স্থানীয়

জেএমবির সদস্যদের যেভাবে ছিনিয়ে নেওয়া হলো

শীর্ষবিন্দু নিউজ: ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ময়মনসিংহের ত্রিশালে আজ রোববার সকালে প্রকাশ্যে একেবারে ফিল্মি কায়দার নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) তিন আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।গুলি ও বোমা মেরে প্রিজনভ্যানে থাকা পুলিশকে হতাহত করে দুর্ধর্ষ এই ঘটনা ঘটানো হয়।এতে আহত হয়েছেন পুলিশ সদস্য আতিক ও এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্য।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় আমীরাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য শাহজাহান বলেন, সকাল সোয়া ১০টার দিকে আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে ত্রিশালের দিকে যাচ্ছিলাম। এ সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় বিকট শব্দ শুনতে পাই। তখন তাকিয়ে দেখি একটি পুলিশের গাড়িকে সামনে ও পেছন দিয়ে ঘিরে ফেলেছে দুটি গাড়ি। গাড়ি থেকে নেমে ১০-১৫ জন কালো মুখোশধারী লোক পিস্তল দিয়ে গুলি করছে।

আমি ঘটনাটি সঙ্গে সঙ্গে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ তালুকদারকে জানাই। তিনি (ওসি) আমাকে ঘটনাস্থলে যেতে বলেন। আমি কাছে যাওয়ার আগেই পুলিশকে গুলি করে তিনজন আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় মুখোশধারীরা। সামনের গাড়িটি সাদা রং ও পেছনের গাড়ি কালো রঙের। আসামিদের নিয়ে গাড়ি দুটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তারা উত্তরের দিকে চলে যায়। আহত পুলিশদের আমি একটি গাড়িতে তুলে দিই। আসামিরা দুটি বোমা ও অসংখ্য গুলি করে। পুলিশ সদস্যদের দুটি বন্দুক আমি রাস্তা থেকে কুড়িয়ে নিয়ে আসি।

পুলিশের গাড়িটির চালক সবুজ মিয়া বলেন, প্রথমে আমার গাড়িটির সামনে একটি ট্রাক আটকে দেয়। ঠিক সে সময় একটি সাদা মাইক্রো সামনে এসে গুলি শুরু করে। আমি গাড়িতে নুয়ে যাই এবং তারা গুলি করে ও বোমা ফাটিয়ে আসামিদের নিয়ে যায়। চোখের পলকে তারা এ ঘটনা ঘটিয়ে চলে যায়।

বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল সাইনবোর্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুলিশের দুটি বন্দুক পড়ে আছে। একটি বন্দুক ভাঙা। টাঁকশালের টাকা নেওয়ার একটি খালি বাক্স পড়ে আছে। প্রিজনভ্যানটির সামনের কাচে দুটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। পেছনের দরজায় পুলিশের রক্তমাখা টুপি। আসামি ছিনতাইয়ের সময় যে তালাটি ভাঙা হয়, সেটি পড়ে আছে। পুলিশ, র্যাব ও ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মইনুল হক। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরে বিস্তারিত বলা যাবে। তবে তিনি জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে সখীপুর থানার পুলিশ মাইক্রোবাসসহ আটক করেছে।

ত্রিশালে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে বোমা মেরে জেএমবির তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় হামলাকারীদের গাড়ির চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। টাঙ্গাইলের সখীপুর থানার ওসি মোখলেছুর রহমান জানান, ময়মনসিংহ থেকে আসামি ছিনিয়ে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে দ্রুতগতিতে ঢাকার দিকে যাওয়ার পথে সখীপুরের পৌর এলাকার কাছে প্রশিকা নামক স্থানে তাদের গাড়ি একটি সিএনজিকে ধাক্কা দেয়।

এ সময় গাড়িতে থাকা পলাতক আসামিরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। সেখান থেকে গাড়ি চালক মো. জাকারিয়াকে (২৮) একটি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও ছয়টি ককটেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। জঙ্গিদের ব্যবহৃত গাড়িটিও আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পলাতক জঙ্গিদের ধরতে টাঙ্গাইল, সখীপুর, বাসাইল ও মির্জাপুর থানায় পুলিশি অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

পুলিশের প্রিজন ভ্যানে বোমা মেরে এক পুলিশকে হত্যা করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির তিন সদস্যকে ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। জেএমবির এই সদস্যরা হলেন- মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন সালেহীন ওরফে সানি (৩৮) ও রাকিবুল হাসান ওরফে হাফিজ মাহামুদ (৩৫) এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত মিজান ওরফে জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজান (৩৫)। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে জানিয়ে বলে পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার জানিয়েছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close