জাতীয়

আত্মঘাতী চুক্তি করতে মরিয়া সরকার

শীর্ষবিন্দু নিউজ: বঙ্গোপসাগরের গ্যাস সম্পদ দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার প্রধান অবলম্বন। অথচ একের পর এক অসম চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎকে নিরাপত্তাহীন করে তোলা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন, তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তাই এসব দুর্নীতিমূলক চুক্তির বিরুদ্ধে বিশেষজ্ঞসহ সকল পর্যায়ের মানুষকে সোচ্চার হবার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় কমিটি। বৃহস্পতিবার এক যুক্ত বিবৃতিতে তারা এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে নেতাদ্বয় বলেন,  সম্প্রতি ভারতের ওএনজিসির সাথে বঙ্গোপসাগরের ২টি গ্যাস ব্লক চুক্তি স্বাক্ষরের পর ১২ মার্চ অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরের দু’টি কোম্পানির সাথে আরও একটি ব্লক নিয়ে চুক্তি সই করে সরকার। পাশাপাশি আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কনকো-ফিলিপসের সাথে আরও গ্যাস ব্লক চুক্তি করারও ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এসব চুক্তির ফলে নিজ দেশের গ্যাস সম্পদ বাংলাদেশের জন্য কোন কাজে লাগানো যাবে না বরং অর্থনীতিতে বোঝা হয়ে তা অভিশাপে পরিণত হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তারা বলেন, বিদেশি কোম্পানির অধিকতর মুনাফার স্বার্থে গ্যাসের ক্রয়মূল্য আগের চুক্তির তুলনায় শতকরা ৬০-৭০ ভাগ বাড়ানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত, প্রতিবছর গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ব্যয় পরিশোধ পর্বে গভীর সমুদ্রে বিদেশি কোম্পানির অংশীদারিত্ব শতকরা ৫৫ ভাগ থেকে বৃদ্ধি করে শতকরা ৭০ ভাগ করা হয়েছে। চতুর্থত, ইচ্ছামত দামে তৃতীয় পক্ষের কাছে গ্যাস বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তারা আরও বলেন, পুঁজির অভাবের কথা বলে এরকম চুক্তি করা হচ্ছে, অথচ সর্বশেষ চুক্তি অনুযায়ী ৫ বছরে মাত্র ২৩৫ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিতে অস্ট্রেলীয় সান্তোস এবং সিঙ্গাপুরের ক্রিস এনার্জি বঙ্গোপসাগরের ১১ নম্বর ব্লকের ১ হাজার বর্গকিলোমিটারের বেশি অঞ্চলের সম্পদের ওপর কর্তৃত্ব লাভ করে। তারা বলেন, এ ধরনের চুক্তি কমিশনভোগী ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী শক্তি ছাড়া কারও পক্ষে সম্ভব নয়।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close