রাজনীতি

বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে কঠোর আওয়ামীলীগ

শীর্ষবিন্দু নিউজ: আসন্ন চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে ১৯ ফেব্রুয়ারির ভোটে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেও একক প্রার্থী দিতে ব্যার্থ হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তাই পরবর্তী ধাপগুলোতে এবার একক প্রার্থী দিতে বদ্ধপরিকর দলটি। আর এজন্য তৃণমূলে কাজও শুরু করেছে দলটি।

গত ৩ ফেব্রুয়ারির (সোমবার) মন্ত্রীপরিষদ সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সম্পর্কে একটি দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন। ওই বৈঠকেই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী গঠিত দলের ৭টি বিভাগীয় টিমকে আরো কার্যকর ও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

দলটির নীতি নির্ধারকরা মনে করেন, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেও উপজেলা নির্বাচনে নিজেদের সমর্থিত প্রার্থী হেরে গেলে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে জনমনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। এজন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে দলটি উপজেলা নির্বাচনে নিজেদের সমর্থিত অধিক সংখ্যক প্রার্থীর জয় নিশ্চিত করতে চায়। আর এ কারণেই বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকানোর বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। এছাড়াও এ নির্বাচনে সমর্থন বঞ্চিতরাও যাতে দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে চায় কেন্দ্র।

১ম ও ২য় ধাপের নির্বাচনে যথাক্রমে ৯৭ ও ১১৭টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৯ ও ২৭ ফেব্রুয়ারি। তৃতীয় ধাপের ভোট হবে ১৫ মার্চ। মার্চের শেষ সপ্তাহে চতুর্থ ধাপের ভোটের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে ইসি। একইভাবে জুলাইয়ের মধ্যে দেশের ৪৮৭টি উপজেলার নির্বাচন শেষ করতে চায় ইসি।

এদিকে এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে বহিস্কারের হুমকি, প্রধানমন্ত্রীর চিঠি দেওয়া সত্ত্বেও বেশির ভাগ উপজেলাতেই বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে দলের শীর্ষ নেতারা।
এরইমধ্যে ১ম ধাপের ৯৭টি উপজেলা নির্বাচনে ৫২টিতেই বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বহুল আলোচিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে এককভাবে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসা দলটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম জানান, প্রথম পর্যায়ের নির্বাচনের জন্য তড়িঘড়ি করে কাজ করা হয়েছে। আমরা সময়ও কম পেয়েছি। সমঝোতার ভিত্তিতে  বিদ্রোহী প্রার্থী যতটা ঠেকানোর কথা, তা ঠেকানো যায়নি। পরবর্তী পর্যায়গুলোতে যাতে বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকে দলের পক্ষ থেকে সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তৃণমূল পর্যায়ে সমন্বয় ও সমঝোতার ভিত্তিতেই আমরা সেটা করব। আশা করা যায় পরবর্তী পর্যায় থেকে নির্বাচনে আর বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না বলে জানান তিনি।

ফলে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছেন ক্ষমতাসীনদের নীতিনির্ধারকরা। তাই ৩ ফেব্রুয়ারির মন্ত্রীপরিষদের সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন দলের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। পরে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরবর্তী ধাপগুলোয় যাতে কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দলীয় নীতি নির্ধারকদের ওই সভায়ই নির্দেশনা দেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close