অর্থনীতি

সংসদে কোরাম সঙ্কটে অপচয় শ’ কোটি টাকা: টিআইবি

শীর্ষবিন্দু নিউজ: নবম জাতীয় সংসদে কোরাম সঙ্কটে কারণে যে সময় নষ্ট হয়েছে তার অর্থমূল্য ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে টিআইবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কোরাম সঙ্কটে দশম সংসদেও প্রায় প্রতিদিন দেরিতে অধিবেশন শুরু হওয়ার মধ্যে মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে নবম জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের ওপর পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি।

তাদের হিসাবে, ওই সংসদে প্রধান বিরোধী দলের সদস্যদের অধিবেশন বর্জনের অর্থমূল্য ছিল প্রায় ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। পার্লামেন্ট ওয়াচ শিরোনামের মূল প্রতিবেদনের সারাংশ উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষণা ও পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি এবং ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোরশেদা আক্তার।

তারা জানান, নবম সংসদের জানুয়ারি ২০০৯ থেকে নভেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত মোট ১৯টি অধিবেশনের মোট ৪১৮ দিন কার্যদিবস ছিল। এ সময়ে কোরাম সঙ্কটের কারণে গড়ে ৩৬ মিনিট হিসেবে ২২২ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট অপচয় হয়, যার অর্থমূল্য প্রায় ১০৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। কোরাম সঙ্কটের কারণে প্রতি কার্যদিবসে গড়ে যে সময় অপচয় তার অর্থমূল্য প্রায় ২৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। চলতি সংসদে সংসদ সদস্যদের সময়মতো উপস্থিত হতে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কয়েকবার তাগিদ দিতে দেখা যায়।

টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, নবম সংসদে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ৩৪২ কার্যদিবস বা প্রায় ৮২ শতাংশ সময় সংসদ বর্জন করে। এ সময় বিরোধী দলীয় নেতা মাত্র ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ সময় সংসদে উপস্থিতি থেকে সর্র্বনিম্ন উপস্থিতির নতুন রেকর্ড গড়েন। বিরোধী দলের সংসদ বর্জনের অর্থমূল্য ছিল প্রায় ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এ পটভূমিতে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দলীয় বা জোটগতভাবে সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

সংসদ বর্জনের সংস্কৃতি রোধে সদস্যদের অনুপস্থিতির সর্বোচ্চ সীমা ৩০ কার্যদিবস করার সুপারিশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে কোনো সংসদ সদস্য টানা ৯০ কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে তার সংসদ সদস্যপদ খারিজ হয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অনুপস্থিতিই হিসাব করা হয়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংসদ বর্জনের এই সংস্কৃতি সংসদীয় গণতান্ত্রিক চর্চায় বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে অদ্বিতীয়, যা একদিকে যেমন বিব্রতকর, অন্যদিকে তেমনি জনগণের ভোট ও রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাহীনতার পরিচায়ক। তথ্য প্রকাশ অনুষ্ঠানে টিআইবির ট্রাস্টি ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান, উপ-নির্বাহী পরিচালক সুমাইয়া খায়ের এবং গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক রফিকুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনে সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করা, সংসদের কার্যকারিতা এবং সংসদকে জবাবদিহির কেন্দ্রবিন্দু করতে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, সদস্যদের উপস্থিতি, তাদের গণতান্ত্রিক আচরণ ও অংগ্রহণ, সংসদের কার্যদিবস ও কার্যসময়, তথ্য প্রকাশ, সংসদীয় কার্যক্রমে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং সংসদীয় কমিটির কার্যকরতা বাড়াতে হবে। টিআইবির সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- আইন করে দলীয় বা জোটগতভাবে সংসদ বর্জন নিষিদ্ধ করা, এক্ষেত্রে দলীয়ভাবে সদস্যপদ বাতিলের বিধান রাখা।

সংসদ অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকার সর্বোচ্চ সময় কমিয়ে ৩০ কার্যদিবস করার পাশাপাশি অনুমোদিত ছুটি ছাড়া একটানা সাতদিনের বেশি অনুপস্থিত থাকা নিষিদ্ধ করা। এবং সংসদ সদস্য আচরণবিধি বিল ২০১০ চূড়ান্ত অনুমোদন করে আইনে রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছে টিআইবি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জমান জানান, পার্লামেন্ট ওয়াচ প্রতিবেদন তৈরি ও তথ্য সংগ্রহের জন্য তাদের কোনো প্রতিনিধি সংসদে কখনো উপস্থিত ছিলেন না। তবে সংসদ টিভি ও বেতারে সংসদ কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করায় তা পর‌্যবেক্ষণ করেই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। আমাদের ২৫ জন কর্মী এ প্রতিবেদনের জন্য কাজ করে। প্রতিদিন সংসদ কার্যক্রম মিনিট বাই মিনিট তারা পর্যবেক্ষণ করেছে। এসব তথ্য সরাসরি সম্প্রচার থেকেই নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ও কিছু বিষয়ে সহযোগিতা করেছে, বলেন ইফতেখারুজ্জামান।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

আরও দেখুন...

Close
ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close