রাজনীতি

সম্মান ও চামড়া বাঁচাতে চাইলে পদত্যাগ করুন

শীর্ষবিন্দু নিউজ: সম্মান ও চামড়া’ বাঁচাতে চাইলে অবিলম্বে জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করতে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একাংশের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে এ আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।

গত বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে রওশন এরশাদ জানান, ভবিষ্যতে তিনি আর নির্বাচন করবেন না। চাপে পড়ে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। বিরোধীদলীয় নেতার ওই বক্তব্য উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, চাপ তো আমাদের ওপরও ছিল। কিন্তু আমরা জনগণের কথা চিন্তা করেছি। তার মানে আপনারা এমন কোনো অপকর্ম করেছেন, যে কারণে চাপ উপেক্ষা করা আপনাদের কাছে সম্ভব ছিল না।

রওশন এরশাদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের চাপের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সুতরাং সম্মান ও চামড়া বাঁচাতে চাইলে অবিলম্বে সংসদ থেকে পদত্যাগ করুন। পার্লামেন্টকে অবৈধ উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, অবৈধ পার্লামেন্টের পেছনে এত টাকা খরচ করে চালানোর প্রয়োজন নেই। অবিলম্বে  সরকারকে পদত্যাগ করে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বেশি দেরি করলে হয়তো দেশের আরও বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। আন্দোলন আরও তীব্র হবে। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ও উপজেলা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনিবলেন, দুটি নির্বাচনেই প্রমাণিত হয়েছে, আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

বিশ্বরেকর্ড গড়ার লক্ষ্যে ২৬ মার্চ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত লাখো কণ্ঠে সোনার বাংলা অনুষ্ঠান সম্পর্কে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, শত কোটি টাকা খরচ করে জাতীয় সংগীত করে কোনো লাভ হবে না। এ অনুষ্ঠানে টাকা দিয়ে মানুষ আনতে হয়েছে। আমাদের কর্মসূচিতে টাকা দিয়ে মানুষ আনতে হয় না। ওই অনুষ্ঠানে দুই হাজার শ্রমিক আহত হয়েছে। বহু মানুষ নির্যাতিত হয়েছে। খালেদা জিয়া বলেন, উপজেলা নির্বাচনের পরে আবার আন্দোলনে নামব আমরা। আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। এবারের আন্দোলন সফল হবে। গণধিকৃত সরকার বিদায় নেবে।

সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে দু-একজন ছাড়া সবাই দুর্নীতিবাজ উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, দুর্নীতিবাজ উপদেষ্টাদের উপদেশ নেওয়া বন্ধ করুন। এমনিতে সরকার ডুবে গেছে। এসব উপদেষ্টাকে না সরালে নাক পর্যন্ত ডুবে যাবে। বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, দেশে আইনের শাসন সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে। বিচার বিভাগ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এর চাক্ষুষ প্রমাণ আমি নিজে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিন ঘণ্টা আদালতে থাকলাম। কিন্তু আমাকে কিছুই জিজ্ঞাসা করা হলো না। বলে দেওয়া হলো, অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এই অভিযোগ গঠন অবৈধ। আমরা এটা মানি না।

Tags

এ সম্পর্কিত অন্যান্য সংবাদ

ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট করেছে সাইন সফট লিমিটেড
Close