জাতীয়

সাবের-মতিউর-মাহফুজ পেলেন অব্যাহতি: আবেদ-মিজানুরকে দিতে হবে জরিমানা

tuশীর্ষবিন্দু নিউজ: হাইকোর্ট থেকে পদত্যাগকারী বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়জীর এলএলবি সনদ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশে আদালত অবমাননার মামলায় ভোরের কাগজের সাবেক সম্পাদক আবেদ খান ও প্রতিবেদক সমরেশ বৈদ্যর আপিল নাকচ করে জরিমানার দেয়ার আদেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে ভোরের কাগজের প্রকাশক সাবের হোসেন চৌধুরী, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ওই সময়ের প্রকাশক মাহফুজ আনাম, প্রতিবেদক একরামুল হক বুলবুল ও মাসুদ মিলাদের আপিল মঞ্জুর করে তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

আদালত অবমাননার অভিযোগে দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খানকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। আজ দুপুরে এ রায় ঘোষণা করে বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের বেঞ্চ। পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান ও যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা মামলায় এ রায় ঘোষণা করা হয়। অভিযোগ থেকে সম্পাদক মতিউর রহমানকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এরআগে আদালতে দাখিল করা হলফনামা সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে মঙ্গলবার সকালে হাইকোর্টে হাজির হন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। প্রথম আলোর পক্ষে শুনানি করেন ড. শাহদীন মালিক। রুলের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। আদালত রায়ে বলেছে, মিজানুর রহমান খান গত চার দিন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছিলেন তা সাজা হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া আদালতের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আদেশে।

ভোরের প্রতিবেদক সমরেশ বৈদ্যকে হাই কোর্টের দেয়া দুইমাসের কারাদণ্ড ও একহাজার টাকা জরিমানার দণ্ড কমিয়ে একহাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে সাত দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে আপিল বিভাগ। আবেদ খানের ক্ষেত্রেও একই জরিমানার আদেশ হয়েছে। বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ আজ এ আদেশ দেয়। এলএলবি সনদে জালিয়াতি ও ১৮০টি মামলার রায় না দেয়ার বিষয়ে তদন্ত শুরুর পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেছিলেন ফয়সল মাহমুদ ফয়জী। ২০০৪ সালের ২৩শে আগস্ট হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান ফয়জী। এরপর তার এলএলবি সনদ নিয়ে ওই বছরের ৩০শে অক্টোবর ভোরের কাগজ এবং প্রথম আলোয় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। দুই প্রতিবেদনেই ফয়জীর মার্কসিটে এলএলবি বিষয়ের নম্বর ঘষামাজা করার অভিযোগ আনা হয়।

গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি মিজানুর রহমান খানের লেখা মিনিটে একটি জামিন কিভাবে? ও ১লা মার্চ ছয় থেকে আট সপ্তাহের স্বাধীনতা শীর্ষক নিবদ্ধ প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়। পরের দিন ২রা মার্চ হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ লেখার জন্য মিজানুর রহমান খানের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নেয়া হবে না এ বিষয়ে রুল জারি করেন। এ রুলের ওপর গত ৬ই মার্চ থেকে শুনানি শুরু হয়। ওই শুনানির এক পর্যায়ে আইনজীবী রুকন উদ্দিন মাহমুদের দেয়া বক্তব্যের জের ধরে বিবৃতি দিলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির নেতাদের তলব করা হয় হাইকোর্টের ওই বেঞ্চে। গতকাল তারা নির্দেশনা মেনে হাজিরা দিলে আদালত তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close