অন্য পত্রিকা থেকে

টি-টোয়েন্টির টিকিট বিক্রি হচ্ছে কালোবাজারে

সাব্বির আহমদ: টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলাকে পুঁজি করে প্রতিদিন লাখ টাকা আয়ের টার্গেট নিয়েই মাঠে নেমেছে টিকিট কালোবাজারি চক্র। আর এ কালোবাজারির নায়ক খোদ ক্রিকেট বোর্ড কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কোচ। শুধু সিলেট নয় ঢাকা ভেন্যুর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকিটও সিলেটে কালোবাজারিতে বিক্রি করছেন তারা। আবার তাদের একটি সিন্ডিকেট ফেইসবুক ও ইন্টারনেটে পেইজ খুলে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে টিকিট। সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম, ভুক্তভোগী ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানিয়েছে।

জানা গেছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের টিকেট কালোবাজারে চলছে অনেকটা ওপেন সিক্রেট ব্যাপার হিসেবে। কালোবাজির মূল হোতা হিসেবে নাম এসেছে খোদ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, বিভাগীয় কোচ এ কে এম মাহমুদ ইমন এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সিলেট ভেন্যুর মিডিয়া ম্যানেজার ফরহাদ কোরেশী ,সুম্মত নূরী  চৌধুরী জুয়েল এবং ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম নাচনের। দিনে এক হাজার টিকিট কিক্রি করছেন তারা।

৩শ থেকে ৫শ টাকায় সেই টিকিট বিক্রি হচ্ছে। পাওয়া যাচ্ছে স্টেডিয়ামের সামনেই। আবার গ্রীণ গ্যালারি ও কোন কোন টিকিট হাজার টাকা দামেও বিক্রি করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, কর্মকর্তারা অতিরিক্ত টিকিট কিনে নিয়ে এখন কালোবাজারিতে ছেড়েছেন। সেই টিকিট অতিক্তি দামেই কিনে নিতে দেখা গেছে ক্রিকেটপ্রেমীদের। তবে তারা কেউই এখন কথা বলার মত সময় নেই। ব্যস্ত স্টেডিয়াম পাড়া নিয়ে। শফিউল আলম নাদেলের বক্তব্য নিতে চাইলে তার মোবাইল ফোন বার বার ব্যস্ত দেখা গেছে। একাধিকবার ফোন করা হলেও দিনি ফোন ধরেননি।

তাদের ঘনিষ্ঠ সূত্র বাংলানিউজকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, কোঠা সুবিধা নিয়ে হাজার খানেকের বেশি টিকিট তারা কিনেছেন। এখন সুযোগ বুঝে সেই টিকিট তারা কালোবাজারিতে ছেড়ে দিয়েছেন।
একজন ক্রিকেটপ্রেমী হিসেবে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র  মিজানুর রহমান বাংলানিউজকে হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, ৫০ টাকার টিকিট কেন ৩০০ ও ৫০০ টাকা দামে কিনতে হবে। সাধারণ মানুষ লাইন ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে টিকিট পায় না আর কেউ কেউ ঘরে বসে টিকিট পেয়ে যায়।

তিনি বলেন, সিলেটে প্রথমবারের মত খেলা হচ্ছে। দর্শক যতবেশি হবে এখানে আইসিসির টুর্নামেন্ট তত বেশি হবে। কিন্ত খেলাধুলার মানুষ পরিচয়ে রাজনীতিবিদদের হাতে টিকিট চলে যাওয়ায় আমাদেরকে স্টেডিয়াম ফাঁকা দেখতে হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, টিকিট কালোবাজারিতে চলে যাওয়ায় সত্যিকারের দর্শক হারাচ্ছে সিলেট বিভাগীয় স্টেডিয়াম। যেটি বাংলাদেশের একমাত্র গ্রীণ গ্যালারি এবং বিশ্বের সুন্দরতম ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

ফয়সল খাঁন নামের এক ক্রিকেটপ্রেমী অভিযোগ করে বলেন, সিলেটের ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক ক্যাডারের অনুপ্রবেশে কালোবাজারিতে ছড়িয়ে পড়েছে টিকিট। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, স্টেডিয়ামে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অনেকেই এরকম এক বাণিজ্য করছেন। তারা তাদের পাসকার্ড দেখিয়ে অন্য লোকজনদের ভেতরে নিয়ে যাচ্ছেন। এর মাধ্যমে নাশকতার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) রহমত উল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, টিকিট কালোবাজারিদের তাদের চোখে পড়েনি। পুলিশ সতর্ক রয়েছে। এছাড়া গ্যালারীতে দর্শক ভরে উঠছে না বলে জানান তিনি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close