রাজনীতি

বন্দুক ছেড়ে আলোচনায় বসুন: সরকারের প্রতি থালেদা

শীর্ষবিন্দু নিউজ: বন্দুক ছেড়ে আলোচনায় বসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ১৯ দলীয় জোট নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বলেছেন, ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি। তাই বন্দুক ছেড়ে আলোচনায় বসুন। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করুন। যদি বন্দুক দিয়ে মানুষ মেরে ক্ষমতায় থাকতে চান তাহলে পরিণতি হবে খুব খারাপ। সোমবার রাতে ঠাকুরগাঁও জেলা জাতীয় পার্টির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

যোগদান অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর,  ঠাকুরগাঁও জেলার জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন, সদর থানা সভাপতি মোশাররফ হোসেন, মো. শামসুল ইসলাম, মতিউর রহমান চৌধুরী, লুৎফর রহমান, আবদুল মান্নান, মো. শাহজাহান, মো. মোস্তফা, রফিকুল ইসলামসহ যোগদানকারী ৬৮ জন নেতাকর্মী ও ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন করে সরকার ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোন নির্বাচন হয় নাকি? জনগণ সবই বুঝে। তাই ৫ই জানুয়ারি পুলিশ-র‌্যাব-সেনাবাহিনী নামিয়েও মানুষকে ভোট কেন্দ্রে নিতে পারেনি। সে নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে কোন প্রার্থীই পাওয়া যায়নি। ৫৭টি কেন্দ্রে কোন ভোট পড়েনি। তাহলে সেটা ভোট হলো কোত্থেকে? সরকার যতই সংবিধানের দোহাই দিক না কেন তারা অবৈধ ও অসাংবিধানিক।

খালেদা জিয়া বলেন, এখন অনেক নতুন ভোটার হয়েছে। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। তারা বঞ্চিত হয়েছে। তাই মানুষ একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দ্রুত সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন চায়। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এখন উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে। সে নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিচ্ছে না। তাই তারা পুলিশ দিয়ে জোর করে কেন্দ্র দখল করে ভোট নিচ্ছে। যতগুলো উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে তার সবগুলোই কেন্দ্র দখল, ব্যালট পেপার ছিনতাই ও ভোট জালিয়াতি করে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ৮০-১০০টির বেশি উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা জয়ী হতো না।

খালেদা জিয়া বলেন, দেশের মানুষকে রক্ষা করতে হবে। দেশের গণতন্ত্র রক্ষা করতে হবে। দেশের মানুষের জন্য উন্নয়ন করতে হবে। বর্তমান সরকার মুখে বড় বড় কথা বলে। কিন্তু তারা কৃষকের জন্য কোন উদ্যোগ নেয়নি। কৃষি উপকরণের দাম বেড়েছে কিন্তু ফসলের দাম পাচ্ছে না কৃষক। দেশের উত্তরাঞ্চলে এ কৃষি ছাড়া আর কিছু নেই। সেখানে মিল-কারখানা নেই। তাই কৃষকের উন্নয়নে উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের সময় ও আমাদের সময়ে উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন হয়েছে। এরশাদ ও বর্তমান সরকার কিছুই করেনি।

খালেদা জিয়া বলেন, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে কাদের স্বার্থে? আসলে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র দেয়া হয়েছে সরকার সরকারের আত্মীয় স্বজনদের। সে কেন্দ্রে ভর্তুকি দেয়ার জন্যই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এতে দেশের সাধারণ জনগণ ভোগান্তির মধ্যে পড়বে। এ সময় তিনি সোনালী ব্যাংকে সুড়ঙ্গ কেটে লুটের ঘটনায় সরকারের সমালোচনা করেন। যোগদানকারী নেতাদের উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা বিএনপিতে যোগ দেয়ায়  ওই অঞ্চলে বিএনপি আরও শক্তিশালী হবে। যোগদানকারী নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।

ঠাকুরগাঁও জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরীর নেতৃত্বে ৬৮ জন উপজেলা, থানা ও ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী খালেদা জিয়ার হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। এসময় নম্র চৌধুরী বলেন, ১৯ বছর ৫ মাস জাতীয় পার্টির রাজনীতি করার পর আজ বিএনপিতে যোগ দিচ্ছি। কারণ যে দলের রাজনীতি করেছি সে দলের প্রধান সকালে এক কথা বললে বিকালে আরেক কথা বলেন। দলের কোন কমসূচী নেই। কর্মীদের কাছে কোন জবাবদিহি করতে পারি না। অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও জেলা জাতীয় পার্টি বিলুপ্ত ঘোষণা হয়।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close