এশিয়া জুড়ে

নিখোজ বিমানের নতুন ধ্বংসাবশেষ পেয়েছে চীন

শীর্ষবিন্দু নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে নতুন ভাসমান বস্তুর দেখা মিলেছে চীনের স্যাটেলাইটে যা দুই সপ্তাহ আগে নিখোঁজ মালয়েশিয়ান বিমানের ধ্বংসাবশেষ বলে ধারণা করছে দেশটির বিশেষজ্ঞরা। শনিবার চীন ও মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ১৮ মার্চ স্যাটেলাইটে ২২ মিটার লম্বা এবং ১৩ মিটার প্রস্থের বস্তুটি দেখা যায়।

গত ৮ মার্চ কুয়ালা লামপুর থেকে ২৩৯ আরোহীসহ বেইজিং যাওয়ার পথে মাঝ আকাশে নিখোঁজ হয় মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান। টানা দুই সপ্তাহজুড়ে ভারত মহাসাগর ও এশিয়ার বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে তল্লাশি অভিযান চললেও ঘটনার কোনো কূল কিনারা হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার স্যাটেলাইটে ভারত মহাসাগরের দক্ষিণ অংশে ভাসমান কিছু বস্তু দেখতে পেয়ে তাকে হারিয়ে যাওয়া বিমানের অংশ মনে করা হলেও উদ্ধারকারীরা এর কাছে যাওয়ার আগেই তা অদৃশ্য হয়ে যায়।

পরে দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ওয়ারেন ট্রাস বলেন, সাগরের দুর্গম এলাকায় কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহে দেখা মেলা ভাসমান বস্তু যাকে বিমানের সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ বলেই মনে করা হচ্ছিল তা ডুবে গিয়ে থাকতে পারে। ওই বস্তুটি কোনো জাহাজ থেকে ছিটকে পড়া কনটেইনারও হতে পারে বলে তার ধারণা।

তবে শনিবার চীনের সাইন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ফর ন্যাশনাল ডিফেন্স বিভাগের (এসএএসটিআইএনডি) ওয়েবসাইটে দক্ষিণ ভারত মহাসগারে নতুন করে দেখা মেলা আরেকটি বস্তুর তথ্য প্রকাশ করা হয়। এর আগে ১৬ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার স্যাটেলাইটে ভেসে উঠা সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ এর স্থানটি থেকে এটি অন্তত ১২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে বলে ওই ওয়েবসাইটে বলা হয়।

মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী শনিবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সম্ভাব্য ওই স্থানের উদ্দেশ্যে চীনের উদ্ধারকারী জাহাজ ইতোমধ্যে যাত্রা করেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ২৩৯ আরোহীসহ নিখোঁজ মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এমএইচ ৩৭০ ফ্লাইটটির সন্ধানে ভারত ও থাইল্যান্ডের মধ্যবর্তী সাগরের আন্দামান দ্বীপ এলাকাতেও অনুসন্ধান চলছে। বর্তমানে বাংলাদেশসহ ২৬টি দেশ বিমানটির সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে। জাহাজ ও বিমানের সঙ্গে একাজে যোগ দিয়েছে বিভিন্ন দেশের কৃত্রিম উপগ্রহও। মালাক্কা প্রণালী, আন্দামান দ্বীপ, মালদ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় বিমানের ‘সর্বশেষ গতিপথের’ খবরে ওইসব এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে বহুজাতিক অনুসন্ধানী দল।

তদন্তকারীদের ধারণা, ৮ মার্চ রাতে নিখোঁজ বিমানটি কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিংয়ের পথে যাত্রা করার পর সচেতনভাবে বিমানটিকে তার গন্তব্য পথ থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা ছিনতাই, নাশকতা ও বিমান চালকের সম্ভাব্য আত্মাহুতির বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালালেও বিমানের কারিগরি সমস্যার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close