Featuredজাতীয়

আজ বিশ্ব পানি দিবস

শীর্ষবিন্দু নিউজ: আজ বিশ্ব পানি দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও গুরুত্বের সঙ্গে উদযাপন হচ্ছে পানি দিবস। এবারে প্রতিপাদ্য বিষয় পানিই শক্তি। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পানি দিবস পালন উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারিভাবে বিভিন্ন আলোচনা সভা-সেমিনার-লিফলেট বিতরণ, রেডিও-টিভিতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এবারও ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু এখনো সবার জন্য সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার।

বাংলাদেশের মত নদীমাতৃক দেশের কাছে অধিক গুরুত্ব বহন করে দিবসটি। বিশ্ব পানি দিবসের সূচনা ১৯৯২ সালে। ওই বছর ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনেরিওতে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক অধিবেশনে একটি বিশেষ দিনকে স্বাদু পানি দিবস হিসেবে পালন করার কথা সুপারিশ করা হয়।

পরের বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে ১৯৯৩ সালের ২২ মার্চকে প্রথম আন্তর্জাতিক পানি দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর স্বাদু পানির ওপর বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে দিনটি বিশ্ব পানিদিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে।

এর আগে পানি ও জীবন শিরোনামে (১৯৯৫-২০০৫) একটি পানি দশক পালিত হয়। দিন দিন জলবায়ু পরিবর্তন ও দ্রুত নগরায়নের ফলে স্বাদু পানির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের মত একটি দেশের প্রেক্ষাপটে, যেখানে সিংহভাগ পানির উৎসই হচ্ছে প্রতিবেশী দেশ।

বাংলাদেশের মোট পানিসম্পদের শতকরা মাত্র ৮ দশমিক ৫৬ ভাগ দেশের অভ্যন্তর থেকে। আর ৯১ দশমিক ৪৪ ভাগ আসে দেশের বাইরে থেকে। ঋতুভিত্তিক বিশ্লেষণ করলে এই বিপুল পানিসম্পদের শতকরা ৮০ ভাগই আসে বর্ষা মৌসুমে (জুন থেকে অক্টোবর)। আর বাকি মাত্র ২০ ভাগ আসে শুষ্ক মৌসুমে। পানির চাহিদা যখন সর্বোচ্চ তখনই এর যোগান সর্বনিম্ন।

২০০৮ সালের হিসেব মতে, বাংলাদেশের এই বিপুল পানিসম্পদের শতকরা মাত্র ২ দশমিক ৯৩ ভাগ আমরা ব্যবহার করি। এই ব্যবহৃত পানিসম্পদের সিংহভাগই (শতকরা ৮৮ ভাগ) কৃষিক্ষেত্রে, শতকরা ১০ ভাগ গৃহস্থালীতে। আর বাকি থাকে শতকরা ২ ভাগ।

দেখা যাচ্ছে, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে পানির ব্যবহারের শতকরা ৮৮ ভাগই হচ্ছে কৃষি। যেখানে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এ হার শতকরা ৭০ ভাগ। অর্থাৎ সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশে কৃষিক্ষেত্রে পানি ব্যবহারে হার শতকরা ১৮ ভাগ বেশি।

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে হিসেবে নিলে জাতিসংঘের তথ্য মতে, আগামী ২০৫০ সালে খাদ্যের চাহিদা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শতকরা ৭০ ভাগ বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ হারকে ধরে নিলেও আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ কৃষিক্ষেত্রে পানির ব্যবহার আরো বৃদ্ধি পাবে।

হিসেব মতে, প্রায় ৮৬ শতাংশ দেশ কোনো না কোনো আন্তর্জাতিক নদী অববাহিকার অংশ। বিশ্বে প্রায় ২৭৬টি আন্তঃসীমান্ত নদী অববাহিকা আছে। এর প্রায় ২৩ শতাংশ আফ্রিকায়, ২২ শতাংশ এশিয়ায়, ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ ইউরোপে, ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তর আমেরিকায়। বাকি ১৪ শতাংশ দক্ষিণ আমেরিকায়।

১৯৯৭ সালে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক নদীর ক্ষেত্রে জাতিসংঘের কনভেনশন কার্যকর হওয়ার জন্য মাত্র ৩৫টি দেশের অনুমোদন প্রয়োজন। যা কিনা বিশ্বের সব দেশের মাত্র শতকরা ১৩ ভাগ। অথচ এ পর্যন্ত মাত্র ১৬টি দেশ ( প্রায় ৬ শতাংশ) তাতে স্বাক্ষর করেছে। সবচেয়ে অবাক ব্যাপার হচ্ছে, দেশের প্রায় ৯১ ভাগ পানি আসে আন্তর্জাতিক নদীর মাধ্যমে। সেই বাংলাদেশ এখনো ওই কনভেনশনে স্বাক্ষর করেনি।

প্রতি বছর বিশ্ব পানি দিবস পালন করে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশ। জাতিসংঘের মাধ্যমে সভা সেমিনার হয়।  পোস্টারিং হয়। গণমাধ্যমে আলোচনা হয়। লেখালেখি হয়। কিন্তু পরদিন সকালে উঠে আমরা কি মনে রাখি আগের দিনের কথাগুলো?

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close