Featuredযুক্তরাষ্ট্র জুড়ে

ভয়াবহ তুষার ঝড়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র

নিউজ ডেস্ক: আবারো প্রচণ্ড তুষার ঝড়ে নিউ ইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ২২টি অঙ্গরাজ্য প্রায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে; জনজীবন হয়ে পড়েছে বিপর্যস্ত। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তুষার ঝড়ের কারণে টেক্সাস থেকে মেইনের সমুদ্র তীরবর্তী এই অঙ্গরাজ্যগুলোতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

এসব এলাকার পাঁচ লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুতবিহীন হয়ে পড়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বিমানের হাজার হাজার ফ্লাইট। এ সমস্ত রাজ্যগুলোর মধ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা নিরাপদে থাকলেও তাদের জীবন-যাত্রা ব্যাহত ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। দুসপ্তাহের মধ্যে ভয়াবহ তুষার ঝড়ে চতুর্থ দফা আক্রান্ত হল নিউ ইয়র্ক। আর দ্বিতীয় বারের মতো আক্রান্ত অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে জর্জিয়া, টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, লুইজিয়ানা, নর্থ ক্যারোলাইনা, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, পেনসিলভানিয়া এবং ম্যাসাচুসেটস।

ফেডারেল সূত্র, জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর ও অঙ্গরাজ্য প্রশাসনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত জর্জিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা ও লুইজিয়ানায় সাড়ে ৩ লাখ বাড়ি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। বুধবার মধ্য-আটলান্টিক থেকে সৃষ্ট এই শৈত্য ঝড়ে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু, দুই শতাধিক গাড়ি দুর্ঘটনাকবলিত ও তিন হাজার তিনশো ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৩৫ মাইল বেগে প্রবাহিত তুষার ঝড় নর্থ ক্যারোলাইনা হয়ে ভার্জিনিয়া অতিক্রম করে পেনসিলভেনিয়া এবং নিউ ইয়র্কের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলো খোলা থাকলেও অঙ্গরাজ্যের অন্যত্র, নিউজার্সি, পেনসলিভানিয়া এবং নর্থ ক্যারোলাইনার পাবলিক স্কুলগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়ো এক বিবৃতিতে বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া লোকজনকে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ নিউ ইয়র্কে সর্বোচ্চ ১২ ইঞ্চি, নিউজার্সিতে ১৫ ইঞ্চি, ফিলাডেলফিয়ায় ১৪ ইঞ্চি তুষারপাত হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ওয়াশিংটন ডিসি ও বোস্টন অন্তত ৮ ইঞ্চি তুষারে ছেয়ে গেছে। নিউ ইয়র্কের হাডসন ভ্যালি ও নিউ ইংল্যান্ডসহ আরো কয়েকটি এলাকায় ১০ থেকে ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়।

বৃহস্পতিবারও নির্ধারিত তিন হাজার ৭০০ ফ্লাইট উড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এসব বিমানের অর্ধেকেরও বেশি নিউ ইয়র্ক এবং ওয়াশিংটন ডিসির বিমানবন্দরে আটকা রয়েছে। মাত্র সাতদিন আগেই তুষার ঝড়ে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি ও পেনসিলভানিয়ার আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ চার/পাঁচদিন ধরে বিদুতবিহীন ছিল। নিউজার্সির নিম্নাঞ্চলে বরফ গলার পর বাড়িঘরেও পানি জমেছিল। প্রবীণ আমেরিকানদের অনেকেই জানিয়েছেন, তাদের জীবনকালে আবহাওয়ার এমন পাগলামি আর কখনোই দেখেননি।

পেনসিলভানিয়ার নিবাসী ৬৮ বছর বয়সী প্রবাসী বাংলাদেশি আবুল বশির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গত ২০ বছরের মধ্যে কখনোই এক মওসুমে চার/পাঁচবার তুষার ঝড় দেখিনি কিংবা এত দীর্ঘসময় শীতের তীব্রতা অনুভূত হয়নি। একই সুর ২৫ বছর ধরে ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত শাহজাহান খানের কণ্ঠে। প্রচণ্ড হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “গত দুমাস ধরেই মূলত তুষারপাত আর ঝড়ের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। এভাবে শিশু এবং প্রবীণরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।”

নিউ ইয়র্ক, ভার্জিনিয়া, ফিলাডেলফিয়া, বস্টন, সাউথ জার্সি, প্যাটারসন, নর্থ ক্যারলাইনা, ম্যারিল্যান্ড এবং আটলান্টায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে যে, তারা নিরাপদে রয়েছেন। তবে ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। গত দেড় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা ব্যবসা ২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, বেকার হয়েছে অনেক নির্মাণ শ্রমিক।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close