শেয়ার বাজার

মুনাফায় প্রকৌশল খাত

সাঈদ শিপন: শক্ত অবস্থানে যাচ্ছে দেশের প্রকৌশল খাত। এক বছরের ব্যবধানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ খাতের মুনাফা বেড়েছে ‌উল্লেখযোগ্যভাবে। প্রকৌশল খাতের কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত মুনাফা বেড়েছে ৮২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। নতুন তালিকাভুক্ত হয়েছে আরো ৩টি কোম্পানি। কোম্পানিগুলোর সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সদ্য শেষ হওয়া বছরে প্রকৌশল খাতের ২৬টি কোম্পানি মোট মুনাফা করেছে ৪৭৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। যা আগের বছর ছিল ৩৯১ কোটি ২২ লাখ টাকা। ১৩টি কোম্পানির হিসাব বর্ষ শেষ হয় ২০১৩ সালের মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে এবং বাকিগুলোর ২০১২ সালে ডিসেম্বরের মধ্যেই। ৯টি কোম্পানির সর্বশেষ বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয় ২০১৩ এর ডিসেম্বরে। বাকিগুলো এজিএম অনষ্ঠিত হয় মার্চ থেকে নভেম্বর মাসের মধ্যে।

অধিকাংশ কোম্পানি মুনাফায় থাকার বিষয়টি ইতিবাচক উল্লেখ করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটু বাংলানিউজকে বলেন, এটি একটি ভাল খবর। এতে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে। তারা ভাল মুনাফা পাবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানি মুনাফা করবে বিনিয়োগকারীদের এটাই প্রত্যাশা। তবে সব কোম্পানি সমান মুনাফা করতে পারে না। কোম্পানিগুলো যদি মুনাফার ধারা ধরে রাখতে পারে তাহলে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এটাই স্বাভাবিক।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তালিকাভূক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে মুনাফায় রয়েছে ২৩টি এবং লোকসানে রয়েছে বাংলাদেশ ল্যাম্প, বিডি অটোকার ও কে অ্যান্ড কিউ কোম্পানি। সর্বোচ্চ ৯৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা মুনাফা করে শীর্ষস্থানে রয়েছে বিএসআরএম স্টিল লিমিটেড। কোম্পানির মোট মুনাফার পরিমাণ বাড়লেও কমেছে শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস)।

আগের বছর কোম্পানির মুনাফা ছিল ৯৭ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং ইপিএস ২ দশমিক ৯৮ টাকা। সমাপ্ত বছরে প্রতিষ্ঠানটির ইপিএস হয়েছে ২ দশমিক ৯২ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের মুনাফা ৬১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা এবং ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৪ টাকা। আগের বছর ছিল ৪৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা এবং ৫ দশমিক ৯৪ টাকা।

অন্যদিকে শেয়ার প্রতি আয়ের দিক থেকে শীর্ষস্থানে রয়েছে সিঙ্গার বিডি। প্রতিষ্ঠানটির ইপিএস হয়েছে ৯ দশমিক ৯৯ টাকা। মুনাফা ৪৯ কোটি ৩ লাখ টাকা। আগের বছর প্রতিষ্ঠানটির ইপিএস ও মুনাফা ছিল ১০ দশমিক ১৮ টাকা এবং ৩৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। গোল্ডেন সনের মুনাফা ও ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং ৩ দশমিক ৭০ টাকা। যা আগের বছর ছিল ৪১ কোটি ২ লাখ টাকা ও ৩ দশমিক ৮৬ টাকা। অ্যাপোলো ইস্পাত মুনাফা করেছে ৩৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা ও ইপিএস ১ দশমিক ৪২ টাকা। আফতাব অটোমোবাইলের মুনাফা করেছে ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ও ইপিএস ৩ দশমিক ৬০ টাকা। এস আলম কোল্ড রোল স্টিল মুনাফা করেছে ৩২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ও ইপিএস ৩ দশমিক ৩১ টাকা। আগের বছরের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা এবং ইপিএস ৫৬ পয়সা বেড়েছে।

জিপিএইচ ইস্পাত ২৫ কোটি ১ লাখ, বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টিক কোম্পানি লিমিটেড ২৩ কোটি ৮৭ লাখ, নাভানা সিএসজি ২৩ কোটি ৩৬ লাখ, অ্যাটলাস বাংলাদেশ ২১ কোটি ৬৬ লাখ, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেম ৭ কোটি ৬৫ লাখ, ইস্টার্ন ক্যাবল ৪ কোটি ৮৯ লাখ, কাশেম ড্রাইসেলস ৩ কোটি ৫৬ লাখ, ন্যাশনাল পলিমার ২ কোটি ৯০ লাখ, রংপুর ফাউন্ড্রি ২ কোটি ৮৩ লাখ, দেশবন্ধু পলিমার ১ কোটি ২৫ লাখ, বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম ১ কোটি ৯৫ লাখ, ন্যাশনাল টিউব ১ কোটি ২১ লাখ, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ ১ কোটি ১৫ লাখ, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ৬৭ লাখ, মুন্নু জুট স্টাফলার ২১ লাখ এবং আজিজ পাইপ ১৮ লাখ টাকা মুনাফা করেছে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close