জাতীয়

বিদেশি অর্থ ছাড়াই পদ্মা সেতু নির্মাণে উদ্যেগী সরকার

শীর্ষবিন্দু নিউজ: পদ্মা সেতু নির্মাণে বিদেশি অর্থ আর চাচ্ছেই না সরকার। কেউ যদি এগিয়ে এসে দিতে চায়, তবেই বিদেশি অর্থ বা সাহায্য নেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গতকাল মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী এ-ও জানান, পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ থেকে চার হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ অর্থ ব্যয় হবে সরকারি কর্মকর্তাদের মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে। পরামর্শক নিয়োগকে বড় দরপত্র উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের জাজিরা-মাওয়া পয়েন্টে কাজ তো চলছেই। আরও কিছু দরপত্রে ভালোই সাড়া পাওয়া গেছে। আগামী মার্চ-এপ্রিলে এগুলোর ব্যাপারে আদেশ দেওয়া হবে।

বিদেশি কেউ আসতে পারে বলে আভাস রয়েছে কি না, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, না, এখনো পাইনি। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংককে (এডিবি) অনুরোধ করেছিলাম দরপত্র মূল্যায়ন করে দেওয়ার জন্য। এডিবি কিছু জানায়নি। তবে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও এডিবির মধ্যে কানাঘুষা আছে বলে শুনেছি। আগামী মাসে চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট করার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এবার রাজস্ব আদায় কম। বাজেটের আকার তাই কিছু কমবে। পদ্মা সেতুর জন্যও সামান্য ব্যয় হবে। দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন থেকে দূরে থাকে বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাইকা।

বিমান অপদার্থ: উড়োজাহাজ কেনার জন্য বাংলাদেশ বিমানকে ২৯ কোটি ডলার (দুই হাজার ২৬২ কোটি টাকা) দেওয়ার প্রস্তাব গতকাল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই ১০টি উড়োজাহাজের দাম নির্ধারিত হয়েছিল। আগে দুটি উড়োজাহাজ কেনা হয়েছে আর আজ (গতকাল) দুটি কেনার প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছে।

বিমানের অবস্থা খুবই খারাপ—মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, জন্ম থেকেই এটি একটি অপদার্থ প্রতিষ্ঠান। এর জন্য পুরো দোষ অবশ্য বিমানের নয়। রাতারাতি একে বদলেও ফেলা যাবে না। বিমানকে বলা হয়েছে ১০ বছর মেয়াদি একটি ব্যবসায় পরিকল্পনা করার জন্য।

ব্যাংকের স্বতন্ত্র বেতনকাঠামো: কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও রাষ্ট্র মালিকানাধীন চার ব্যাংকের স্বতন্ত্র বেতনকাঠামো হবেই বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচনের কারণে এই বিষয়টি একটু পিছিয়ে পড়েছিল। এখন কাজ শুরু হবে। যে পর্যায়ে গিয়ে থেমে ছিল, সেখান থেকেই কাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মতামত পাওয়ার পর আইনি জটিলতার কারণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগে বিষয়টি আটকে আছে।

অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর অর্থ বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বতন্ত্র বেতনকাঠামোর জন্য আইন সংশোধন করতে হবে না। তবে আইন মন্ত্রণালয়ের একটি মতামত লাগবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চাওয়া অনুযায়ী আইন মন্ত্রণালয় সেই মতামতটি তৈরি করছে বলে জানান ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলম।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close