অর্থনীতি

সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা মূলধন উদ্বৃত্ত ব্যাংক খাতে

সাইদ আরমান: ব্যাংক খাতে এখন সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার মূলধন উদ্বৃত্ত। অথচ গত সেপ্টেম্বর মাসেও ৯ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতি ছিলো এ খাতে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে ব্যাংক খাতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ হালনাগাদ তথ্য থেকে দেখা গেছে, ডিসেম্বর মাসে ব্যাংক খাতে ৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা বেশি মূলধন তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, বেসরকারি ৩৯টি ব্যাংকে মূলধন উদ্বৃত্ত দাড়িয়েছে ৬ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। তবে একটি মাত্র বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে আইসিবি ইসলামি ব্যাংক বড় অংকের মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। যার ঘাটতির পরিমাণ ১ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা।

সূত্র বলছে, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালি ব্যাংকে ৮৫৫ কোটি টাকা মূলধন উদ্বৃত্ত রয়েছে। এর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকের উদ্বৃত্ত ৯২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, জনতা ব্যাংকের ৪০৪ কোটি টাকা, রূপালি ব্যাংকে ১০৭ কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংকে উদ্বৃত্ত রয়েছে ২৪৯ কোটি টাকা। যদিও গত সেপ্টেম্বর মাসে এই চার ব্যাংকের বড় ঘাটতির কারণেই ব্যাংক খাতে বড় মূলধন ঘাটতি তৈরি হয়। রাষ্ট্র মালিকানার সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালি ও বেসিক ব্যাংকে প্রায় ৯ হাজার ২৪২ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতি তৈরি হয়। যার মধ্যে সরকার ইতোমধ্যে প্রথম কিস্তিতে ৪ হাজার ১শ কোটি টাকা মূলধন বাজেট থেকে সরবরাহ করা হয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, বিদেশি খাতের ৯টি ব্যাংকে মূলধন উদ্বৃত্ত দাড়িয়েছে ২ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা। একমাত্র ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান বাদে সব ব্যাংকই মূলধন উদ্বৃত্ত নিয়ে আছে। ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের মূলধন ঘাটতি ৩৩১ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ড় অংকের মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত তিন ব্যাংক। ব্যাংকগুলো হলো, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, ডিসেম্বর ভিত্তিতে এসে ৬ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে সরকারি মালিকানার এই ব্যাংকগুলো।

তবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের কোন মূলধন ঘাটতি নেই। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, গত সেপ্টম্বর মাসে যেখানে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি ছিলো মূলধনে। সেখানে তিন মাসের ব্যবধানে ঘাটতি পেরিয়ে উদ্বৃত্ত তৈরি হয়েছে দুটি কারনে। এক, সরকারি কোষাগার থেকে অর্থের যোগান। দ্বিতীয়ত, ঋণ নিয়মিত করণের শর্ত নমনীয় করা। তবে এটা দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংক খাতের জন্য কতটা ভালো তা দেখার বিষয়।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close