Featuredঅন্য পত্রিকা থেকে

মুহিত-আরিফ দু’জনে দু’জনার

চৌধুরী মুমতাজ আহমদ, সিলেট থেকে |

আরিফ নিশ্চয়ই এমন কোন জাদু জানেন যার গুণে মন্ত্রীরাও তার মন্ত্রণা নেন- তা তিনি যে দলের মন্ত্রীই হোন না কেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের হৃদ্যতার সম্পর্কে অনেকের মনেই প্রশ্নটি দোলা দিচ্ছে। তারা দু’জন দু’মেরুর বাসিন্দা। পথ আলাদা, মতও আলাদা। অথচ রিকশায় তারা একসঙ্গে ঘুরছেন। সে ছবি ছাপাও হয়েছে পত্রিকার পাতায়। বড়দিনের অনুষ্ঠানে একজন আরেকজনকে মুখে তুলে কেকও খাইয়েছেন। আবুল মাল আবদুল মুহিত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আর আরিফুল হক চৌধুরী বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সদস্য।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিপরীতে দু’জনের এ যুগলবন্দি আলোচনায় উঠে এসেছে সিলেটের দুই ঘরানার রাজনৈতিক মহলেই। অনেক কানাঘুষাও এ নিয়ে। মুখ ফুটে না বললেও বুকে কিন্তু কাঁটা বিঁধছে অনেকেরই। ভেবে পান না তারা, কি মায়ায় বেঁধেছেন আরিফ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে!

সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতা এম সাইফুর রহমানের সঙ্গে আরিফুল হকের ঘনিষ্ঠতার বিষয় কারও অজানা নয়। সাইফুর রহমানের স্নেহভাজন হিসেবেই সিলেটের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পান আরিফ। মন্ত্রীর ছত্রচ্ছায়ায় একসময় ভালই দাপট দেখিয়েছিলেন তিনি। সিটি করপোরেশনের কমিশনার হয়েও মেয়রের সমান্তরাল শক্তি হয়ে উঠেছিলেন আরিফ। মেয়রকে রেখে তার মাধ্যমেই সিলেটের ব্যাপক উন্নয়ন করিয়েছিলেন সাইফুর রহমান। দলের অনেক ডাকসাইটে নেতা সাইফুর রহমানের কাছে ভিড়তে না পারলেও মন্ত্রীর অন্দরমহল পর্যন্ত যাতায়াত ছিল আরিফের। অনেকেরই সহ্য হতো না বিষয়টি।

এরই জেরে সিলেটের বিএনপি রাজনীতিতে বিরোধ-বিভাজনেরও সূচনা। কিন্তু সাইফুর রহমান ছাড়েননি আরিফকে। আরিফও ভোলেননি সে ঋণ। প্রয়াত সাইফুর রহমানের ভালবাসাকে পুঁজি করে তিনি সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। দলের সমর্থন পেয়ে পার হন নির্বাচনী বৈতরণীও। নির্বাচনের আগ পর্যন্তও আরিফ ছিলেন কেবল সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের প্রিয়ভাজন। এক সপ্তাহের মাথায়ই প্রিয়ভাজন হয়ে ওঠেন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতেরও। মতাদর্শের বিন্দুমাত্র মিলও নেই।

৭ই জুলাই ২০১৩। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাস পেরোয়নি। আরিফ একাকী হাজির হন অর্থমন্ত্রীর সিলেটের বাসা হাফিজ কমপ্লেক্সে। মিষ্টি তুলে দেন মন্ত্রীর মুখে। কথা বলেন সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে। অর্থমন্ত্রী কথা দেন ‘পাশে আছি তোমার’। এবার আরও এক অর্থমন্ত্রীর আশীর্বাদ নিয়ে মাঠে নামেন আরিফ। এর আগে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নিজের দলের লোক সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র থাকলেও অর্থমন্ত্রীর এতটা স্নেহধন্য হতে পারেননি, বরং কোন্দলে জড়িয়ে গিয়েছিলেন তার সঙ্গে। মুহিত-আরিফের এ যুগলবন্দি তাই ভালভাবে নেননি সিলেটের কোনও ঘরানার রাজনীতিবিদেরাই। তবুও তাদের সম্পর্কে ভাটা পড়ে না। ২২শে সেপ্টেম্বর আবারও আরিফ দেখা করেন অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে, এবার তার সচিবালয়স্থ দপ্তরে। পাশে থাকার আশ্বাস আদায় করেন আবারও।

২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৩, নগর ভবনে অর্থমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেন আরিফুল হক। নিজের শহরে এমন ভালবাসায় চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। ১৬ই নভেম্বর দু’জনে রিকশায় চড়ে নগর দেখতে বেরোন।

কথা হয় সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে, কোন মন্ত্র জানেন তিনি? আরিফ জবাব দেন, তন্ত্রমন্ত্র কিছুই না। অর্থমন্ত্রী সিলেটের ব্যাপারে আন্তরিক। সিলেটের সমস্যাগুলো আগে তার কাছে কেউই এভাবে উপস্থাপন করেনি। আমার কাছ থেকে জেনে সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন। শূন্য গোয়াল নিয়ে বেকায়দায় ছিলাম। মন্ত্রী আমাকে উঠে আসতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সিলেট মহানগরীর উন্নয়নের স্বার্থে এ হাত আমার প্রয়োজন। তিনি কোন দলের সেটা আমি ভাবি না; তিনিও ভাবেন না আমি কোন দলের। কাজ চান তিনি, আর আমিও কাজ করতে চাই।

সিলেটের উন্নয়নে ইতিমধ্যেই তার কাছ থেকে অনেক কিছু পেয়েছি। বাতিল হওয়া ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তিনি আবার সিলেটকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। খাল-ছড়া উদ্ধারে ৯ কোটি টাকা আমার হাতে চলে এসেছে। তার মাঝে আমি আমার প্রিয় নেতা সাইফুর রহমানেরই প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। সাইফুর রহমানও আমাকে এভাবেই ভালবেসেছিলেন। দু’হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সিলেটের উন্নয়নে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close