবেক এ প্রধান উপদেষ্টার অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরই তিনি পুরোপুরি লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন।

সমসাময়িক বিষয়ে লেখালেখি ছাড়াও কবিতা, গল্প, প্রবন্ধসহ সাহিত্যের সব ক্ষেত্রে ছিল তার বিচরণ। প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৭২টি। বিভিন্ন ভাষায়ও ছিলেন তিনি পারদর্শী। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে মাতৃভাষার স্বপক্ষে রবীন্দ্রনাথ, গঙ্গাঋদ্ধি থেকে বাংলাদেশ, রবীন্দ্র বাক্যে আর্ট, সঙ্গীত ও সাহিত্য, যথাশব্দ, বাংলাদেশের তারিখ, কোরানসূত্র, বচন ও প্রবচন, বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক, কোরান শরীফ: সরল বঙ্গানুবাদ ইত্যাদি। গতবছর একুশের বইমেলায় শুদ্ধস্বর থেকে বের হয় তার লেখা বই-নির্বাচন যথেষ্ট নয় তবে নির্বাচন হতেই হবে।

একনজরে বিচারপতি হাবিবুর রহমান
উইকিপিডিয়া এবং তার প্রকাশিত বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকে জানা যায়, ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর মহকুমার দয়ারামপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন৷ তার বাবার নাম ছিলো মৌলভী জহিরউদ্দিন বিশ্বাস। তিনিও আইনজীবী ছিলেন৷

জহিরউদ্দিন বিশ্বাস ছিলেন একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী। তিনি প্রথমে আঞ্জুমান এবং পরে মুসলিম লীগ আন্দোলনের সাংগঠনিক পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় হাবিবুর রহমানের বাবা জাতীয় যুক্ত ফ্রন্টের বিভাগীয় নেতা ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তাকে গ্রেফতার করে বহরমপুর কারাগারে পাঠায়, অবশ্য কয়েকদিন পরই জহিরউদ্দিন বিশ্বাস মুক্তি পান। ভারত বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে মুশির্দাবাদ ছেড়ে জহিরউদ্দিন বিশ্বাস রাজশাহীতে চলে আসেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন৷
হাবিবুর রহমানের মা গুল হাবিবা ছিলেন গৃহিণী।

মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে ১৯৪৯ সালে বিএ সম্মান ও ১৯৫১ সালে এমএ পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আধুনিক ইতিহাসে ১৯৫৮ সালে বিএ সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

হাবিবুর রহমান তার কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়ে। এরপর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। সেখানে তিনি ইতিহাসের রিডার (১৯৬২-৬৪) ও আইন বিভাগের ডিন (১৯৬১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি আইন ব্যবসাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং ঢাকা হাইকোর্ট বারে যোগ দেন।

তিনি সহকারী অ্যাডভোকেট জেনারেল (১৯৬৯), হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট (১৯৭২) ইত্যাদি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলেরও (১৯৭২) সদস্য ছিলেন। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি হাইকোর্টের বিচারপতি ছিলেন। ১৯৮৫ সালে তিনি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে নিয়োগ লাভ করেন। তিনি ১৯৯৫ পর্যন্ত আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০-৯১ মেয়াদে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে হাবিবুর রহমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৫ সালে প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

১৯৯৫ সালে বিচারপতি হাবিবুর রহমান বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে অবসর নেন। সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি হিসেবে তিনি ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তথা দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close