Featuredস্থানীয়

বাবার সামনেই শিশুকে ধর্ষণ করে পলাতক ধর্ষক ২ দুই মাস পর গ্রেফতার

অনলাইন নিউজ ডেস্ক: তখন সকাল। কুয়াশা তাড়ানো ঝলমলে রোদ। ক্ষুদে ছাত্রীটি হাঁটছে ছোট ছোট পা ফেলে। সামনেই বিদ্যালয় মাঠ। আর একটু হলেই নাগাল পাবে প্রিয় সহপাঠীদের। মেতে ওঠবে আনন্দে। কিন্তু না! এর আগেই তাকে খাবলে ধরে একটা জান্তব হাত। টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যায় একটা ঘরে।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই শিশুটির ওপর হামলে পড়ে। ছিন্ন ভিন্ন করতে চায় যৌনদানবটি। ঘটনায় আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে যায় দানবটির বাবা। ছেলেকে প্রাণপণ চেষ্টায় নিবৃত্ত করতে চায়। কিন্তু তখন হিংস্র উত্তেজনা চেপে বসেছে দানবের শরীরে। বাবাকে লাথি আর চড় থাপ্পর দিয়ে বের করে দেয় ঘর থেকে। এরপর.. শিশুটির চিৎকার, আর্তনাদ.. ক্ষীণ হতে ক্ষীণ হতে থাকে। পুরো এলাকা জুড়ে তখনও ঝলমলে রোদ, পাখির কলকাকলি। শুধু হিংস্র চিতাবাঘের থাবায় রক্তাক্ত নিষ্প্রাণ হয়ে আসে তুলতুলে হরিণশাবকটি…।

হিংস্র ওই যৌনদস্যুর নাম সোনালী মিয়া (২২)। শেরপুরের নকলা উপজেলার ডাকাতিয়াকান্দা গ্রামের ইয়াদ আলীর ছেলে। পুলিশের খাতায় তালিকাভূক্ত চিহ্নিত অপরাধী। নারীলোভী, একাধিক বিয়ের নায়ক। গেল বছরের ৮ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ডাকাতিয়াকান্দা গ্রামের মোফাজ্জলিয়া দাখিল মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে জোর করে নিজের ঘরে নিয়ে আসে। নিজের বাবার সামনেই চালায় যৌননির্যাতন। পরদিন ছাত্রীর বাবা থানায় মামলা করলে পালিয়ে যায় যৌনদস্যু সোনালী মিয়া। দীর্ঘ দু’মাস ধরে গলদঘর্ম পরিশ্রম করে মোবাইল ট্রেকিং এর মাধ্যমে তার অবস্থান সনাক্ত করে পুলিশ। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে গাজিপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে শেরপুরে নিয়ে আসা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয় কারাগারে।

শেরপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মেহেদুল করিম জানান, ঘটনার পরদিন ধর্ষিতার বাবা সাইমুদ্দিন বাদী হয়ে নকলা থানায় মামলা করলে ধর্ষক পালিয়ে যায়। প্রায় দুই মাস চেষ্টার পর গত বুধবার তাকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসপি আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছে সোনালী মিয়া। সে তালিকাভূক্ত চিহ্নিত অপরাধী। একাধিক বিয়ে করেছে বলেও সে জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, গেল বছরের ৮ ডিসেম্বর প্রতিদিনের মতো ওই ছাত্রী মাদরাসায় যাচ্ছিল। ধর্ষক সোনালীর বাড়ির সামনে আসার পর ছাত্রীকে সে জাপটে ধরে। পরে তার বাড়ির শোবার ঘরে নিয়ে যায়। বাড়িতে সে সময় উপস্থিত ছিলেন সোনালীর বাবা ইয়াদ আলী। ছেলের কুকর্মে বাধা দেন তিনি। কিন্তু বাধা পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে ছেলে। এক পর্যায়ে বাবাকে লাথি আর চড় থাপ্পর মেরে ঘর থেকে বের করে দেয়। এরপর বাবার মুখের ওপর ঘরের দরজা লাগিয়ে ছাত্রীটিকে ধর্ষণ করে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close