বানিজ্য

চট্টগ্রাম-মংলা নৌ রুটে কন্টেইনার বাহন সার্ভিস চালু

শীর্ষবিন্দু নিউজ: প্রায় দীর্ঘ ৬২ বছর পর মংলা-চট্টগ্রাম নৌরুটে পরীক্ষামূলক ভাবে চালু হয়েছে কন্টেইনারবাহী ফিডার সার্ভিস । দেশের অভ্যন্তরীণ নদী পথে এ সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। আমদানি ও রফতানি যোগ্য পণ্যবাহী কন্টেইনার পরিবহনে মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় দুইশ নটিক্যাল মাইলের এই নৌ পথে বিএসসির সাড়ে ছয়শ কন্টিনার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এমভিবাংলার শিখা জাহাজ দিয়ে এ ফিডার সার্ভিস চালু করা হয়েছে।

প্রথম দফার কন্টেইনার খালাস প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার বিকেলে নির্ধারিত সময় মংলা বন্দর ত্যাগ করেছে বিএসসির বাণিজ্যিক এমভিবাংলার শিখা জাহাজটি। অভ্যন্তরীণ রুটে ফিডার সার্ভিস চালুর এ উদ্যোগ দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। এতে একদিকে যেমন মংলা বন্দরের কর্মচাঞ্চল্যতা বাড়বে, তেমনি বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা বাড়তি রাজস্ব আয় করবে বন্দর। অপর দিকে পণ্য পরিবহনের বিড়ম্বনার কবল থেকে রক্ষা পাবে ব্যবসায়ীরা।

মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমডোর এইচ আর ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে জানান, ব্যবসায়ীদের কন্টেইনার পরিবহন খরচ সহনীয় মাত্রায় কমিয়ে আনতে ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাসহ সড়কে মাইলের পর মাইল দীর্ঘ যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে পণ্য পরিবহন সম্ভব না হওয়ায়, মংলা বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত সমুদ্রপথে সরকার এই ফিডার সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত নেয়।

দীর্ঘ ২ বছর প্রচেষ্টার পর নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এই ফিডার সার্ভিস চালু হয়েছে। এতে একদিকে শিপিং করপোরেশন তথা সরকারের আয় বাড়বে, অন্যদিকে আমদানি ও রফতানি করা পণ্য পরিবহন সহজতর হবে, দূর হবে পণ্য পরিবহনের প্রতিবন্ধকতা। পণ্য পরিবহনের ভাড়া কমে একই সঙ্গে লাভবান হবে আমদানি-রফতানির সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

আবার অনেক সময় সরাসরি মংলা বন্দর থেকে কন্টেইনার নিয়ে জাহাজ সিঙ্গাপুর চলে যায়। মংলা বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সুবিধা থাকলেও দেশের দুই বন্দরের মাঝে অতীতে কোনোদিন কন্টেইনার পরিবাহিত হয়নি। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার কন্টেইনার পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানি হলেও এসব পণ্য ঢাকা হয়ে সড়ক পথে খুলনা অঞ্চলে পৌঁছায়। একইভাবে রফতানি পণ্যও সড়ক পথে চট্টগ্রামে এনে এখান থেকে কন্টেইনার জাহাজে ট্রান্সশিপমেন্ট পোর্টে যাত্রা করে। অথচ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ নৌ পথে মংলা বন্দরে কন্টেইনার পরিবহন করা হলে খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সড়ক পথে চাপও বহুলাংশে কমে যাবে। এ রুট চালু হলে হিমায়িত মৎস্য রফতানি খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে বছরে ১৫ লাখ টিইইউএস-এর বেশি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হচ্ছে। আর মংলা বন্দরে বছরে গড়ে প্রায় এক লাখ কন্টেনার হ্যান্ডলিং হয়। সিংগাপুর, মালয়েশিয়া এবং কলম্বো থেকে কন্টেনারবাহী জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেনার নামিয়ে রেখে অনেক সময় মংলা বন্দরের নামে আসা কন্টেইনার ওখানে নিয়ে যায়।  দেশের দু’টি সমুদ্র বন্দরের মাঝে একটি ফিডার সার্ভিস চালুর দাবি ব্যবসায়ীদের অনেকদিনের। বিএসসির ব্যবস্থাপনায় এ সার্ভিসের ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলের রফতানিকারকরা হিমায়িত মাছ, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে কাঁচাপাট ও পাটজাত পণ্য রফতানিতে এ সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের নির্বাহী পরিচাল সাইদ উল্লাহ গণমাধঃমকে জানান, এমভি বাংলার শিখা’ জাহাজটি ১৯৯১ সালে বিএসসির বহরে যুক্ত হয়। ৬৮১ টিইইউএস ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এ জাহাজটি প্রতি শনিবার চট্টগ্রাম থেকে যাত্রা করবে। নদী ও সাগর পথ মিলে মংলা পৌঁছাতে জাহাজটির প্রায় ২০ ঘণ্টা সময় লাগবে।

রোববার জাহাজটি মংলায় পৌঁছে কন্টেইনার খালাস করে সোমবার চট্টগ্রামের কন্টেইনার বোঝাই করে মঙ্গলবার আবার মংলা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করবে। এভাবে প্রতিমাসে জাহাজটি চার ভয়েসে কন্টেইনার আনা নেওয়া করবে। প্রতিটি পণ্যভর্তি কন্টেইনারের ভাড়া ১২০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন এ সার্ভিস বিদেশি মেইন লাইন অপারেটর এবং আমদানি রফতানিকারকদের অবহিত করতে গত কয়েকদিন ধরে বিএসসির কর্মকর্তারা বিভিন্ন শিপিং কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। একটি মাত্র ফিডার জাহাজ দিয়ে পরিচালিত এ সার্ভিস বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলের আমদানি রফতানি বাণিজ্যকে সহজতর করে তুলবে। এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের পণ্য আনা নেওয়ার খরচ অনেক কমে যাবে। দেশের সাধারণ মানুষও এর সুফল পাবে।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close