ইউরোপ জুড়ে

ইউক্রেনে ভোটে গঠিত হবে ঐক্যেমতের সরকার

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানোকোভিচ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তবর্তী সরকার গঠনে বিলম্ব করছে ইউক্রেনের সরকার। মঙ্গলবারের মধ্যে সরকার গঠনের কথা থাকলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তা গড়িয়েছে। সহিংস আন্দোলনে রুশপন্থী সরকারের পতনের পর বৃহস্পতিবার ভোটের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন হতে পারে।

অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্টের স্পিকার ওলেকসান্দার তুরচিনোভ বলেছেন, বৃহস্পতিবার জাতীয় ঐক্যের সরকার নিয়ে ভোট হবে। পার্লামেন্টের সদস্যদের তুরচিনোভ বলেছেন, বৃহস্পতিবারের অধিবেশনে ভোট হতে পারে। এর আগে গত সপ্তাহে তিনি পার্লামেন্ট বলেছিলেন, মঙ্গলবারের মধ্যে নতুন মন্ত্রীসভা ও নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করতে হবে।

এদিকে এরইমধ্যে ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে অনলাইনে নির্বাচনী তফসিল পোস্ট করেছে ইউক্রেনের কেন্দ্রী নির্বাচন কমিশন। এ পোস্টে বলা হয়েছে, প্রার্থীদের ৪ এপ্রিলের মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে। আর ভোট হবে ২৫ মে।

গত সাপ্তাহিক ছুটির দিন ইয়ানুকোভিচ রাজধানী কিয়েভ ছাড়ার পর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।  গত কয়েকমাস ধরে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের নিহতের ঘটনায় তার ভূমিকার জন্য তার বিরুদ্দে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের নিখোঁজ হওয়া ও কয়েক মাসব্যাপী সহিংসতার পর দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন রাজনীতিকরা। তবে অস্থায়ী প্রেসিডেন্টে আশঙ্কা করছেন, দেশ বিভক্তির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন রুশপন্থীরা। রুশপন্থী ইউক্রেনীয়রা প্রেসিডেন্ট ইয়ানুকোভিচের উৎখাত ও ইউরোপপন্থী অন্তর্বর্তী সরকারের বিরোধিতা করছে।

পার্লামেন্টে তুরচিনোভ বলেছেন, রুশ ‍নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকাগুলো বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি আইন-শৃঙ্খলা সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবেন। ক্ষমতা থেকে ইয়ানুকোভিচকে সরানোয় ক্ষুব্ধ রাশিয়া। তবে ইউক্রেনের নতুন সরকার গঠনে রাশিয়া কোনো হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই ল্যাভরভ।

এদিকে ভিক্টর ইয়ানুকোভিচকে যুক্তরাষ্ট্র আর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট মনে করে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তা জে কার্নি সোমবার বলেন, ইয়ানুকোভিচ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতা হলেও নিজস্ব কর্মকাণ্ডের কারণে বৈধতা হারিয়েছেন। আর এখন তিনি সক্রিয়ভাবে দেশের নেতৃত্বে নেই।

ইউক্রেনের সরকার বিরোধী আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন ছিল। গত নভেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে সরে আসার পর ইউক্রেনে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, রাশিয়াকে সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকার এ চুক্তি করেনি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close