Featuredইউরোপ জুড়ে

প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া প্রেম-পরকীয়া-কেলেঙ্কারি

শীর্ষবিন্দু আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের সঙ্গে মডেল ও অভিনেত্রী জুলিয়া গায়েতের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি সম্প্রতি একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এর পরপরই ফরাসি প্রেসিডেন্টের পরকীয়ার সম্পর্ক সমালোচনার ঝড় বইয়ে। তবে ফরাসি প্রেসিডেন্টদের পরকীয়া ও প্রেমের সম্পর্ক নতুন নয়। তাঁদের অনেকেই জড়িয়েছেন এ কেলেঙ্কারিতে।

অনেকেই ভাবেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টদের ক্ষেত্রেই কেন বারবার এমনটি ঘটে। এর জবাব খোঁজার চেষ্টা করেছেন সাংবাদিক অ্যাডাম গাপনিক। এ নিয়ে বিবিসিতে সেক্স অ্যান্ড দ্য ফেঞ্চ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি বলেছেন, ফ্রান্সের সমাজব্যবস্থার কারণেই এমনটা ঘটেছে। ব্যাপারটা কেবল প্রেসিডেন্ট বা সমাজের উপরতলার লোকদের ক্ষেত্রে ঘটে না। তাঁর মতে, ফ্রান্সের সমাজব্যবস্থায় ক্ষুধা ও প্রেমের চাহিদাকে একই রকম প্রবৃত্তি বলে মনে করা হয়। ক্ষুধা থাকলে মানুষ যেমন বিভিন্ন খাবারের স্বাদ নিতে পারেন, তেমনি যৌন প্রবৃত্তির কারণে মানুষ একাধিক সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারেন।

সাংবাদিক অ্যাডাম গাপনিক উল্লেখ করেন, তিনি প্যারিসের এক নারীকে চেনেন, যাঁর স্বামী অসুস্থ। সেই সঙ্গে তাঁর প্রেমিকও হূদরোগে আক্রান্ত। দুজনের মধ্যে কার দিকে বেশি মনোযোগ দেবেন, তা নিয়েই ওই নারী বেশ চিন্তিত। অর্থাৎ ফ্রান্সের সমাজে এগুলো অনেকটাই স্বাভাবিক ঘটনা। এর ব্যতিক্রম ঘটে না প্রেসিডেন্টদের বেলায়ও।

ফ্রান্সের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের পূর্বসূরি নিকোলা সারকোজিও একাধিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তিনি বিয়ে করেছেন তিনবার। তাঁর তৃতীয় স্ত্রী ছিলেন সাবেক মডেল ও সংগীতশিল্পী কার্লা ব্রুনি। তার আগে ফ্রান্সে ১৯৮১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন ফ্রাঁসোয়া মিতেরোঁ। তাঁর একজন রক্ষিতা ছিলেন। ওই রক্ষিতার গর্ভে মিতেরোঁর এক কন্যা সন্তানও জন্মেছিল। ১৯৯৬ সালের মিতেরোঁর মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তাঁদের ওই সম্পর্কের কথা কেউ জানতে পারেনি। পরে জানা গেছে, মিতেরোঁর কেবল একজন রক্ষিতা ছিলেন না। তাঁরা সংখ্যায় ছিলেন অনেক।

আরেক প্রেসিডেন্ট জ্যাক শিরাকের জীবন ছিল একাধিক প্রেমের গুঞ্জনে ভরা। নিজের সম্পর্কে শিরাক বলেছিলেন, আমি অনেক নারীকে ভালোবেসেছি। এক জীবনে যত বেশিজনকে ভালোবাসা যায়, ততজনকে।
সাংবাদিক গাপনিকের মতে, এটা ঠিক যে রাজনীতিবিদদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি বা তাঁদের শোয়ার ঘর পর্যন্ত আমাদের যাওয়ার কোনো দরকার নেই। তবে তবে তাঁরা যদি দরজা খুলে রাখেন, তাহলে চোখে না পড়ে তো উপায় নেই। আর চোখে পড়লে তা নিয়ে আলোচনা হওয়াও স্বাভাবিক।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close