অন্য পত্রিকা থেকে

ভারতের মন জয়ে কৌশলী বিএনপি

মান্নান মারুফ: ভারতের সঙ্গে সৃষ্ট ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে বিএনপি। পাশাপাশি দেশটির আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের দিকেও নজর রাখছে নিজ দেশের জাতীয় নির্বাচন থেকে সরে থাকা অন্যতম এই বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন।

দলীয় সূত্র বলছে, এরই মধ্যে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশে দলটির বেশ ক’জন সিনিয়র নেতা ভারতীয় দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। এদের কেউ কেউ এরই মধ্যে নীরবে ভারত সফরও করে এসেছেন। প্রস্তুতি নিচ্ছেন আরো সফরের।

বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় সূত্র অবশ্য বলছে, কেবল ভারত নয়, বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম প্রায় সব দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক উন্নয়নের কৌশল নিয়েছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে খালেদা জিয়া তার দলের সিনিয়র নেতাদের দেশটিতে সফরে পাঠাচ্ছেন। পরিবেশ প্রস্তুত হলে তিনি নিজেই বের হবেন ভারত সফরে।

আর ভারত সফরের আগে বা পরে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও চীনসহ আরো কিছু দেশ সফর করবেন খালেদা জিয়া। তবে বৈদেশিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভারতেই সবে চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিএনপি প্রধান। তাই ভারত সফরের বিষয়টিকেই তিনি রাখছেন তার বিদেশে মিশনের মূল কাজ হিসেবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, এবার বেশ আঁটঘাট বেঁধেই ভারত সফরে যেতে চান খালেদা জিয়া। এ সফর থেকে দেশ ও দলের জন্য বলার মতো ফল নিয়েই ফিরতে চান তিনি। তাই প্রকাশ্য রাজনীতিতে ভারত বিরোধিতার তুবড়ি ছোটালেও এবার তিনি নিয়েছেন ভারতের মন গলানোর কৌশল।

সূত্র বলছে, এ কারণেই খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলন, বক্তব্য আর বিবৃতিতে ভারত বিরোধিতার বিষয়টি গৌণ হয়ে পড়েছে। এমনকি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির জন্য নিজের আস্থাভাজন অনেককেই দায়ী করছেন বিএনপি প্রধান।

তিনি মনে করছেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকার বিরোধী টানা হরতাল চলাচালে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। সে সময় তার সম্মানে হরতাল শিথিল বা স্থগিত না করাটা ভূল হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দারুণ মনক্ষুন্ন হয়েছিলেন প্রণব মুখার্জি স্বয়ং। এর ফলশ্রুতিতে সেবার খালেদা জিয়াকে সাক্ষাত দেননি প্রণব মুখার্জি। ওই ঘটনার পর ভারতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বর্তমানে খালেদা জিয়া ওই দুর্বল সম্পর্ক ফের সবল করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। এজন্য প্রয়োজনে নিজের দলের লোকদেরই শাস্তি দেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।

প্রণবের সফরকালে যে তিনজন সিনিয়র নেতা তার সঙ্গে খালেদা জিয়ার বিরোধিতা করেছিলেন তাদের ব্যাপারে কাছের লোকদের কাছে এখন বেশ ক্ষোভই ছাড়ছেন খালেদা জিয়া। এমনকি ওই তিন নেতাকে তিনি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে বাদ দেওয়ার কথা ভাবছেন বলেও আভাস দিচ্ছেন দলীয় সূত্র।

মোদ্দা কথা, যে কোন উপায়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে মরিয়া হয়ে উঠেছেন খালেদা জিয়া। এজন্য ক্ষমতাসীন ছাড়াও দেশটির বিরোধী দলের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন তার দূতরা। আসন্ন নির্বাচনে কারা দিল্লির ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় তা এখনো স্পষ্ট না হওয়ায় সম্ভাব্য সব দলের সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার কৌশলে এগুচ্ছে তার দল।

তাই ভারত সফরে গেলে কংগ্রেস তো বটেই, বিজেপির মতো মৌলবাদী দলের নেতাদের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা আছে খালেদা জিয়ার। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও ভাইস-চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীসহ ভারতের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ আছে এমন ক’জন নেতা এখন খালেদা জিয়ার অভিপ্রায় ও নির্দেশনা বাস্তবায়তনে আদাজল খেয়ে লেগেছেন।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close